নিউইয়র্ক থেকে, আব্দুল হামিদ ॥ জাতির জনকের কন্যা,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, দেশরতœ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বরণকালের ঐতিহাসিক সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ । একান্ত আলাপচারিতায় এমনটিই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি আপোষহীন নেতা ড. সিদ্দিকুর রহমান । ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা পৃথিবীর কাছে মাথা তুলে দাড়িয়েছে । যে বাংলাদেশকে বিশ্ব নেতারা সাহায্য গ্রহনকারী দেশ হিসাবে চিনতো সেই বাংরাদেশ আজ একের পর এক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফ্যল্যের সাক্ষর রেখে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মনোযোগ আকর্ষন করেছে । বিশ্ব নেতারা আজকে বাংলাদেশকে রোল মডেলের দেশ হিসাবে বিবেচনা করছে । আর এ সবই সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিধান্তের কারনে । নানান বাধা বিপত্তি পেরিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিখুত রাষ্ট্র পরিচালনার এই সিদ্ধহস্ত আজ বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে । ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বারের মত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জননেত্রীকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে । তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তা এবং ধর্য্যরে মাধ্যমে দূরদর্শী দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সকল বাধা অতিক্রম করে দেশকে সঠিক পথে পরিচলনা করছেন। সুধু দেশে নয় জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্ব নেতাদের কাতারেও তার শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছেন ।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তার গৃহিত পরিকল্পনা আজ বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে । এর ধারাবাহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জননেত্রীকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। জাপান টাইমসে তার লেখা প্রবন্ধ ইতিমধ্যে বিশ্ব দরবারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে । তিনি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন । সব মিলিয়ে আজ বিশ্বের মানুষ যে দেশটিকে ক্ষুধা,দারিদ্র ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের দেশ হিসাবে চিনতো সেই বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে চিনছে । আরও এই সবই সম্ভব হয়েছে গনতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিধান্তের কারনে ।
ড. সিদিকুর রহমান আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে ঐতিহাসিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে সেটা স্বরনকালের যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সবথেকে বড় আয়োজন । নেত্রী আগামী সেপ্টেমবারে জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক আসবেন আমরা ঐ সময়েই এই আয়োজনটি করার প্রস্তুতি নিয়েছি ।

জি-৭ সম্মেলন .জাপানের সৌন্দর্যমন্ডিত উপদ্বীপ ইসে-শিমায় এখন বিশ্বের সাত প্রধান শক্তিশালী দেশের শীর্ষ নেতারা অব¯’ান করছেন। সেখানে রয়েছেন এই সম্মেলেনের আউটরিচ বৈঠকে অংশ নিতে আসা কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মব্যস্ত দিন কাটছে। তিনি অংশ নিচ্ছেন আউটরিচের দুটি অধিবেশনে। এছাড়াও জি-৭ এর শীর্ষ নেতা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন শেখ হাসিনা।

সামিটে দ্য গ্রুপ অব সেভেন (জি-৭) এর সদস্য রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ইতালির প্রেসিডেন্ট মাত্তিও রেনজি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনঝো আবে অংশ নিচ্ছেন। আর আউটরিচ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন লাও পিডিআর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, শ্রীলঙ্কা ও শাদ’র সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানরা। বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয় আরও থাকছেন জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফ’র প্রেসিডেন্টরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফর সঙ্গীরা বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটে জাপানের নাগোয়া পৌঁছান। তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি ১০৭৮ ‘আকাশ প্রদীপ’ বৃহস্পতিবার (২৬ মে) স্থাানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় দেশটির নাগোয়া প্রদেশের চুবু সেন্ট্রার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রসহকারে নাগোয়ার হোটেল হিলটনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাত্রিযাপন করে শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে নাগোয়া থেকে ইসে-শিমার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন .সকাল সোয়া ৯টা নাগাদ ইসে-শিমা পৌঁছে সরাসরি যান শিমা-কানকো হোটেলে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাকে শুভেচ্ছা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবারেরর জি-৭ সম্মেলনের মূল আয়োজক শিনঝো আবে। তারই সরাসরি নিমন্ত্রণে এ বছর জি-৭ এর আউটরিচ অধিবেশনগুলোতে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি এই আউটরিচের এসব অধিবেশন চলছে। অধিবেশনের মাঝে আউটরিচের গ্রুপ ছবি তোলার সময় তাতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।