চিলমারী ফিরে এসে মাহমুদ হাসান ॥ কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুর। আর এই উপজেলার একটি দূর্গম এলাকা ৬ নং চিলমারী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের পশ্চিমে ভারত, দক্ষিণে পদ্মা নদী, উত্তরে রাজশাহী ও উত্তর-পূর্বে নাটোর জেলা। গহীণ চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে কৃষি ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এই ইউনিয়নের মানুষ একদিকে পার্শ্ববর্তী ভারতের সীমান্তরক্ষীর বন্দুকের নল আরেকদিকে প্রমত্ত পদ্মার সাথে লড়াই করে জীবন সংগ্রামে টিকে আছে। অব্যাহত নদী ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই ইউনিয়ন। বড় বৈচিত্রময় জনপদ এটি।
চিলমারী ইউনিয়নকে আওয়ামীলীগের দূর্গ বলা হয়। পাকিস্তান আমল থেকেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে মরহুম আব্দুল জাব্বার দেওয়ান সক্রিয়ভাবে মাঠে থেকেছেন। প্রাকৃতিক বৈরীতার মাঝে মহানুভবতার হাত প্রসারিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল জাব্বার দেওয়ান। তিনি প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করেছেন। বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৭০-১৯৯০ সাল পর্যন্ত জননেতা আব্দুল জাব্বার দেওয়ান দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ৬নং চিলমারী ইউপি নির্বাচনে বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। জিয়া সরকারের সময় হ্যাঁ না নির্বাচনে বাংলাদেশে জিয়ার বিরুদ্ধে শতভাগ না ভোট পড়েছিলো এই ইউনিয়নে। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ না ভোট পড়েছিলো জাব্বার দেওয়ানের নেতৃত্বে চিলমারী ইউনিয়নে। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া চরমভাবে ক্ষুদ্ধ হন ৬ নং চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান ও দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল জাব্বার দেওয়ানসহ তার পরিবার পরিজনের উপর। একের পর এক নির্যাতন নিপীড়নের খড়গ নেমে আসে তবুও তিনি জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসনের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেননি। দ্যর্থহীনভাবে বলেছিলেন, যতই নির্যাতন নিপীড়ন হোক আমি বঙ্গবন্ধুর কথা বলবোই।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুল জাব্বার দেওয়ানের মৃত্যুর পর এলাকাবাসী ইউনিয়নের হাল তুলে দেন তার সুযোগ্য জ্যেষ্ঠপুত্র দেওয়ান সাইফুল ইসলাম শেলীর উপর। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই পিতার হাত ধরে রক্তের টানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত একজন তরুন যুবক। তিনি জনগনের প্রত্যক্ষভোটে একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। হাল ধরেছেন চিলমারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের।
চিলমারী ইউনিয়নবাসী এবার নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে দেওয়ান সাইফুল ইসলাম শেলীকে পূণরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চায়। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক? কে পাচ্ছেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন? এমন আলোচনা সমালোচনা চলছে চায়ের দোকান থেকে সবখানে। একদিকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতার পুত্র শেলী দেওয়ান আরেকদিকে বিএনপি পরিবারের পুত্র সৈয়দ আহম্মেদ। তবে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জোর দাবী যেহেতু বঙ্গবন্ধুর নৌকা সেহেতু এই প্রতীক যাকে তাকে দেওয়া উচিত নয়। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী ও পরীক্ষিত সৈনিককে দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছে দৌলতপুর উপজেলার ৬ নং চিলমারী ইউনিয়নের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। এলাকাবাসীর বক্তব্য দেওয়ান সাইফুল ইসলাম শেলীকে নৌকায় ভোট দিয়ে চিলমারী ইউনিয়ন রক্ষাসহ অর্থনৈতিক জোন হিসেবে এই অঞ্চলকে দেখতে চায়। সৈয়দ আহম্মেদ গত ৫ বছরে চিলমারীর ইউনিয়নে এক বিন্দুও কোন উন্নয়নের চিহ্ন তৈরী করতে পারেনি। বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বাড়ি ভাড়া করে কুষ্টিয়ার বটতৈল ইউনিয়নের খাজানগরে বসবাস করেন। তার পরিবারের লোকজন বিএনপি করে এবং আওয়ামীলীগ বিরোধী। এমন মন্তব্য চিলমারীর মানুষের মুখে মুখে।