কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ॥রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রশাসক জিয়াউল হক টুকু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত টুকুর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নয়ন নামে টুকুর এক বন্ধু পিস্তলটি নাড়া-চাড়া করতে গিয়ে গুলি বের হয়ে টুকুর বুকে বিদ্ধ হয় বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
তবে এর আগে তাৎক্ষণিকভাবে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদত হোসেন জানিয়েছিলেন, টুকুর কনস্ট্রাকশন অফিসে নিজের পিস্তল পরিস্কার করার সময় অসাবধনতাবশত গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। জিয়াউল হকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘ইষ্টি কন্সট্রাকশন’ এর পাশের দোকান ‘চায়না গদি ঘর’ এর কর্মচারী মিঠু ও বাবু জানান, বিকেলে তারা দোকানের ভেতরে খাওয়া দাওয়া করছিলেন। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন জিয়াউল হক টুকু উপুর হয়ে পড়ে আছেন। তার পিঠ রক্তে ভেজা। পরে একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগর ভবনের সামনে জিয়াউল হকের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ‘ইষ্টি কন্সট্রাকশনে এ ঘটনা ঘটে।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা শুনেছি নিজের হাতে নাড়া-চাড়া করতে গিয়েই টুকুর পিস্তলের গুলি বের হয়ে তিনি মারা গেছেন। পরে নয়ন নামের টুকুর এক বন্ধু ফোন করে আমাকে এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে জানান, টুকুর পিস্তলটি তার (নয়নের) হাতে ছিলো। এতে ম্যাগজিন লোড করে নাড়া-চাড়া করার সময় গুলি বের হয়ে টুকুর বুকে বিদ্ধ হয় বলে সে নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আসাদুজ্জামান আসাদ আরো জানান, নয়নকে তিনি চেনেন না। তার পুরো নামও জানেন না। নয়ন এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলেই তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, নয়ন ঢাকার ছেলে। তাকে রাজশাহীতে আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি এমন হলে অবশ্যই হত্যা মামলা করা হবে। বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান জানান, প্রথমে শুনেছি টুকুর হাতে পিস্তল থাকা অবস্থায় গুলি বের হয়েছে। পরে শুনেছি তার বন্ধু নয়নের হাত থেকে গুলি বের হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ওসি বলেন, টুকুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।