কুষ্টিয়া নিউজ::একাত্তরের গণহত্যাকে অস্বীকার এবং বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির রাজনীতিকদের সাফাই গাওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রগতিশীল আমেরিকান বাংলাদেশিরা।মঙ্গলবার (নিউইয়র্ক সময়) দুপুরে এ্যালায়েন্স বাংলদেশি আমেরিকানদের পক্ষে ম্যানহাটানের ফিফথ এভিনিউতে পাকিস্তানি কন্স্যুলেটের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে এই আহ্ববান জানানো হয়।

যুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানকে বাংলাদেশের জনগণের অর্থ ও সম্পদ ফেরত এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের পাকিস্তান কনস্যুলেট ভবনের ৫৬ শতাংশ মালিকানা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়।নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র ম্যানহাটানের ব্যস্ততম সড়ক ফিফথ অ্যাভিনিউতে সর্বস্তরের বাংলাদেশি আমেরিকানদের অংশগ্রহণে সমাবেশ থেকে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান বাংলাদেশ সরকারের কাছে।একুশে পদকজয়ী নাট্যব্যক্তিত্ব জামালউদ্দিন হোসেন সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসাবে পাকিস্তানকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানান।

সমাবেশ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা সাবেক ছাত্রনেতা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধারাধের মামলা করে তাদের বিচারের দাবি জানান।সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোট নিউইয়র্কের সভাপতি মিথুন আহমেদ পাকিস্তানের কাছ থেকে প্রাপ্য সমপদ আদায়ের উদ্যোগ নেবার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানান।
সমাবেশে আরো যোগ দেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্যাহ, কলামিস্ট বেলাল বেগ, উদীচী নিউইয়র্কের সহ-সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, সাংবাদিক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মুজাহিদ আনসারী, আলী আহসান কিবরিয়া অনু, আওয়ামী লীগ নেত্রী আইরিন পারভিন, শাহানারা রহমান, অধ্যাপিকা মমতাজ শাহনাজ, মোর্শেদা জামান, নুরুন্নাহার গিনি, সাংষ্কৃতি কর্মী জলি কর, যুবনেতা তারিকুল হায়দার চৌধুরী, শাহাদত হোসেন, আব্দুল হামিদ, আক্তার হোসেন, তৈয়বুর রহমান টনি, রমেশ নাথ, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, সাখাওয়াত বিশ্বাস, শেখ রফিক, আব্দুল বাসিত খান, আশফাক মাসুদ প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে তারা পাকিস্তানবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের নরহত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এলায়েন্স বাংলাদেশী আমেরিকানদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি প্রদানের চেষ্টা করা হলেও পাকিস্তানী কন্স্যুলেটের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হয়নি।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, মুজাহিদ আনসারী ও মিথুন আহমেদ।