মুজিবনগর প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম । মেহেরপুরের মুজিবনগরে যুব সমাজের মাঝে বাড়ছে পর্নোগ্রাফি আসক্তি, যে কারণে উপজেলায় নিয়মিত ঘটছে ইভটিজিং ও ধর্ষনের মত নেক্কার জনক ঘটনা। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে যুব সমাজের মাঝে অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে পর্নোগ্রাফি এবং বাড়ছে আসক্তি। মুজিবনগরে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের দোকান গুলোতে মোবাইল ফোনের মেমোরি কার্ড লোডের নামে অবাধে চলছে পর্নোগ্রাফি বিপণন ব্যবসা। এ সকল দোকানের সাইনবোর্ডে কম্পিউটার কম্পোজ, মেমোরি কার্ড লোড, ফটোস্ট্যাট, ও ডিজিটাল ছবি তোলার কথা লেখা থাকলেও এর আড়ালে অবাধে চলছে পর্ণোগ্রাফি অশ্লীল ভিডিও সরবরাহের রমরমা ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে ক্রমশ এ ব্যবসা বেড়েই চলেছে। গ্রামের সাধারন যুব সমাজ থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়েছে পর্নোগ্রাফি প্রতি। ফলে সামাজিক, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নষ্ট হওয়ার পাশা-পাশি সমাজে বাড়ছে ইভটিজিং ও ধর্ষণের মত নেক্কার জনক নানা সমাজ বিরোধী কাজ । বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন অভিভাবকরা। যে বয়সে তরুণদের লেখাপড়া, খেলাধুলা, আর সুস্থ বিনোদন নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কথা। আর এই বয়সে পর্ণোগ্রাফি প্রতি আসক্তি হয়ে সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে তরুণরা। বর্তমানে তরুণ ও যুব সমাজের একটি বৃহৎ অংশের কাছে এখন মাদকের নেশার চেয়েও বেশি ভয়ংকর নেশা হয়ে দেখা দিয়েছে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও দর্শন। আর মাদকের চেয়ে সহজ লভ্য হওয়ায় এ নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে যুব সমাজ । জাগো মুজিবনগরের এক অনুসন্ধানে সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মুজিবনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যাংঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব কম্পিউটারের দোকান । যেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর ফলে শব্দ দূষণে সুধী সমাজের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দোকানে তরুণ ও তরুণীরা ভিড় জামায় মেমোরী কার্ডে অশ্লিল ভিডিও লোর্ডের জন্য । এসব কম্পিউটারের দোকানের সাইনবোর্ডে কম্পিউটার কম্পোজ, মেমোরি কার্ড লোড, ফটোস্ট্যাট, ও ডিজিটাল ছবি তোলার কথা লেখা থাকলে ও এর আড়ালে অবাধে চলছে পর্নোগ্রাফি অশ্লীল ভিডিও সরবরাহের রমরমা ব্যবসা। এসমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মেমোরী কার্ডে একটি বিদেশী পর্নোগ্রাফি র্লোড করতে নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা পুরো মেমোরী কার্ড র্লোড করতে নেয়া হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এসব পর্নোগ্রাফির পাত্র- পাত্রী হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন জনপ্রিয় অভিনেতা ও অভিনেত্রী রয়েছেন। আর এ কারণে এসব পর্নোগ্রাফির প্রতি তরুণ ও যুব সমাজের আগ্রহ বেশি। আর এ আগ্রহকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে পর্নোগ্রাফি বিক্রেতারা ।দেশের অবৈধ এ পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র মোবাইলের মোমোরিতে ধারণ ও বিপণন ব্যবসা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি আইন থাকলেও সরকারের প্রণীত এ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে মুজিবনগর উপজেলার কম্পিউটারের দোকান গুলোতে চলছে অবৈধ অশ্লীল ও পর্ণোগ্রাফি ভিডিও চিত্রের রমরমা ব্যাবসা। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮/৩ ধারা অনুসারে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং উক্তরুপ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন কিন্তু এমন কঠিন আইন থাকার শর্তেও আইন সম্পর্কে জনগণের সচেতনার অভাবে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকাতে মুজিবনগরে দিন দিনপর্নোগ্রাফি সরবরাহের অপরাধ বেড়েই চলেছে। পর্ণোগ্রাফির ভয়াবহতা সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড মোহাম্মদ এনামুল হকের সাথে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্নোগ্রাফি আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফল। সামাজিক, নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে নব যৌবনের উন্মাদনা, বিকৃত রুচির অভ্যাস ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলার কারণে এগুলো সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য শিশুদের ছোট বেলা থেকেই মূল্যবোধের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এসব পর্ণোগ্রাফি ভিডিও বর্তমান সমাজের অবক্ষয়ের জন্য এটি একটি বড় উপাদান হিসেবে কাজ করছে। এ অবক্ষয় রোধের জন্য সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। অচিরেই এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে আমাদের আগামী প্রজন্ম বিপথে যাবে এবং সমাজে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম অভাব দেখা দেবে। মুজিবনগরের শুশিল সমাজের লোকেরা মনে করেন, এ অবস্থায় পর্নোগ্রাফি আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আর এর সঙ্গে কম্পিউটার কম্পোজ, মেমোরী কার্ডলোড ও ফটোষ্ট্যাষ্ট দোকানের নামে পর্নোগ্রাফি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এসব কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাহলে সমাজ থেকে ইভটিজিং ও ধর্ষনের মত নেক্কার জনক ঘটনা কমানো সম্ভব হবে। নয়তো আগামীতে ধ্বংস হয়ে যাবে তরুণ সমাজ ।