প্রবাদে আছে, বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলেই পরিচয়। আর এই বৃক্ষেরই মতো মানুষের জীবন। চামড়ার সৌন্দর্য নয়, মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যক্তিত্ব বা তার গুণ। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিত্ববান মানুষ সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্রও বটে। তবে, ব্যক্তিত্ব গঠন সহজ বিষয় নয়। আবেগ এবং চিন্তা সামঞ্জস্যতার মাধ্যমে এই পরশ পাথর অর্জন করতে হয়। এর জন্য দরকার পড়ে কিছু কৌশলের, যার বদৌলতে আপনার ব্যক্তিত্ব প্রস্ফুটিত হবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস বাড়ান মানুষের জীবনে সফলতার চাবিকাঠিই হলো আত্মবিশ্বাস। আর আত্মবিশ্বাসই একজন মানুষকে খুব সহজেই ব্যক্তিত্ববান বানিয়ে তোলে। যে কোন কাজে নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে পারলে তাতে যেমন সফল হওয়া যায় তেমনি কথাবার্তা ও ব্যক্তিত্বেও সেটা ফুটে ওঠে। আত্মবিশ্বাস কম থাকলে একজন মানুষ কখনোই ব্যক্তিত্ববান হয়ে উঠতে পারে না। তাই ব্যক্তিত্ববান হয়ে উঠতে চাইলে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। সামাজিকতা পালন করুন সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে সমাজের অনেক রীতিনীতি ও দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর মানুষজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও কুশলাদি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমেও এই সামাজিকতার বহির্প্রকাশ ঘটে। সামাজিকতা পালন না করে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে কখনই কারও ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় না। এতে করে অপরিচিত মানুষকে জানার সুযোগও হারিয়ে যায়। কাজেই ব্যক্তিত্ববান হতে চাইলে সর্বপ্রথম সামাজিকতা বাড়িয়ে তুলুন, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলুন। পোশাক নির্বাচন ব্যক্তিত্ব অনেকাংশেই পোশাকের উপরই নির্ভর করে। আজেবাজে পোশাক পরিধানে একদিকে যেমন আপনাকে দৃষ্টিকটু দেখায় অন্যদিকে আপনার ব্যক্তিত্বও ক্ষুণ হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব দেহের গড়ন ও বয়সের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরিধান করবেন। এক্ষেত্রে অফিস থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ি পর্যন্ত কোন জায়গায় গেলে কি ধরনের পোশাক পরিধান করা উচিত তা অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। আর মানানসই শালীন পোশাকে আপনার রুচি-বোধের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে সবচেয়ে বেশি। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন যে কোন কঠিন কিংবা দুঃসাধ্য কাজেও সফলতা আনে এই ইতিবাচক চিন্তাভাবনা। মানুষের জীবনে তাই সফল হতে এটি বেশি দরকারি। কেননা তা ব্যক্তিত্বকে ভালভাবে ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে নেতিবাচক চিন্তার মানুষ সারাক্ষণই হতাশা, দুঃখ ও বিষণœতায় ভোগে যা ব্যক্তিত্বকে বেশি মাত্রায় ক্ষুণœ করে। তাই ব্যক্তিত্ববান হতে চাইলে সকল পরিস্থিতিতেই ইতিবাচক চিন্তা করুন। সুন্দর বাচনভঙ্গিতে কথা বলুন সুন্দর বাচনভঙ্গির মাধ্যমেই আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে সবচেয়ে বেশি। তাই ব্যক্তিত্ববান হতে চাইলে সবার আগে সুন্দর বাচনভঙ্গির দিকে সকলের মনোযোগ দেয়া উচিত। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলা, স্পষ্ট উচ্চারণ, কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা এবং ভাবপ্রকাশের দিকে লক্ষ্য রাখলেই আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে সবচেয়ে বেশি। কথা ও কাজে মিল রাখুন কথা ও কাজের মিল রাখাই হচ্ছে ব্যক্তিত্ববান মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। তাই ব্যক্তিত্ববান হিসেবে নিজেকে সবার উপস্থাপন করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। যে কাজটি করা আপনার পক্ষে করা সম্ভব না সেটা না বলাই ভাল। সবসময় চেষ্টা করুন কথা ও কাজে মিল রাখতে। তাহলেই আপনাকে মনে হবে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ববান।