ভেড়ামারাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিষ্ট্রশনে গ্রাহকদেরকে হয়রানী! প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনক

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া ॥ কুষ্টিয়া ভেড়ামারার বিভিন্ন স্থানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রামীন ফোনের সিম রেজিষ্ট্রেশনে গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। অনেক স্থানে সিম নিবন্ধনের জন্য আদায় করা হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা করে। বিশেষ করে ভেড়ামারা শহরের কয়েকটি দোকানে চরম ভাবে গ্রহক হয়রানী করা হচ্ছে। গ্রামীন ফোনের এ সব ডিলাররা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে।
মঙ্গলবার শহরের মোবাইল দোকানে “এখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রামীন ফোনের সিম রেজিষ্ট্রেশন করা হয়” সাইনবোর্ড দেখে গ্রাহকরা যান তাদের সিম নিবন্ধন করতে। সেখানে গেলে বলা হয় ফরম ফুরিয়ে গেছে। এর আগেও এই দোকান থেকে বলা হয়েছিল ফরম নেই। কর্কশ সুরে জিজ্ঞাসা করা হয় কিসের সিম নিবন্ধন করবেন। গ্রামীন বলার সাথে সাথে জবাব আসে কাষ্টমার কেয়ারে যান।
এখানে হয় না। তাহলে কেন সাইন বোর্ড ঝুলানো ? গ্রাহকদের এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দোকান মালিক কেনা বেচায় মন দেন। রুদ্র নামের এক মোবাইল গ্রাহক বলেন, দোকানটিতে “এখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রামীন ফোনের সিম রেজিষ্ট্রেশন করা হয়” সাইনবোর্ড ঝুলছে দেখে সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে আসি। কিন্তু তারা আমাদের কাজটি করে দেন নি। এ ভাবে শহরের দোকানগুলোতে চরম ভাবে গ্রাহক হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামীন ফোনের কাষ্টমার কেয়ারে ভীড় এড়াতে মানুষ “এখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রামীন ফোনের সিম রেজিষ্ট্রেশন করা হয়” সাইনবোর্ড দেখে দোকানগুলোতে ভীড় করলেও সেখান থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। দোকানদাররা বলছেন, তাদের রেজিষ্ট্রেশন করতে কোন টাকা দিচ্ছে না। এ সময়ে তারা দোকানের কেনা বেচার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম নিবন্ধনে রিটেইলাররা অর্থ নিলে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে লাইসেন্স বাতিল করার হুঁশিয়ারি দেয়ার পরও টাকার বিনিময়ে ভেড়ামারার বিভিন্ন জায়গায় চলছে টাকা নিয়ে সিম নিবন্ধন।
দেখা যায়, কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যে কোনো সিম/রিম নিবন্ধন ও পুনঃ নিবন্ধনে গ্রাহকের কাছ থেকে ১০/২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। রেলবাজারে সিম নিবন্ধন করতে আসা রুবেল অভিযোগ করে বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন ও পুনঃ নিবন্ধনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ না নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরও এখানে গ্রামীণ সিম প্রতি ১০ টাকা করে নিচ্ছেন রিটেইলাররা। এছাড়া একটা সিম নিবন্ধনের পর নিবন্ধনের গ্রাহক কপির জন্য একাধিক বার রিটেইলারদের কাছে ঘুরতে হচ্ছে। এ বিষয়ে রিটেলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, রবি, সিটিসেল ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমিশন দেয়।
বাংলালিংক দেয় ২ দশমিক ৮ শতাংশ, টেলিটক দেয় ৩ শতাংশ লাভ। প্রতিটি সিম নিবন্ধন করাতে ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগে, যা করাতে গিয়ে তাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়। ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।
১৬ দাগ গ্রামের মিলন, রকি, হালিম, জুয়েলসহ অনেকের অভিযোগ সিম রেজিষ্ট্রেশনের জন্য জোর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে রেজিষ্ট্রেশন করা হচ্ছে না। দোকান মালিকরা সাংবাদিককে বলেন, কিছু টাকা না নিলে দোকান চলবে কিভাবে ? এ ব্যাপারে গ্রামীনের ডিষ্ট্রিবিউশন ম্যানেজারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি !
গুনতে হচ্ছে অর্থ আর শুনতে হচ্ছে অশালীন কথাবার্তা, খুবই আশ্চর্য, প্রশাসন সম্পূর্ন চুপ। এই অরাজকতা দেশের আর কোথাও মিলুক আর নাই মিলুক মিলবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাতে। ভেড়ামারাবাসী এই অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও মিলছে সুরাগ, বেকার প্রশাসন নির্বাক শ্রোতা হয়ে মিলেছে এই মিলন মেলায়। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের তীর্ব্র হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এই সমস্যার আশু ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মগেরমুল্লুকে অযৌক্তিক চাদাবাজি বন্ধ করার জন্য যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Advertisment ad adsense adlogger