বিজ্ঞানের সর্বশেষ চমক! অপেক্ষার শেষ; এবার একজনের ‘জীবন্ত মাথা’ প্রতিস্থাপন হচ্ছে অন্যের ঘাড়ে !

জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিনিয়ত আবিস্কারের চমকে এ দফায় নতুন যুক্ত হতে চলেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বশেষ একটি চমক! এ বছরই বিশ্বে প্রথমবারের মতো প্রতিস্থাপন করা হবে মাথা । বিশ্বের প্রথমবারের মতো মাথা প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন ইতালির এক শল্যচিকিৎসক। ৫১ বছর বয়সী সার্গিও কানাভেরো এ চমক লাগানো কাজ বাস্তবায়নের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই চমক দিতে আর দেরি করতে চান না ৫১ বছর বয়সী ইতালির এক শল্য চিকিৎসক। তার নাম সার্গিও কানাভেরো। সবচেয়ে বড় চমক হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে নিজের মাথাটাই উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী রাশিয়ান নাগরিক ভ্যালেরি স্পিরিদোনভ। প্রস্তাবিত ওই অস্ত্রোপচারে স্পিরিদোনভের শরীর থেকে মাথা কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হবে। তাঁর স্পাইনাল কর্ড ও ঘাড়ের শিরাগুলোও প্রতিস্থাপন করতে হবে তবে কাজটি ‘অবাস্তব’ এবং উন্মাদনার পর্যায়ের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ু শল্যবিদদের সংগঠন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর নিউরোলজিক্যাল সার্জনসের প্রধান হান্ট বাটজার বলেন, তিনি চান না কেউ ও রকম ভয়ংকর শল্যচিকিৎসার মধ্য দিয়ে যান। তিনি নিজের শরীরে কাউকে এ রকম অস্ত্রোপচার করার সুযোগ দেবেন না। কারণ, অনেক ব্যাপার আছে যেগুলো মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণাকর হতে পারে। এর আগেই ২০১৩ সালেই কানাভেরো এবং চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রেন জিয়াওপিং যৌথভাবে একজনের মাথা অন্যজনের শরীরে স্থাপন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণা অনুযায়ী, সব কিছু ঠিক থাকলে এ বছরের ডিসেম্বর মাসেই আসছে সেই মাহেন্দ্রক্ষন। রোববার রুশ গণমাধ্যম স্পুটনিক নিউজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।প্রাণঘাতী পেশি ক্ষয়রোগ ‘ওয়ারডিং হফম্যানে’ আক্রান্ত ভ্যালেরি পেশায় একজন সফটওয়্যার প্রোগ্রামার। নিজের জীবন বদলে যাবে এমন ভাবনা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ওই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ভ্যালেরি বলেন, ‘মানুষের হৃৎপিন্ড, কিডনি, ফুসফুস, মূত্রথলি প্রতিস্থাপন করা গেলে মাথা কেন যাবে না? আমি মনে করি এ ধরণের অপারেশন আমার জন্য একটি নতুন জীবন নিয়ে আসতে পারে।’ চীনা বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে ইঁদুরের মাথা প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা অনুষদের বিজ্ঞানী রবার্ট হোয়াইটের নেতৃত্বে একটি বানরের মাথা প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে ওই অস্ত্রোপচারে মেরুদণ্ডের সুষুম্না কাণ্ড (স্পাইনাল কর্ড) সংযোজন না করায় বানরটি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছিল। তবে বিশেষ সহায়তা নিয়ে এটি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারত। অস্ত্রোপচারের নয় বছর পর বানরটি মারা যায়। কানাভারো মনে করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে অর্জিত অগ্রগতির ফলে তিনি অনেক সমস্যা এড়াতে পারবেন, ৪৫ বছর আগে যেগুলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন হোয়াইট। স্পুটনিক নিউজ জানিয়েছে, পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এই অপারেশনে ৩৫ ঘণ্টা সময় এবং ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, মনোবিজ্ঞানীসহ দেড়শতাধিক লোকের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক কানাভেরো। ভ্যালেরির মাথা কেটে বসানো হবে অন্য একটি মৃত মস্তিষ্কের শরীরে। এ ক্ষেত্রে দাতা শরীরকে হতে হবে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভ্যালেরির সমবয়সী, সমান শারীরিক গঠন ও সমান ওজনের। কোনো মৃত ব্যক্তির মাথা নিয়ে এ অপারেশন সম্ভব নয়। মস্তিষ্ক অচল কিন্তু জীবিত শরীরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কানাভ্যারো। দাতা শরীর পেয়ে যাওয়া এ বছরের মধ্যেই অপারেশনটি সম্পন্ন হবে। তবে, দাতা শরীরের ব্যপারে কোন তথ্য প্রদান করেন নি কানাভেরো। দুটি শল্যচিকিৎসকের দল কাজ করবে এ অপারেশনে। একটি কাজ করবে ভ্যালেরির মাথা আলাদা করতে, অন্যটি কাজ করবে মস্তিষ্ক অচল দাতা শরীর থেকে মাথা আলাদা করতে। ভ্যালেরির শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেখে তার মাথাকেও অচল করা হবে। পরে দাতা শরীরের স্পাইনাল কড ও জাগুলার ভেইনের সঙ্গে ভ্যালেরির মাথার স্পাইনাল কর্ড ও জাগুলার ভেইনের সংযোগ স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, মানব মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের ঘটনা হবে এটিই প্রথম। এর আগে ১৯৭০ সালে প্রথম রবার্ট জে হোয়াইট সফলভাবে বানরের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন করেন। কিন্তু স্পাইনাল কর্ডের সংযোগ সফল না হওয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে নয় দিন পর বানরটি মারা যায়।

 

2018-01-30T07:02:52+00:00January 30th, 2018|অন্যান্য|
Advertisment ad adsense adlogger