ফাইনালে তাঁর খেলারই কথা ছিল না। আগের দিন অসুস্থ বোধ করছিলেন। খেলতে পারবেন না ভেবে বিষণ্ন মনে টিম হোটেলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। দলের ফিজিও এসে পিঠে হাত রেখে দিয়েছেন ম্যাচের সকালেই সেরে ওঠার আশ্বাস। ফিজিওর কথাই সত্যি হয়েছে। কাল সুস্থতা নিয়েই ঘুম ভেঙেছিল ফখর জামানের। অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানের জয়ের পথ বেঁধে দিয়েছেন এই টুর্নামেন্টেই ওয়ানডেতে অভিষিক্ত বাঁহাতি ওপেনার।

ভাগ্য তাহলে ফখরের সঙ্গী হয়েছে ঘুম ভাঙার সময় থেকেই। ভাগ্য ব্যাটিংয়ের সময়ও ছিল তাঁর ছায়াসঙ্গী। এমনিতে পিঞ্চ হিটার। কিন্তু কাল শুরুটা করেছিলেন দেখেশুনে। প্রথম বাউন্ডারি পেয়েছেন মুখোমুখি হওয়া দশম বলে। এর আগেই অবশ্য ফিরে যেতে পারতেন প্যাভিলিয়নে। জসপ্রিত বুমরার একটি বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। মহেন্দ্র সিং ধোনি ক্যাচটি তালুবন্দীও করেন। কিন্তু ওই যে ভাগ্য! বুমরার বলটি ছিল ‘নো’। আউট হওয়ার বদলে ‘ফ্রি হিট’ পেয়ে যান ফখর। এটিকে ভাগ্য বলে মানছেন নিজেও, ‘আমি ভাগ্যবান ছিলাম যে বলটি নো ছিল। ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল। আমি শুধু উপভোগ করতে চেয়েছি।’

ভাগ্যের ছোঁয়ায় ‘জীবন’ ফিরে পাওয়ার সুযোগটা দুহাত ভরে নিয়েছেন ফখর। আজহার আলীকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিংয়ে ১২৮ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দিয়েছেন। আজহারের পরই যখন আউট হয়েছেন, পাকিস্তান ৩৩.১ ওভারে ২ উইকেটে ২০০।

পাকিস্তানের ইনিংস শেষে ফখরকে কথার বলার জন্য ক্যামেরার সামনে টেনে নিয়ে যায় স্টার স্পোর্টস। ১০৬ বলে ১২টি চার ও তিনটি ছয়ে ১১৪ রান করা ফখর সেখানে নিজের ইনিংস নিয়ে কথা বলেছেন, ‘শুরু করতে আমি সময় নিয়েছি। উইকেট বুঝতে চেষ্টা করেছি। এরপর নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছি।’ স্বাভাবিক খেলা খেলে যে সেঞ্চুরিটা পেয়েছেন সেটি তাঁকে এনে দিয়েছে ম্যাচসেরার পুরস্কারও। সাঈদ আনোয়ার (২) ও শোয়েব মালিকের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এটি পাকিস্তানের হয়ে চতুর্থ সেঞ্চুরি। আর ভারতের বিপক্ষে বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তানের প্রথম।

অথচ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ফখরকে কজনই বা চিনতেন! এ বছরেরই মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর আবির্ভাব। কিন্তু নিজেকে চেনানোর মতো কিছু করতে পারেননি তখন। দুই ইনিংসে করেছিলেন ২৬ রান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে উঠতি তারকাদের তালিকায় তাঁকে রাখার লোক খুব বেশি ছিল না। নিজেদের প্রথম ম্যাচটি এই ভারতের বিপক্ষেই খেলেছে পাকিস্তান। কিন্তু একাদশে সুযোগ পাননি ফখর। ওই ম্যাচে আহমেদ শেহজাদের ব্যর্থতাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুযোগ করে দেয় ফখরকে। ওয়ানডে অভিষেকে ৩১ রান করেন এই ওপেনার। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয়ে করেছেন ৫০ রান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৫৭।

ইংল্যান্ডের ওভাল, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত—এই নামগুলো ফখর হয়তো কখনোই ভুলবেন না। ওয়ানডেতে আবির্ভাবেই যে চারপাশটা আলোকিত করলেন, এর সঙ্গে যে জড়িয়ে আছে নামগুলো।