মালিকানাধীন জায়গায় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় ইদগাহের জমির মালিকানা দাবি করে কুষ্টিয়ার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেছে উত্তরাধীকারী সুত্রে জমির মালিকানা দাবীকারী ৪৫জন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ইদগাহ কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা জেলা প্রশাসক, কেন্দ্রীয় ইদগাহ কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মোয়াজ্জেম, সহ-সভাপতি শামীম আরজু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহসিন, কোষাধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান হাফিজ ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার(ভূমি),কুষ্টিয়া কে। আদালতে দায়ের কৃত মামলা নং দেং ১০৫/২০১৮। আদালতে দায়েরকৃত বাদীদের বর্ননামতে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার সি এস খতিয়ান নং- ১৮১ এস এ খতিয়ান নং- ৩০৮ আর এস খতিয়ান নং- ৪৯৪, সাবেক দাগ নং- ১৩৯৫ আর এস দাগ নং ৫৫১৫ সর্বমোট ১.৪৯ একর জমি তমিজ বিশ্বাসের অধীন পাঁচু শেখের নামে “শষ্যের অর্ধেক খাজনা” হিসেবে রেকর্ডভুক্ত ছিলো। মামলায় প্রদত্ত বর্ননামতে জানা যায়, নালিশী দাগের উত্তরে বেনালিশী দাগের জমিতে সিরাজুল হক মুসলিম হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পদচারনায় নালিশী দাগের জমি অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন বাদীদের পূর্বাধিকারীর তত্বাবধানে পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। নালিশী জমি পতিত অবস্থায় থাকায় সিরাজুল হক মুসলিম হাইস্কুলের ছাত্ররা সেখানে মাঝে মধ্যে খেলাদুলা করতো। এমন অবস্থায় স্থানীয়দের ইদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত কোন ইদগাহ না থাকায় স্থানীয় মরহুম মীর আতিয়ার রহমান এ্যাডভোকেট, মরহুম মেসবাহুর রহমান, মরহুম আঃ ফঃ মঃ নাজমুস সালেহীন এবং বেলঘরিয়া গ্রামের শামসুদ্দিন শেখের উপস্থিততে ১৯৭০ সালের জানুয়ারী মাসে মামলার ৪০ নং বাদী রফি উদ্দিন মৃধা ও শফি উদ্দিন মৃধার কোর্টপাড়াস্থ গিয়ে এবং মামলার ৪১ নং বাদী কাশেম আলী বিশ্বাস ওরফে গফুরকে মৌখিকভাবে উক্ত জায়গায় এলাকার মানুষের ইদের নামাজ আদায়ে সমস্যার কথা উল্লেখ করে সাময়িক সময়ের জন্য ইদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দিতে অনুরোধ করেন। এসময় তারা কথা দেন পাশে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের মাঠে ইদের নামাজ আদায় ও স্থায়ীভাবে ইদগাহ নির্মানের কথাবার্তা চলছে সেটা হলে তারা সেখানে চলে যাবেন। যেহেতু জায়গাটি পতিত অবস্থায় পড়ে ছিলো তাই বাদীপক্ষরা কোন কিছু না ভেবে এলাকার মানুষের অসুবিধার কথা চিন্তা করে সাময়িক সময়ের জন্য সেখানে ইদের জামাত আদায়ের ব্যপারে সম্মতি দেন। তবে বাদী পক্ষের দাবি ঐ জায়গা কোন অবস্থাতে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয় নি। মৌখিকভাবে শুধুমাত্র এলাকার মানুষের সাময়িক অসুবিধার কথা চিন্তা করে সেখানে ইদের জামাত আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৪৮ বছরে ইদগাহের এই জায়গা নিয়ে ইদগাহ কমিটি বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির মালিকানা বিষয়ে কেউ কখনও কোন আলাপ আলোচনায় বসেনি। সাময়িকভাবে ইদগাহের জায়গা চাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া মরহুম মীর আতিয়ার রহমান এ্যডভোকেট আজীবন ইদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা কালে বার বার ইদগাহের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও অজকাল করে সময়ক্ষেপন করে তিনি মৃত্যুবরন করেন। এর পরে যারা ইদগাহ কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন সবার কাছে বার বার অনুরোধের পরও কেউ বিষয়টি কর্নপাত করেন নি। বর্তমান ইদগাহ কমিটিকেও বার বার অনুরোধ করেও কোন সাড়া না মেলাই বাদীপক্ষ মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান মামলার বাদী মমতাজ বেগম। ইদগাহের মোট ১.৪৯ একর জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। মামলার বাদী মমতাজ বেগম ও তার স্বামী কে.জি মোস্তফা জানান, ইদগাহ কমিটিকে বার বার বিষয়টি বলার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আমরা আদালতের দারস্ত হয়েছি।

Advertisment ad adsense adlogger