ইউনিয়ন পরিক্রমা-৪ রিফায়েতপুর ইউনিয়নবাসী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রশীদ বাবলুকে পূণরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই

রিফায়েতপুর থেকে ফিরে মাহাতাব উদ্দিন লালন ॥ ১৯৭২ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যায়নকালে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পরপর দুইবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বাবলু। পারিবারিকভাবে বঙ্গবন্ধুর আ‘র্শের সৈনিক। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আ›ে‘ালন সংগ্রামে তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক। রিফায়েতপুর ইউনিয়ন ছিলো বিএনপি’র দূর্গ। বিএনপি নেতা প্রয়াত রবিউল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রিফায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগের রাজনীতির গোড়াপত্তন করেন। নির্বাচনের পূর্বেই ১৯৯০ সালে এলাকায় বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে অন্ধকার সমাজে আলো ছড়িয়ে দেন। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া বাজার হয়ে দিঘলকান্দি পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ সংযোগ স্থাপন করেন।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আব্দুর রশীদ বাবলু কখনও বসে থাকেননি। অবহেলিত, উন্নয়নবঞ্চিত রিফায়েতপুর ইউনিয়নের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ৯ কিলোমিটার পল্লী বিদ্যুতায়ন করেন। সরকারের নামে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করে সেখানে বিরাট বাজার প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রত্যন্ত গ্রামে বাজার অর্থনীতির চাকা সচল করেছেন। এলাকাবাসী ঐ বাজারকে ঝাউদিয়া বাবলু বাজার নামে জানে। যেখানে শত শত মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করে তাদের রুটি-রুজির জীবিকা নির্বাহ করছে।
কাঘহাটি ও ঝাউদিয়ায় নিজে জমি দান করে মসজিদ নির্মাণ, চুনিয়ামোড় মাদ্রাসার রাস্তার জন্য জমি দান করেন। এছাড়াও প্রায় ৬০টি মসজিদ, পাকা স্যানিটেশন ব্যবস্থা, এলাকায় একের পর এক টিওবওয়েল স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেন। নারায়নপুর মুচিয়াদহ ও সংগ্রামপুর রুইয়ের বিল খননের মাধ্যমে এলাকায় একদিকে যেমন মাছের চাহিদা পূরণ করেছেন অন্যদিকে বেকার ও কর্মহীনদের নিয়ে সমিতি গঠনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
হরিনগাছি থেকে ঝাউদিয়া বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এইচবিবি পাকা সড়ক নির্মাণ, ১০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরী, নারায়নপুরের ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করেন। ঝাউদিয়া হাই স্কুলের ছাদ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধন করেন।
১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় দীঘলকান্দি হাই স্কুলের বন্যার্তদের জন্য নোঙর খানা খুলেছিলেন জনদরদী চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বাবলু। সেখান থেকে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বাবলু।
এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ছিলনা বললেই চলে। তিনি এলাকার অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিজ জমির উপর ১টিসহ মোট ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের একটি বড় এলাকা যেখানে অতি বৃষ্টি ও বন্যার পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা ছিল না। একটু বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়তো মানুষ। চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ বাবলু নিজ উদ্যোগে গাজিপুর থেকে আন্দালবাড়িয়া হয়ে দিঘলকান্দি পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
ঝাউদিয়া বাবলু বাজারে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে টোল ঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তিনি রিফায়েতপুর ঈদগাহ’র সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে ধর্মীয় জায়গা সংরক্ষণ করেছেন।
৪০ হাজার মানুষের বাস রিফায়েতপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনতার প্রিয় মানুষ জননেতা আব্দুর রশীদ বাবলু। গত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ৩ জন প্রার্থী আর বিএনপি’র প্রার্থী ছিলো ১জন। আওয়ামীলীগের ৩ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পরাজিত হন তিনি। এলাকাবাসী সেই পরাজয়ের ব্যথা আজও ভুলতে পারেনি। তারা এবার বাবলু চেয়ারম্যানকে পূণরায় ভোট দিয়ে নৌকা প্রতীকের বিজয় ছিনিয়ে আনতে চায়। এলাকাবাসী জানান, আমরা বাবলু চেয়ারম্যানের কাছে ঋনি। এবার পূণরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে সেই ঋন পরিশোধ করতে চাই। হরনিগাছি গ্রামরে ষাটোর্ধ্ব হাজী ইনতাজ আলী জানান, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বিএনপি চেয়ারম্যান কোন উন্নয়ন করেনি। তাই এলাকার উন্নয়ন করতে হলে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের বিকল্প নেই। আর এই নৌকার একমাত্র উপযুক্ত প্রার্থী দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পরপর দুইবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান, রিফায়েতপুর ইউনিয়নের উন্নয়নের রুপকার জননেতা আব্দুর রশীদ বাবলু।

Advertisment ad adsense adlogger