ডিভোর্সিদের বিয়ে করা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

ডিভোর্সিদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত আছে নানা মিথ বা কাল্পনিক ধারণা। কিন্তু ডিভোর্সিদেরকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য, ভালোবাসা এবং সম্পর্কের রসায়নকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আর পরস্পরের সঙ্গে ক্লিক করলে অতীতকেও গ্রাহ্য না করলেও চলে। যদি ট্যাবু বা কোনো মিথ আপনাকে কোনো ডিভোর্সিকে বিয়ে করা থেকে বিরত রেখে থাকে তাহলে সেগুলো থেকে মুক্ত হতে পড়ুন…

১. ডিভোর্সিরা সম্পর্কে কখনোই সফল হয় না
ভুল! একবার সম্পর্ক ভাঙলেই যে কেউ আর কখনো সম্পর্কে সফল হতে পারবে না এমনটা ভাবা ঠিক নয়। আপনি বিষয়টি একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে পারেন। একটি ব্যর্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাই বরং সাহস ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বহন করে। কেননা একটি অকার্যকর সম্পর্কে দীর্ঘদিন আটকে থাকাটাই বরং অস্বাস্থ্যকর হতো। সুতরাং কোনো ডিভোর্সি নারী বা পুরুষ সম্পর্কে ব্যর্থ কোনো মানুষ নন। বরং তিনি হয়তো তার সেরাটা ঢেলে দেওয়ার জন্য সঠিক মানুষটির জন্য অপেক্ষা করছেন।

২. আগের বিয়ের বাচ্চা থাকলে সমস্যা হয়
এটাও ঠিক নয়। কারণ ওই বাচ্চাটিই হয়তো আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আপনাকে শুধু ওই বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলে বুঝতে হবে যে বাচ্চাটি আপনাকে কোনো সংঘাত ছাড়াই আপনাকে বাবা বা মা হিসেবে মেনে নিতে পারবে কিনা। বা আপনিও তার সঙ্গে সত্যিকার বাবা-মার মতোই আচরণ করতে পারবেন কিনা।

৩. তারা কথায় কথায় সম্পর্ক ভাঙে
কেউ একবার বিয়ে বিচ্ছেদ করেছে বলে এমনটা ভাবা ঠিক নয় যে সে ছোট-খাটো কোনো সমস্যা হলেই ফের সম্পর্ক নষ্ট করবে। তারচেয়ে বরং বুঝতে চেষ্টা করুন কেন তিনি আগের বিয়েটি ভেঙেছেন। বুঝতে চেষ্টা করুন তিনি কেন এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে গেলেন। বিয়ের সম্পর্কে যদি যথেষ্ট ভালোবাসা থাকে তাহলে কেউই শুধু শুধু সময়ের অপচয় করতে চায় না।

৪. ডিভোর্সিরা স্বার্থপর
শান্তির জন্য কোনো বাজে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাটা স্বার্থপরতা নয়। আপনিও হয়তো তাই করতেন। আপনি নিজেও কি ঘরে শান্তি আনার চেষ্টাকে স্বার্থপরতা বলবেন। সুতরাং আপনি কাউকে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটালেই স্বার্থপর আখ্যায়িত করতে পারেন না। কাউকে স্বার্থপর বলার আগে তাদের পুরো আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।

৫. বিবাদপ্রিয় হতে পারে
কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের লোকই প্রতিদিন ঝগড়া-বিবাদ করতে চাইবে না। কোনো ডিভোর্সি যদি তার আগের পার্টনারের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে থাকে তার মানে এই নয় যে তিনি আপনার সঙ্গেও একই কাজ করবেন। সুতরাং কাউকে বিচার করার আগে তার ব্যক্তিত্ব বুঝার চেষ্টা করুন।

৬. সামাজিক নিন্দার ভয়
শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিসহ আজকাল সমাজের সব স্তরেই বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। ফলে আপনার এ নিয়ে চিন্তা করার কোনো দরকার নেই যে একজন ডিভোর্সিকে বিয়ে করলে আপনার প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনরা কী বলবে।

৭. ভালোবাসা অসম্ভব
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন তিনি ইতিমধ্যেই কাউকে ভালোবেসে ফেলেছেন। সুতরাং তার পক্ষে আর নতুন করে কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসা সম্ভব নয়। কিন্তু মনে রাখবেন তারা যদি সত্যি সত্যিই আগের পার্টনারকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন তাহলে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাতেন না। সুতরাং আপনি যদি তার মন জয় করতে পারেন তাহলে আপনিই তার সবচেয়ে বেশি গভীর ভালোবাসা অর্জন করতে পারবেন।