মাহাতাব উদ্দিন লালন: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টাইম স্কেল ও বেতনভাতা নিয়ে বড় ধরনের দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ২১৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৪ টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এই দূর্নীতির সাথে জড়িত আছে । হিসাবের নয় ছয়ের মাধ্যমে শুধু পুকুরের মাছ চুরি নয় পুকুরের পানি পর্যন্ত চুরি করেছে এই চক্রটি । তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে যা জানা গেছে তাতে রীতিমত বিশ্বাসের অযোগ্য মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে শেষ পর্যন্ত মিলেছে বিস্তর এই দূর্নীতির চিত্র ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর চাকুরী জীবনে এই ধননের ঘটনা আমি দেখেনি । যেখানে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ৫-৬ বছরে ৩ টি টাইমস্কেল সহ ২৫ থেকে ৩০ বছর শিক্ষাদানকারী শিক্ষকের সমমান বেতন ভাতা ও যোগ্যতায় আসতে পারেন । তিনি বলেন আমার মনে হয় এখানে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঐসকল শিক্ষকদের এই সুযোগ সুবিধা গুলো প্রদান করা হয়েছে ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালের আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন ভাতায় তেমন কোন পার্থক্য ছিল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে দেশের সকল প্রাথমি বিদ্যালয়, এনজিও চালিত বিদ্যালয় গুলোকে জাতীয়করনের জন্য ঘোষনা প্রদান করেন । এই ঘোষনার পর থেকে দেশের সকল বেসরকারী শিক্ষকগন জাতীয় বেতন স্কেলসহ সকল সুযোগ সুবিধার আওতায় আসা শুরু করেন । পর্যায়ক্রমে এই সকল শিক্ষকদের বেতন,ভাতা ও টাইমস্কেল প্রদান শুরু হয় ।
দৌলতপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটা হল তারা তাদের সার্ভিস বুক পরিবর্তন করে নিজেদের ইচ্ছামত চাকুরীর বয়স বসিয়ে অতিরিক্ত অর্থ লুটপাট করেছে । এই বড় ধরনের দূর্নীতির সাথে কারা জড়িত জানতে আগামীকাল পড়–ন ।