বাংলাদেশে ‘আইএস’ মানে ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’

॥ রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব ॥
বেশ কিছুদিন ধরে ‘আইএস’ নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জনমনে নানা প্রশ্ন, আইএস কি? আইএস মানে কি? এদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?
কোথায় এদের গন্তব্য? আধুনিক ও ভারি ভারি অস্ত্রের উৎস কি? এদের অর্থ
যোগানদাতা কারা? এদের দেখতে কেমন? ইত্যকার নানা প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে
মুখে। আইএস মানে তারা নিজেরাই বলেছে ‘ইসলামিক ষ্টেটস’। তবে তাদের
কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে ভূতের মুখে রামের নাম। বিশ্বের বুকে বেছে বেছে
মুসলিম দেশগুলোতে নির্বিচারে যে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তাতে বিশ্ব বিবেকের
ধারণা এরা পৃথিবী থেকে মুসলিম নিধন করে কোন ইসলাম কায়েম করতে চায়? কাদের
নিয়ে এরা ইসলামী ষ্টেটস তৈরী করবে? নাকি এদের বগলে ইট, মুখে শেখ ফরিদ? যে
কারণে আজ বিশ্বব্যাপী আওয়াজ উঠেছে ‘আইএস’ মানে ‘ইসরাইল ষ্টেটস’। অর্থাৎ
ইসরাইলীরা মুসলিম সেজে, মুসলমানের বেশে সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের হত্যা
করে, ত্রাস ও আতংক সৃষ্টি করে ইসলাম ধর্মকে জঙ্গী ধর্মে পরিণত করতে
উদ্যত। ইসলাম মানে শান্তি আইএস অস্ত্রের মুখে এর অর্থ পরিবর্তন করে ইসলাম
মানে নির্বিচারে মানুষ হত্যার ধর্ম হিসেবে প্রচারে নেমেছে। এখন প্রশ্ন
হচ্ছে এদের হাতে ভারি ভারি অস্ত্র এলো কোথা থেকে? কারা এদের অর্থের যোগান
দিচ্ছে? এখানেও চলে এসেছে সিআই, মোসাদের মত গোয়েন্দা সংস্থার নাম। কোন
মুসলিম দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক উত্থানের গতিকে স্তব্ধ করে
দিতে ‘আইএস’ তৎপর। ইরাক, মিশর, সিরিয়াসহ মুসলিম দেশগুলোতে এদের ত্রাসের
রাজত্ব চলছে। সম্প্রতি চোখ পড়েছে বাংলাদেশে। বিশ্ব রাজনীতিতে যারা ইসরাইল
বিরোধী তারাই অক্রান্ত হচ্ছে আইএস দ্বারা। ফিলিস্তিনের একের পর এক শিশু
হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান সংসদে
দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করেছেন এবং শোক প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন সেই থেকে
বাংলাদেশের পিছু নিয়েছে ওরা। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে যে উন্নয়ন,
অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, মধ্যম আয়ের দেশে পা রাখতে যাচ্ছে ঠিক সে সময়
দেশকে অস্থিতিশীল করতে চোরা গুপ্তা হত্যা করে দায় স্বীকার করছে ‘আইএস’।
বিএনপি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে হাত মিলিয়ে বর্তমান সরকার
উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বিএনপি’র
আটককৃত যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। বাংলাদেশে আইএস কারা? কারা
হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে? এইদেশে কোথা থেকে এলো আইএস? এক সময় যারা
বাংলাদেশে শ্লোগান দিয়েছে ‘আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান’
জামায়াত-শিবিরের সেই সূর্য সন্তানেরা আজ আইএস হয়ে কাজ করছে। কুষ্টিয়া সদর
উপজেলার কবুরহাট, আইলচারা এলাকায় জামায়াত-শিবিরের যে শক্ত অবস্থান তা
বারবার প্রমাণিত হয়েছে। রশীদ এগ্রোর মধ্যে এদের ঘাঁটি যেখানে স্বরাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এসেছিলেন জঙ্গী প্রধান শায়খ আব্দুর
রহমানকে ধরতে। কবুরহাট, আইলচারা এলাকায় গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি
শীতে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে আনা হতো এই অঞ্চলের
জেহাদীদের উজ্জীবত করার জন্য। আইলচারা ইউপি নির্বাচনে জামায়াত শিবির
নৌকার বিরুদ্ধে জোট বেঁধে তাদের প্রিয় নেতা সিদ্দিককে পূণরায় নির্বাচিত
করেছে। বটতৈল শিশির মাঠের পাশের গ্রাম কবুরহাট, আইলচারা। গ্রামীণ চিকিৎসক
বাউলভক্ত ছানাউর রহমান ছানাকে কুপিয়ে হত্যা ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত
প্রগতিশীল শিক্ষক সাইফুজ্জামানকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে। স্থানীয়
জামায়াত-শিবিরকে রক্ষার জন্য ঘটনার ২৪ ঘন্টা পর ‘আইএস’ দায় স্বীকার
করেছে। এখানে প্রশ্ন বটতৈল শিশির মাঠে আইএস এলো কিভাবে? তারা কোথায় ছিলো?
কোথায় উঠেছে? সেখানে তো কোন হেলিপ্যাড কিংবা এয়ারপোর্ট নেই যে আইএস
হেলিকপ্টার বা বিমানে এসেছে? তাহলে এখানে আইএস কারা? আর বাংলাদেশের এই
স্থানীয় আইএস শব্দের আভিধানিক অর্থ কি? জনসাধারণ একবাক্যে বলছে
‘বাংলাদেশে আইএস মানে ইসলামী ছাত্রশিবির’ যা আবারও প্রমাণিত হলো
কুষ্টিয়ার বটতৈলের শিশির মাঠে ডাঃ ছানাউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে আইএস
এর দায় স্বীকারের মাধ্যমে।
লেখক : তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ।

Advertisment ad adsense adlogger