নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের দিঘলকান্দী গ্রামের আলোচিত সবুজ হত্যা মামলার রায় অবশেষে প্রকাশ করা হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার । আলোচিত এই মামলার বাদী ও আসামী পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৩/০২/২০১৬ইং কুষ্টিয়া জর্জ কোর্টের মহামান্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ রেজা মো: আলমগীর এর আদালত আগামী ০৩/০৩/২০১৬ইং তারিখ বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। এই মামলায় বাদী পক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পিপি(পাবলিক প্রসিকিউটর) বাবু অনুপ কুমার নন্দী ও বাদীর ব্যক্তিগত আইনজীবি খন্দকার সিরাজুল ইসলাম । পিপি(পাবলিক প্রসিকিউটর) বাবু অনুপ কুমার নন্দী, আসামীদের দেওয়া স্বীকারউক্তি মূলক জবানবন্দী ও মামলার সাক্ষ্য প্রমানে আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের কৃত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়েছে দাবি করে আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন।
আলোচিত এই মামলায় আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সুধীর কুমার শর্মা ও শ্রী সুব্রত চক্রবতী । মামলার বিচার চলাকালে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা বিধান মোতাবেক স্বীকারউক্তি মূলক জবানবন্দী গ্রহনকারী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মনজুরুল ঈমাম, তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার এসআই জাহিরুল ইসলাম সহ চার্জশিটভুক্ত ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিদের স্বীকারউক্তি মূলক জবান বন্দীতে দন্ডবিধির ৩৬৪/৩০২ ও ৩৭৯/৩৪ ধারায় মামলা নথিভূক্ত করেন বিজ্ঞ আদালত ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ইং সালের ৯ই সেপ্টেমবার আসামীদ্বয় ১। রুবেল, পিতা আমির উদ্দীন ২। সুজন,পিতা মুরা উভয়ের ঠিকানা দিঘলকান্দী, পূর্ব সুত্রতার জের ধরে হত্যা ও মোটর সাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দ্যেশে নিহত সবুজের বাড়ী থেকে ১২ কি:মি: দূরে মিরপুর বাজারে পলিথিন কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ।
পরবর্তীতে মিরপুর রেল লাইনের পাশে সবুজের লাশ পাওয়া যায় । পরে আসামীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা বিধান মোতাবেক আদালতে স্বীকারউক্তি মূলক জবান বন্দী প্রদান করে এবং সবুজ কে জবাই করে হত্যার কথা স্বীকার করে । পুলিশ আসামীদের কাছে থেকে ছিনতাই করা মোটর সাইকেল ও মোবাইল উদ্বার করে মামলার প্রমান হিসেবে আদালতে জমা দেন । এই ঘটনায় নিহতের চাচা মনিরুল ইসলাম (মন্টু মাষ্টার) বাদী হয়ে ১০/০৯/২০১১ইং তারিখে দৌলতপুর থানায় রুবেল ও সুজন সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরন ও হত্যা মামলা দায়ের করেন । পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত করে রুবেল ও সুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে । এই বিষয়ে কথা বললে মামলার বাদী নিহতের চাচা মনিরুল ইসলাম (মন্টু মাষ্টার) ও নিহতের বাবা চেন্টু মোল্লা জানান আসামীদ্বয় পরিকল্পিতভাবে সবুজকে হত্যা করেছে । আমরা মহামান্য আদালতের কাছে এই ঘাতকদের সর্বোচ্ছ শাস্তি কামনা করছি ।