কাল তৃতীয় ধাপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে , তাড়াশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপটে দলীয় প্রার্থীরা কোনঠাসা

আশরাফুল ইসলাম রনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ ও বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন সমান্তরালে। উভয় দলেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় প্রার্থীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, জনগনের সমর্থন আদায় করতে বিশিষ্টজনদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিদ্যুত সংযোগসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে আটটি ইউনিয়নে মোট ৩৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১ নং তালম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আ’লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন মোঃ আবাস-উজ-জামান। আর বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদীন। দুজনই সমান ভাবে প্রচারণা চলাচ্ছেন। বিএনপির একক প্রার্থী আবুল কাশেম সরকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মোঃ বাবলু হোসেন।
আবাস-উজ-জামান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মি ও সাধারন জনগনের সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে। জয়নুল আবেদীন বলেন, দলের নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। সাধারন কর্মীরা সবাই গোপনে আমার সঙ্গে আছেন। দল থেকে আমাকে নানা ভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে। তাতে ভোটের কোন প্রভাব পড়বেনা বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।
২ নং বারুহাঁস ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। আ’লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন মোক্তার হোসেন। বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। বিএনপির দলীয় প্রার্থী হাসান ইকবাল শহীদ আর বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সদস্য মোঃ আসাদুজামান। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ আজিজুর রহমান, নূরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান রয়েছেন। মোক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমানের পক্ষ নিয়ে ঢাকা থেকে ঢাকা বিদ্যুত বিতরন কোম্পানীর চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ নজরুল ইসলাম বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে গ্রাম বিদ্যুতায়নসহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সরকারি গাড়ি নিয়ে নিয়মবর্হিভূত ভাবে প্রচারণায় অংশ গ্রহন করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোন লাভ হয়নি। এ বিষয়ে আব্দুল আজিজ বলেন, নির্বাচনে পরাজয় ভেবে দলীয় প্রার্থীরা নানা ধরনের প্রপাগান্ডা রটাচ্ছে। বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জরুরী পারিবারিক কাজে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। কারো পক্ষে ভোট চাইতে নয়। আমি বিদ্যুত সেক্টরে দায়িত্ব পালন করছি বিধায় এলাকার লোকজন আমার কাছে বিদ্যুতের বিষয়ে আসতেই পারে। নির্বাচনী কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি।
৩ নং সগুনা ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচজন। বিএনপির একক প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাইদ। আ.মীলীগ থেকে দলীয় প্রার্থী হলেন টি এম আব্দুলাহ হেল বাকী। মূল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন উপজেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হালিম মন্ডল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ সমর্থক সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল করিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৪ নং মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। আ.লীগের দলীয় প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন গোলাম আজম। কোন দলেই বিদ্রোহী প্রার্থীনেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ আব্দুল হালিম নির্বাচনী মাঠে আছেন।
৫ নং নওগাঁ ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা চারজন। আ.লীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আ’লীগের উপদেষ্টা সদস্য মিজানুর রহমান। তবে তিনি শক্ত অবস্থানে নির্বাচনী মাঠে আছেন। বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম গ্রহ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন, শামছুল আলম শেখ। সবাই নির্বাচনী মাঠে সর্বশক্তি নিয়োগ করে ভোটার কাছে চষে বেড়াচ্ছেন।
৬ নং তাড়াশ সদর ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা চারজন। দু দলেই বিদ্রোহী রয়েছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন বাবুল শেখ। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক যুবলীগ নেতা মীর শহিদুল ইসলাম। বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার আবু সাঈদ। বিদ্রোহী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন সদ্য বহিস্কৃত ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহম্মেদ।
৭ নং মাধাইনগর ইউনিয়নে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুদলেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। আ.য়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আবু হাসান মির্জা, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আ’লীগের উপদেষ্টা সদস্য জহুরুল ইসলাম। বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, একই দলের আবুল বাশার সরকার বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী হয়েছেন, মোঃ মনিরুজ্জামান।
৮ নং দেশীগ্রাম ইউনিয়নে প্রার্থীর সংখ্যা ছয়জন। আ.লীগ থেকে আব্দুল কুদ্দুস ও বিএনপি থেকে আলহাজ্ব জমশের আলী দুজনই একক প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জ্যোতিষ চন্দ্র মাহাতো, আব্দুর রহিম সরকার, আব্দুস সামাদ ও মোসলেম উদ্দীন।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীদের মধ্যে উদ্দেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা দমে না গিয়ে নির্বাচনী মাঠ বহাল তবিয়তে চষে বেড়াচ্ছেন।
থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আফসার আলী জানান, কয়েকটি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন প্রচারণায় কিছুতা প্রভাব বিস্তার করছে। তার পরেও আমরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্রোহী থাকলেও তারা শেষ পর্যায়ে দলীয় মনোনিত প্রার্থীর স্বপক্ষে আসবে। নির্বাচন সুষ্ঠ হবেকিনা এ নিয়ে কিছুতা সংকিত রয়েছি।
থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সনজীত কর্মকার বলেন, দলের নিয়ম ভংঙ্গ করায় বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা নির্বাচনে কোন প্রভাব ফেলতে পারবেনা বলে আমরা মনেকরছি। এ ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হবে।

2016-04-22T17:55:38+00:00April 22nd, 2016|রাজনীতি|
Advertisment ad adsense adlogger