জুগিয়াপালপাড়া প্লাস্টিকের পেড বোতল কারখানার দুস্থ মহিলা শ্রমিকের স্বাস্থ্য ঝুকি চরমে

আজমল হোসেন মিলন,বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরতলীর জুগিয়া পালপাড়ায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অব্যবহিত প্লাষ্টিকের পেড বোতল কারখানা। আর এসব কারখানায় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করে চলেছে অসংখ্য মহিলা শ্রমিক ও শিশু। নামমাত্র কমিশনের বিনিময়ে জেলার বিভন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরীব দুস্থ মহিলা শ্রমিকরা জীবনের ঝুকি নিয়ে দিনরাত কাজ করে চলেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে উঠা এসব প্লাস্টিক কারখানায়। তবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনরকম মাথা ব্যাথা নেই মালিক পক্ষের। তারা শুধু শ্রমিক শোষনের মাধ্যমে মুনাফার চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত।

কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের পেড বোতল বাছাই থেকে কাটিং পর্যন্ত যেসমস্ত শ্রমিক কাজ করে তাদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা শ্রমিক ও শিশু। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবহিত প্লাস্টিকের পেড বোতলের গ্রেডিং বা বাছাই প্রক্রিয়ার কাজ হয় অত্যন্ত নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে কাদাযুক্ত খোলামেলা পরিবেশে। শুধুমাত্র দুইবেলা দুইমুটো ডালভাত যোগাড়ের জন্য জীবনের পরোয়ানা না করে দিনভর কাজ করছে মহিলা শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে কোন কোন শ্রমিক তার দুধের শিশুটিকে নিয়ে কাজে এসেছে। মা পেড বোতল বাছাই করছে আর শিশুটি ময়লা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নোংরা বোতল নিয়ে স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে খেলা করছে। আসল কথা এসব মহিলা শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করছে কারখানা মালিকরা । এসব শ্রমিকের স্বাস্থ্যজ্ঞান না থাকায় তারা জানতেই পারছেনা তার এবং তার সন্তানের জন্য এমন পরিবেশ কতটা বিপদজনক হতে পারে।
অন্যদিকে প্লাস্টিক ব্যবসায়ী মালিকরা ভালভাবে জানে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখানে নেই । যে পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে তা তাদের জন্য অত্যন্ত বিপদজন্ক।

জুগিয়া পালপাড়ায় অবস্থিত টি.সি.এম ইন্টারন্যাশনাল নামক অব্যবহিত প্লাষ্টিক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশেই পড়ে আছে প্লাস্টিকের পেড বোতলের বড় বড় বস্তা। এই কারখানা ছাড়াও পুরো এলাকা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিকের পেড বোতল। ভিতরে গিয়ে দেখা যায় ২৫/৩০ জন মহিলা ও শিশু শ্রমিক অত্যন্ত নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করছে। মহিলা শ্রমিকদেও পাশেই দুধের শিশুটি নোংরা পরিবেশে হামাগুড়ি দিয়ে খেলা করছে। পুরো কারখানা জুড়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোন রকম সুযোগ সুবিধা নেই। এমনকি কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শ্রমিক আইন মানা হচ্ছে না। কারখানার শ্রমিকদের বাথরুম যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

তবে কারখানার মালিক/ম্যানেজার জাকির হোসেন নিজের থাকার জায়গাটি বেশ সিমসাম করে বসে থাকেন। তিনি তার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা যা করার দরকার সবই মেনে চলেন। তার কাছে শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা জানালে তিনি বলেন, পুরাতন প্লাস্টিকের বোতল হকারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করি। এসব বোতল শ্রমিকদের মাধ্যমে বাছাই করে গ্রেডিং করি। আমাদের এই কাজ কারখানার পরিবেশ এরকমই। শ্রমিকদের মজুরী বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, প্রতি বস্তা বোতল বাছাইয়ের জন্য আমি ৩২ টাকা দিয়ে থাকি। যে শ্রমিক যত বেশি কাজ করবে সে তত বেশি টাকা পাবে।
বস্তাগুলোর পরিমান ৩২ টাকা হলেও এক একটি বস্তা একটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মত উচু।

এসমস্থ কারখানার মালিকরা যে ভাবে মহিলা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যনিয়ে খেলা করছে তাতে কোন সন্দোহের অবকাশ নেই যে অতিদু্রুত এসমস্ত মহিলা শ্রমিকদের জীবনে নেমে আসবে কাল এক অধ্যায়। তখন চিকিৎসা করার সামর্থ না থাকায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে তাদের জীবন।
মানুষ মানুষের জন্য, মানবতা কল্যাণের জন্য, এ কথা যদি আমাদের মনে একবারও নাড়া দেয় তাহলে আসুন আমরা আমদের অবস্থান থেকে তাদেরকে রক্ষা করি।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দুষ্টি আকর্ষণ করছি যেন এসমস্ত কারখানাতে গিয়ে কারখানার পরিবেশ তথা শ্রমিকদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে কারখানা মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয় ।

Advertisment ad adsense adlogger