বিজয় দিবসের ৫ দিন আগেই শত্রুমুক্ত হয় কুষ্টিয়া

আজ ১১ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুষ্টিয়াকে মুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। শহরতলির চৌড়হাসে মুক্তিবাহিনী, ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও পাকিস্তানি বাহিনীর ত্রিমুখী যুদ্ধে পড়ে পাকবাহিনী পালিয়ে গেলে কুষ্টিয়া সম্পূর্ণভাবে শত্রুমুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২টি যুদ্ধ শেষে ১১ ডিসেম্বর বৃহত্তর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়েছিল। এর আগে ৪ ডিসেম্বর খোকসা, ৭ ডিসেম্বর মিরপুরের আমলাসদরপুর, ৮ ডিসেম্বর দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা, ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী শত্রুমুক্ত হয়।

১৬ ডিসেম্বর জাতীয় বিজয় দিবসের পাঁচ দিন আগেই শত্রুমুক্ত হয় কুষ্টিয়া। মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিল। মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ৮ নং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার কবি, ছাত্র, সাহিত্যিক, শিল্পী, লেখকের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৮ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত কহিনূর ভিলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ওই দিন শিশুসহ মোট ১৬ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

পাকিস্তান বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় যশোর থেকে পাকবাহিনী এসে কুষ্টিয়া দখল করে নেয় এবং একনাগাড়ে ৩০ ঘণ্টার জন্য সান্ধ্য আইন জারি করে সশস্ত্র অবস্থায় কুষ্টিয়া শহরে টহল দিতে থাকে। সান্ধ্য আইন ভেঙে মুক্তিকামী মানুষ বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। তৈরি করে ব্যারিকেড।

সেনাবাহিনীর চলাচল বিঘ্ন করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ইট-পাটকেল, কাটা গাছের গুঁড়ি, ঘরের চাল নিয়ে এসে এই ব্যারিকেড তৈরি করে। সেনাবাহিনী সেগুলো সরিয়ে দিতে মারমুখী হয়ে যায়। এ নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বংশীতলা যুদ্ধসহ ২২টি যুদ্ধ শেষে মুক্তি ও মিত্রবাহিনী কুষ্টিয়া দখল নিতে আসছিল। ঠিক তখন ১০ ডিসেম্বর সকালে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে চৌড়হাস এই বিমান চত্বরে মেইন রাস্তার উপর পাকবাহিনীর অ্যাম্বুশে পড়েন তারা। শুরু হয় ত্রিমুখী যুদ্ধ। শহীদ হন মিত্র বাহিনীর ৭০ জন।

১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার পুরো এলাকা স্বাধীন ও শত্রুমুক্ত হয়। ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের জোনাল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে অানুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

2018-12-11T10:06:47+00:00December 11th, 2018|কুষ্টিয়া|
Advertisment ad adsense adlogger