নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও সা¤্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কুষ্টিয়া শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের মজমপুর গেইট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে থানা মোড়স্থ বক চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড ফজলুল হক বুলবুল’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখে- বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আনিচুর রহমান মিথুন, যুবনেতা সোহেল রানা, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সরকার, কেন্দ্রীয় নেতা বীর মক্তিযোদ্ধা কম: মজিবর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির নেতা জননেতা নুর আহমদ বকুল।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের মাতৃভুমি বাংলাদেশকে নিয়ে নানান চক্রান্ত সুরু হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনা ও জংগিবাদের লাগাতর আক্রমনে বাংলাদেশকে পর্যুদস্ত করার চেস্টা করছে ঐ অপশক্তি। স্বাধিনতার পুর্বে থেকেই বাংলাদেশের অভ্যুদয় যারা মেনে নিতে পারেনি সেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও পাকিস্তানী ভাবাদর্শের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে চেতনা ও ভাবাদর্শগ ভাবে তাদের নিয়ন্ত্রনে নিতে চেষ্টা চালিয়েছে বারবার। বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বে ঐ শক্তির ছায়াতলে অনেক জংগিবাদি সন্ত্রাসি দল ধর্মিয় রাজনিতির মোড়কে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে এদেশের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক বতাবরন ধংস করেছে। এখন তারা চায় পুর্ন নিয়ন্ত্রন । বিশ্বপরিস্থিকে তাদের অনুকুলে মনে করছে তারা। যদিও বস্তবে তা সঠিক নয়।
বাংলাদেশের জন্মই হচ্ছে অসাম্প্রদায়ীক গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামের প্রথম ঘোষণাই ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা-গনতন্ত্র-জযাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র। এই দেশটিকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে চেয়েছিলাম। বাংগালির হাজার বছরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মিয় সম্প্রীতির এক এক অপুর্ব অর্জন আমাদের স্বাধিনতা এবং “৭২ এর সংবিধান তথা বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র। আমাদের এই দর্শন আমরা দাঁড় দাঁড় করিয়েছিলাম ৪ মৌলনীতির উপর । দুঃথজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধান বারবার বিতর্কিত হয়েছে উপেক্ষিত হয়েছে। আর সেই সুযোগে বেড়েছে ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশিল শক্তি। এদেশের লুটেরা ধনবাদি দলগুলোর সংকীর্ন ক্ষমতার লোভে ও আপোষের কারনে রাষ্ট্র চরিত্রের উপর আঘাত এসেছে। জাতিকে পুনরায় দাঁড় করতে হবে ঐ রাষ্ট্রীয় মূলনীতির উপর। জঙ্গিবাদ সাম্রাজ্যবাদ পরজিত হবে সেখানেই।
আধুনিক সভ্য সমাজব্যবস্থায় রাষ্ট্র কখনই বিশেষ ধর্মকে যেমন প্রশ্রয় দেয়না তেমনি ধর্মাশ্রয়ী কোন রাষ্ট্র পরিকল্পনা বা রাজনীতি করেনা। সেই নীতিই অনুসরন করতে হবে। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে ধর্মরাষ্ট্র, ধর্মযুদ্ধ কখনই কখনই মানব জাতির জন্য কল্যানকর নয়।
ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতি গোষ্টী তাদের স্বাধিনতা নিয়েই তাদের ধর্ম পালন কবে। এক্ষত্রে রাষ্ট্র থাকবে ধর্মনিরোপেক্ষ। কিন্তু ধর্মিয় অনুশাসনের নামে ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া যায়না। আজকে বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী ধর্মগোষ্টীর রাজনীতির নামে যে সন্ত্রাসবাদ সৃস্টি করা হয়েছে সেখানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সহ বিশ্বের যুদ্ধবাজ ও সমরবাদী অন্যান সাম্রাজ্যবাদি দেশগুলির রয়েছে সুদূর পরিকল্পনা।
এদের পরিকল্পনাতেই ৯/১১ সৃস্টি হয়েছে। লিবিয়া, সিরিয়া মিশর, ইরাক সহ সারা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে এবং আরবিয় জনগনের স্বাধীনতা ও গনতন্ত্রকে ধংস করে দিয়ে তাদের গৃহযুদ্ধে নিপতিত করেছে। আঞ্চলিকতা, সাম্প্রদায়িকতা, গোষ্টীবিভেদ, ধর্মের ফিকাহ পন্থীর লড়াইকে কৌশলে কাজে লাগিয়ে ঐ সকল দেশের লাখ লাখ নারী-পুরুষ-শিশুকে মৃত্যুরমুখে ঠেলে দিয়েছে। লক্ষকোটি মানুষকে উদ্বাস্ত করেছে। আইএসের জঙ্গিবাদ এতটাই নির্মম যে নারিদেরকে “গণিমতের মাল” আখ্যা দিয়ে যৌনদাসী ও ভোগের বস্তুতে রুপ দিয়েছে। বাংলাদেশের গুলশানে হলি আর্টিজানে নারীদের উপর নৃশংস আক্রমন সেই প্রমাণই রেখেছ। বাংলাদেশকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ জংগিবাদের সেই কৌশলেই আটকাতে চাচ্ছে। তথাকথিত আইএস এর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ জনবল তৈরী করে বাংলাদেশে জামাত শিবিরের ট্রেনিং পাওয়া লোকদের , তরুনদের হরকাতুল জেহাদ, আন্সারুল্লাহ বাংলাটিম, হিজবুত তাহরির, নব্য জেওএনবি নামে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্টির নাম দিয়েছে। যাদের প্রকৃত গর্ভধানিনী জামাত বিএনপি। সাম্রাজ্যবাদে এই খেলাকে পরাজিত করতেই হবে। ৭১ এর মুক্তি যুদ্ধে আমরা পাকিস্তান ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে প্রতিরোধ করেছিলাম সমস্ত জনগণ স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে। সেই চেতনে আমাদের মুছে যায়নি মলিন হয়নি বরং আরও শানিত হয়েছে। তাই এই মুহুর্তে জঙ্গিবাদী সাম্রাজ্যবাদি শক্তির বিরুদ্ধে ৭১ এর মত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর দাঁড়িয়ে সর্বস্তরের জনগনের সুদৃড় ঐক্য ও গনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। এই লড়াইয়ে দেশের সকল বাম প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক , বুদ্ধিজীবী, সামাজিক সংগঠনকে। ইতি মধ্যে লক্ষণীয় জংগিদের পিতামাতা যারা স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বে উদ্বুদ্ধ, ঘৃনায় নিজেদের জংগি সন্তানদের লাশ গ্রহন করেনি।
মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ আমরা এই জাতি কিছুতেই আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে দেবনা। কোন মতেই বিকিয়ে দিতে দেবনা লাখো শহিদের রক্ত আর মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ৫২, ৬৯, ৯০, আর শাহাবাগের মত ৭১ এর চেতনায় দিগন্তে আলোড়িত হোক। এদেশ তোমার, এদেশ আমার। এখানে জংগিবাদ – সাম্রাজ্যবাদ, পাকিস্তানী – মার্কিনী, সন্ত্রাসী-যুদ্ধবাজের কোনো ঠাই নাই।