আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে, আব্দুর রশিদ বাবলুকে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় দৌলতপুরবাসী

মাহাতাব উদ্দিন লালন
গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের আশ্রয়স্থল, ত্যাগী ও পরিশ্রমী জননেতা, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ৯ নং রিফাইতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও দৌলতপুরের অন্যতম বৃহৎ বাজার ঝাউদিয়া বাবলু বাজারের প্রতিষ্ঠাতা(জমিদাতা) আব্দুর রশিদ বাবলুকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় দৌলতপুরের সর্বস্তরের জনগণ। ১৯৭২ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যায়নকালে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের সফল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রিফাইতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাবলু। পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের এই সৈনিক প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রসৈনিক হিসেবে সামনের কাতারে অবস্থান করেছেন। এক সময় রিফায়েতপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিলো। বিএনপি নেতা প্রয়াত রবিউল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগের রাজনীতির গোড়াপত্তন করেন ত্যাগী এই নেতা। তিনি নির্বাচনের পূর্বেই ১৯৯০ সালে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষকে অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতে বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে অন্ধকার সমাজে আলো ছড়িয়ে দেন। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া বাজার হয়ে দিঘলকান্দি পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ সংযোগ স্থাপন করেন। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে যা ছিলো অকল্পনীয়। যেখানে এখনও অনেক উন্নত এলাকায় টেলিসংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় নি। রিফায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আব্দুর রশিদ বাবলু কখনও বসে থাকেননি। অবহেলিত, উন্নয়নবঞ্চিত রিফায়েতপুর ইউনিয়নের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত চেষ্টায় অত্র এলাকায় ৯ কিলোমিটার পল্লী বিদ্যুতায়ন করেন যা এই এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। তিনি তার কাজের মাধ্যমে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে জননন্দিত একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই সময় অত্র এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা ছিলো লাজুক।এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও এলাকার মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকারের নামে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে সেখানে বিশাল এক বাজার স্থাপন করেন। বাজারটির নাম ঝাউদিয়া বাবলু বাজার নামে জেলাব্যাপী সমাদৃত। এই বাজারটি প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রত্যন্ত গ্রামে বাজার অর্থনীতির চাকা সচল করতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ঝাউদিয়া বাবলু বাজার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেখানে শত শত মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করে তাদের রুটি-রুজি ও জীবিকা নির্বাহ করছে। পরিবর্তন এসেছে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে। বর্তমানে এই বাজারটি দৌলতপুর তথা পূরো জেলায় অন্যতম একটি বাজার হিসেবে এখানকার ব্যবসায়ীরা সুনামের সাথে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। কাঘহাটি ও ঝাউদিয়ায় নিজে জমি দান করে মসজিদ নির্মাণ, চুনিয়ামোড় মাদ্রাসার রাস্তার জন্য জমি দান করে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলামানদের মন জয় করেছেন। এছাড়াও প্রায় ৬০টি মসজিদ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা পাকাকরন, এলাকার মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরনকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক টিওবওয়েল স্থাপনের মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের সুযোগ কওে দিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত চেষ্টায় নারায়নপুরের মুচিয়াদহ ও সংগ্রামপুরের রুইয়ের বিল খননের মাধ্যমে এলাকায় মাছ চাষের সুযোগ করে দিয়ে একদিকে যেমন এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করেছেন অন্যদিকে এলাকার বেকার ও কর্মহীনদের নিয়ে সমিতি গঠনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
হরিনগাছি থেকে ঝাউদিয়া বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এইচবিবি পাকা সড়ক নির্মাণ, ১০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরী, নারায়নপুরের ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করেন। ঝাউদিয়া হাই স্কুলের ছাদ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধন করেন। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় দীঘলকান্দি হাই স্কুলের বন্যার্তদের জন্য নোঙর খানা খুলে বন্যার্থদের পাশে দাড়িয়ে সেই সময় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন জননন্দিত নেতা আব্দুর রশীদ বাবলু। সেখান থেকে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে সাবির্ক সহযোগিতা নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষের পাশে থাকেন। এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি মাথায় রেখে নিজ জমির উপর ১টিসহ মোট ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। রিফায়েতপুর ইউনিয়নকে বন্যা ও অতিবৃষ্টির ফলে ফসল নষ্ট হওয়া রোধে ও জরাবদ্ধতা দূরীকরনে নিষ্কাষনের ব্যবস্থা করেন। সেই সময় একটু বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়তো মানুষ। চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বাবলু নিজ উদ্যোগে গাজিপুর থেকে আন্দালবাড়িয়া হয়ে দিঘলকান্দি পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। ঝাউদিয়া বাবলু বাজারে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে টোল ঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তিনি রিফায়েতপুর ঈদগাহ’র সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে ধর্মীয় জায়গা সংরক্ষণ করেছেন। আব্দুর রশিদ বাবলু পারিবারিকভাবে ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি সারা জীবন রাজনীতি করেছেন মানুষের কল্যানে। গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের জন্য তার সহযোগিতা এলাকায় ব্যাপকভাবে সমাদৃত। জননেত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ট এই কর্মী সব সময়ই তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন রাজনীতি অসহায় মানুষের কল্যানে কাজে লাগিয়ে কিভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়।
আব্দুর রশিদ বাবলুর জনপ্রিয়তা তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতা, তার ত্যাগ, সাধারণ মানুষের প্রতি ভালবাসা সর্বপোরি নিজগুণে গুনান্বিত এই নেতাকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীতার জন্য দাবি জানিয়েছেন দৌলতপুরের সর্বস্তরের জনগণ। সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়াকে যে নেতা মূল্যয়ন করে সাধারণ মানুষের কল্যানে জীবন উৎসর্গ করেছেন তাকে সুযোগ প্রদান করলে উপজেলার মানুষ অবশ্যই উপকৃত হবে। দৌলতপুর উপজেলার সকল স্তরের মানুষ দাবি তুলেছেন আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের আশ্রয়স্থল, ত্যাগী ও পরিশ্রমী জননেতাকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীতা প্রদান করে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে দৌলতপুর উপজেলাবাসীর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবেন।

2019-01-13T21:23:03+00:00January 13th, 2019|রাজনীতি|
Advertisment ad adsense adlogger