স্টাফ রিপোর্টার ॥ কুষ্টিয়া জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষাগ্রহনের প্রস্তুতি নিতে রয়েছে নামে বেনামে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। এদের মধ্যে প্রতারণার শীর্ষে রয়েছে UCC কুষ্টিয়া শাখা সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং। কোচিং বানিজ্যের শুরু থেকেই এই কোচিংটি নানা অনিয়ম ও প্রতারণার মধ্যে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্য। কুষ্টিয়াতে শুরু থেকে নানা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের প্রতারণা। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরম বিক্রয় করে তা জমা না দিয়ে শত শত ছাত্র ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে UCC কুষ্টিয়া শাখার পরিচালককেরা। বর্তমানে নাম পরিবর্তন করে ষ্টাডি পয়েন্ট এর নামে UCC শাখা খুলে আবার ও শুরু করেছে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারনা। ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি করতে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন এর ব্যবহার করে আকৃষ্ট করছে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে। সরেজমিনে খোজ নিয়ে দেখা যায়, নানা কৌশল ও অনিয়মের মধ্যে দিয়ে প্রতারনা করছে UCC কোচিং এর বর্তমান চেয়ারম্যান লাল মোহাম্মদ। ভর্তি শর্ত অনুযায়ী ঢাকা থেকে শিক্ষক এসে ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও ক্লাস নেয় কুষ্টিয়া র্সকারি কলেজের ছাত্ররা। নির্দিষ্ট গাইড বই ও ক্লাস সীট দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে সেগুলো না দেওয়া। গতবছরে ৪ মাস একনাগারে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও ১-২ মাস যেনতেন ক্লাস নিয়ে শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন লাল মোহাম্মদ। একাধিক পরিচালক থাকলেও কাউকে তোয়াক্কা না করে শুরু থেকে লাল মোহাম্মদ নিজের খাম খেয়ালী মতো কোচিং পরিচালনায় পরিচালকসহ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারনা করে বলে অভিযোগ করেছেন তার বর্তমান এবং সাবেক পরিচালকরা । বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লাল মোহাম্মদ এর নামে রয়েছে

পরিচালকদের সাথে আর্থিক প্রতারনার কয়েকটি মামলা। এছাড়া কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। সাবেক পরিচালকেরা অভিযোগ করে বলেন, লাল মোহাম্মদ ঢাকা হেড অফিসের অনুমোদন এর কথা বলে বিভিন্ন সময় পরিচালকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের সাথে প্রতারনা করেছে। যার কারনে এই পরিচালকার মামলা করতে বাধ্য হয়েছে। তারা আরো জানায়, কোন কোন সময় ঢাকার UCC হেড অফিসে শুধুমাত্র এক কিস্তির টাকা দিয়ে পরবর্তীতে তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলেন চেয়ারম্যান লাল মোহাম্মদ। আবারও দেশের স্বনামধন্য ইউসিসি কোচিং সেন্টার নিয়ে প্রতারনার ফাঁদ পেতে বসেছে স্টাডি পয়েন্ট কোচিং সেন্টার।
কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবসার পণ্য বাণিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই কোচিং সেন্টার। গতবছর এই শাখার সফলতা প্রায় শূন্যের কোঠায়। গতবছর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে মাস খানেকের মধ্যে গুটিয়ে নেয় তাদের ইউসিসি শাখা। কেউ কেউ নতুন করে অন্য কোন কোচিং এ ভর্তি হয়। আবার কেউ কেউ অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারেনি। যার কারনে অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।
অত্যন্ত নিম্নমানের ক্লাসসীট, অদক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা ক্লাস গ্রহণ, একই শিক্ষক দিয়ে একাধিক ক্লাস গ্রহণ, অনিয়মিত ক্লাসটেস্ট পরীক্ষা ও সীমিত সময়ের মধ্যেই কোর্সের সমাপ্তি ঘোষনা ইত্যাদি ব্যর্থতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ফলাফল বির্পযয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে আবারও জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ঝিকঝাক রংবিরংঙের ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রচারনা চালিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষৎ জীবন নিয়ে ছেলে খেলার পায়তারা করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এই শাখার নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে অধিকাংশ পরিচালক কোচিং থেকে বেরিয়ে যায়। যারা দূর্নীতি সহ্য করতে না পেরে চলে যায় তাদের বিনিয়োগের টাকা, ক্লাস বা চুক্তি অনুযায়ী মাসিক টাকা ফেরত দেয়নি বর্তমান চেয়ারম্যান লাল মোহাম্মদ । এই কোচিং এর অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার পরিচালক ও ছাত্র ছাত্রীরা এই প্রতারনা বন্ধে প্রশাসন ও সচেতন অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। (আগামীকাল পড়–ন লাল মোহাম্মদ এর নামে মামলা ও ঋনের বোঝা)