দেশের প্রয়োজনেই ক্ষমতায় থাকতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের

স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনের পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশ যখন জাতির পিতার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট আওয়ামীলীগ শব্দটি চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তারপর পেরিয়ে যাই অনেকটা সময় ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বেঁচে যাওয়া দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে দেশরতœ শেখ হাসিনা দেশের মানুষের প্রয়োজনে মাতৃভুমির টানে দেশে ফিরে এসে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর নব দিগন্তের সুচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে যে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় তার অন্যতম শরীক হয় আওয়ামী লীগ, যুগপৎ আন্দোলনে স্বৈরশাসকের পতন হয়, এবং ১৯৯০ সালের একটি সাধারণ নির্বাচনে দীর্ঘ সময় পর আওয়ামীলীগ অংশ নিলেও পরাজিত হয়ে বিরোধী দলে পরিণত হয়।

দীর্ঘ একুশ বছর রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকার পর আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশের মানুষের সেবাই নিজেকে নিয়োজিত করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসাবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন দেশরতœ শেখ হাসিনা।১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল: ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, খাদ্যশস্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুর (বঙ্গবন্ধু সেতু) নির্মাণ সম্পন্ন করা।

তারপর ২০০১ সালের নাটকীয় নির্বাচনে পরাজয়বরন করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সেই স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ক্ষমতায় আবার আসে বিএনপি জামায়াত জোট থমকে দাড়ায় সব উন্নয়ন। বাতিল হয়ে যায় সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে তারই উদাহরণস্বরুপ ২০০৪ সালের ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলার মত ভয়াবহ হামলা।

২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে নিরুঙ্কুশ বিজয়ী হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্যে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করেন।তাছাড়াও ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গড়তে এবং বিশ্ব মানচিত্রে একটি সুন্দর,অর্থনৈতিক শক্তিশালী ও সম্পদ সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জননেত্রী গনতন্ত্রের মানস কন্যা দেশ রতœ শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সরকার গঠন করে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করেছে। এমন এক অবস্থায় আওয়ামী লীগ, সরকার গঠন করেছিল, যখন সমগ্র বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং চরম খাদ্যাভাব চলছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদী কার্যক্রম এবং দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমননীতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে সমাজের সকল স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। মানুষের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস সঞ্চারিত হয়। নব উদ্যমে দেশ গড়ার কাজে মানুষকে সম্পৃক্ত করেছে আওয়ামী সরকার। সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়। দীর্ঘ মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে।

এরপর০৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তৃতীয়বারের মত শপথ নেন শেখ হাসিনা। উন্নয়নের গনযোয়ার চলছে আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিকল্প নাই।বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সফলতা দেশ বিরোধী স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ভালো লাগার কথা নয় তাই তো তারা ঐক্যের নামে আবারো দেশকে আবারো অস্থিতিশীল করা চেষ্টা করছে। ২০১৮ সালের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আবার যেন বাংলার মানুষ সেই আগুন সন্ত্রাসের স্বীকার না হয় যেমনটা হয়েছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে রুখে দিয়ে আর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে আমরা তাই বলতে পারি দেশের স্বার্থেই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে।দেশের মানুষ আবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশরতœ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবেই এবং এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
লেখক: রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছাত্রলীগ নেতা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Advertisment ad adsense adlogger