পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। অপারেশনের পর চিকিৎসকদের চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা। রোগীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ভাঙা টিউবলাইটের টুকরো, ব্লেড, ও আস্ত দুটো প্লেট। দিল্লির বাসিন্দা শৈলেন্দ্র সিং। ঝরঝরে ইংরেজি বলেন। বিশ্ব রাজনীতিতে অগাধ জ্ঞান তার। অশোক বিহারের এ বাসিন্দাকে যারা চেনেন, তারা জানেন যে কোনো জিনিস সহজেই মনে রাখতে পারেন তিনি। কারো কোনও বিষয়ে সংশয় হলে দিব্যি তা দূর করে গড়গড়িয়ে নানা ঘটনার বিবরণ দিয়ে দেন। অথচ তিনিই নাকি ভুলে গিয়েছিলেন যে, বছর নয় আগে এইসব খেয়ে ফেলেছিলেন! আসলে ঠিক ভুলে যাননি। ভেবেছিলেন হজম করে ফেলেছেন। যোগাভ্যাস করেন শৈলেন্দ্র। তার বিশ্বাস, যোগে সব কিছুই সম্ভব। আর সেই বিশ্বাসে ভর করেই এসব খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। খেয়েও ফেলেছিলেন। প্রথামিকভাবে কোনো অসুবিধা হয়নি। ভেবেছিলেন সেসব হজমও হয়ে গেছে। কিন্তু যোগের মহিমা শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারল না। এসব ধাতব জিনিস খাওয়ার পরও বিশেষ কিছু অসুবিধা হয়নি শৈলেন্দ্রর। এমনিতে তিনি বিবাহিত। শৈলেন্দ্রবাবুর বোন জানান, তারাও কোনোভাবেই জানতে পারেননি যে, এসব খেয়ে ফেলেছেন তার ভাই। অপারেশনের পর সুস্থই আছেন তিনি। আবার সেখানে তিনি নিজেও হারমোনিয়াম বাজিয়ে অন্যান্য রোগীদের খুশি করে রাখেন। চিকিৎসকরা জানান, নিউরো-ক্যামিক্যাল সাবস্টেন্সের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেই এই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। তবে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল।