নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ভয়ংকর কিশোর অপরাধী কে.এম রাকিন ইয়াসির ওরফে রাকিনের (১৫) উত্থান ঘটেছে। এতে জনমনে বিশেষ করে বিদ্যালয় পড়–য়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। রাকিন তার সন্ত্রাসী কান্ডের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলাব্যাপী চরম কুখ্যাতি অর্জন করেছে। ঠান্ডা মাথায় ছুরিকাঘাত করে রক্তারক্তি করার ক্ষেত্রে সে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। উপজেলার বিদ্যালয় পড়–য়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানে উঠতি সন্ত্রাসী রাকিনের নাম। প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে ফৌজদারী অপরাধ সংঘটন করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত শতশত মানুষের চোখ এড়িয়ে পলায়ন করার ক্ষেত্রে সে অভিজ্ঞ সন্ত্রাসীর ন্যায় দক্ষতার নিদর্শন রেখেছে। দেশ ব্যাপী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও সন্ত্রাসী রাকিন পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ৩ মাসেরও অধিক সময় ধরে আত্মগোপনে থাকার ক্ষেত্রে হার মানিয়েছে পেশাদার খুনী সন্ত্রাসীদেরকে। কে.এম রাকিন ইয়াছির ওরফে রাকিন (১৪), পিতা- কে.এম রুহুল আজম ফারুকী এই মুহুর্তে ভেড়ামারা উপজেলার সব থেকে আলোচিত সমালোচিত এক উঠতি সন্ত্রাসী। তার পিতা একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক। রাকিনের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, সে একজন মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্র পরবর্তীতে মাদ্রাসা ছেড়ে ভেড়ামারা মডেল পাইলট হাই স্কুলে ভর্তি হয় সে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জববার জানান, বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই একের পর এক অপরাধ করতে থাকে সে। অপরাধের শাস্তি স্বরূপ বিদ্যালয় কর্তপক্ষ তাকে শ্রেণীর ক্লাস করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে। মার্চের ২১ তারিখে বেলা ১.০০টার দিকে উক্ত বিদ্যালয়ের বকুল তলায় বিদ্যালয়ের ক্যাবিনেট নির্বাচন অথবা পেনড্রাইভ নিয়ে গন্ডগোল অথবা উদ্দেশ্যমূলক জঙ্গীবাদের অংশ হিসেবে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণী পড়–য়া শিক্ষার্থী মেহরাব হোসেন শান্তকে উপর্যুপরী বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে বিদ্যালয়ের দেড় সহস্রাধিক ছাত্র ও শিক্ষকÑকর্মচারী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে দিয়ে বীর দর্পে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে সে আত্মগোপনে রয়েছে। এব্যাপারে ভেড়ামারা থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী সে। কথিত রয়েছে, ভয়ংকর প্রকৃতির এই কিশোর সন্ত্রাসী পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই যে কোনভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিযে যেতে সক্ষম। আর এ কারনে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে সফল হতে পারেনি পুলিশ। অপরাধ জগতের সাথে সখ্যতা গড়ে বিদ্যালয়ে সন্ত্রাস ও রক্তপাত করার মাধ্যমে ভেড়ামারায় কিশোর অপরাধীদের মধ্যে রাকিন এক মডেল টেরর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর অভিমত এই মুহুর্তে সন্ত্রাসী দলের নেতা বনে যাওয়া এই উঠতি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরা না গেলে অদুর ভবিষ্যতে সে আরো বড় বড় অঘটনের জন্ম দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারে। এলাকাবাসী এই কিশোর অপরাধীর সন্ত্রাসী হিসেবে উত্থান মোটেও ভাল চোখে দেখছে না। তারা অবিলম্বে এঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে রাকিনের মত ফ্রন্ট লাইনার সন্ত্রাসীদের নিরস্তকরনের দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরকে নিরুৎসাহিত ও সচেতন করার প্রয়োজনে ও ভেড়ামারায় বড় বড় অপরাধের সাথে কিশোরদের সম্পৃক্ততা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।