একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এক মিনিটে রায়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হচ্ছেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমান।এর আগে সকালে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় মীর কাসেম আলীর মামলা না থাকায় প্রথমে রায় দেয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। পরে প্রধান বিচারপতি সেই তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দেন। সংশোধনের পর সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটের দিকে এই রায় দেয়া হয়।march 2

ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ১০টি ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়। আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে।এর মধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ করে আন্দরকিল্লার ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার পর তার এবং আরও ৫ জনের লাশ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

মীর কাসেম আলীর ‘ফাঁসির রায়’ বহাল থাকায়, আনন্দ-উল্লাস ও সন্তোষ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করা হয় আজ মধ্যে রাতে জ্যাকসন হাইটসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহ সকল নেতা কর্মীরা। মহান স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৪৫ বছর প্রতীক্ষার পর, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’র ঐতিহাসিক রায়ে ‘৭১-এ, গণহত্যা, লুটপাটকারী, ঘৃণ্য ও কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর মীর কাসেম আলীর ‘ফাঁসির রায়’ বহাল থাকায়-

ড. সিদ্দিকুর বহমান বলেন .. মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলার মাটি পাপ ও কলঙ্কমুক্ত হবে। তিনি বলেন, একজন কুরুচিপূর্ণ ও জঘন্যতম এ রায়ের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের জয় হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে চক্রান্তের বিনাশ হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের প্রভাব খর্ব হয়েছে। এটা আজ আবার প্রমাণিত হয়েছে যে কোন ধরনের অপশক্তিকে মোকাবিলা করার শক্তি বাংলাদেশের সরকার ও জনগনের রয়েছে।

আরও বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল, সেই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের একে একে বিচার হচ্ছে, যা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করবে। বঙ্গবন্ধু’র সুযোগ্য কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার আপোসহীন ও দুরদুর্শী-সাহসিকতা এবং দক্ষ নেতৃত্বের মধ্যদিয়েই গঠিত হয়েছিল, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’। শত বাধা-বিপত্তি, শত ষড়যন্ত্রের মাঝেও সেই ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ থেকে অত্যান্ত স্বচ্ছতার সাথে-‘বিচারে’ রাজাকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধীর ঐতিহাসিক ‘রায়’ বহাল থাকলো।

যা জাতির আশা-আকাংখারই প্রতিফলন। আমরা দ্রুত মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর দেখতে চাই। বিবৃতিতে-আরও উল্লেখ করা হয় যে, সমগ্র যুক্তরাষ্ট আওয়ামী লীগ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাঙ্গালী ভাই ও বোনেরা যারা দীর্ঘদিন যাবত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন। তাদের সকলকে আবারও অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখন যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধাপরাধীর ‘ফাঁসির রায়’ কার্যকর করার দাবীও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মীরা।