আফরিন সুলতানা,পাবনা চীফ অব ব্যুরো ॥ নব্বই দশকের বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর তুখোর ছাত্রনেতা জহুরুল ইসলাম বাবু এবং আতাউর রহমান ঢালী গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি যোগ দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে রাতে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। এ দু‘জনকে কেন্দ্রিয় কমিটিতে দায়িত্বশীল পদ দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিশুল বিশ্বাসসহ কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে জহুরুল ইসলাম বাবুর বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অব.) কেএস মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতা, সহসভাপতি আব্দুস সামাদ খান মন্টু, একেএম মুসা, তৌফিক হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, আনিসুল হক বাবু, মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ পাবনা জেলা বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মি উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি সুত্র জানায়, জহুরুল ইসলাম বাবু ১৯৬০ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা আলহাজ আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন পুলিশের ডিএসবিকে চাকুরি করেন। ১৯৭৫ সালে পাবনার আরএম একাডেমি থেকে এসসসি, ১৯৭৭ সালে এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিভাগে অনার্সসহ কৃতিত্বের সঙ্গে মাষ্টার্স পাশ করেন। রাজনৈতিক কারণে ছাত্রত্ব বজায় রাখতে আবার আবার সমাজ কর্ম বিভাগে ১৯৮২ সালে মাষ্টার্সে ভর্তি হন ও পরে পাশ করেন।
সুত্র জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় ইউনাইটেড কমিউনিষ্টলীগের রাজনীতির মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা। ১৯৭৯ সালে সালাউদ্দিন ঢালীর নেতৃত্বে জাতীয় ছাত্রদলে যোগদান। ১৯৮০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আতাউর রহমান ঢালীর নেতৃত্বে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রিতে যোগ দেন। পরবর্তিতে ছাত্রমৈত্রি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সবোর্চ্চ ভোটে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। নব্বই দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপর্ন ভুমিকা পালন করেন। এ ছাড়া জামায়াত শিবির হঠাও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ জন্য তার নামে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়। গত ২০ বছর তিনি রাজনীতিতে ছিলেন নিস্ক্রিয়। তবে সামাজিক কর্মকান্ডে তার অংশ গ্রহণ ছিল নিরবে নিভৃতে। তবে শেষদিন পর্যন্ত জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি পাবনায় দীর্ঘদিন ফার্নিচার ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে জহুরুল ইসলাম বাবু এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার বড় মেয়ে নাইমা ইসলাম এবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের গণিত বিভাগের অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছে। ছেলে নিহাল ইসলাম সহজ পাবনা জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষ দিয়েছে। তার স্ত্রী বিউটি ইসলাম একজন গৃহিনী।
পাবনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতা পিপ‘কে বলেন, জহুরুল ইসলাম বাবু কে বিএনপিতে স্বাগত জানাই। তাকে বরণ করতে আমরা সবাই প্রস্তত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা সমকাল‘কে বলেন, জহুরুল ইসলাম বাবু শুধু এক নেতা। তিনি বিএনপিতে যোগ দিলে বিএনপির কোন উপকার হবে না। জহুরুল ইসলাম বাবু পিপ‘কে বলেন, বিএনপিতে ঢুকে সৃষ্টিশীল রাজনীতি করতে চাই। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৮০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্রমৈত্রী প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে আতাউর রহমান ডালী ভাসানী ন্যাপের জাতীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আতাউর রহমান ঢালীর কমিটির সভাপতি ছিলেন ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।