ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু কাল প্রতিপক্ষ সাবেক দুই গুরুও

ঢাকায় কাল থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ। সীমিত ওভারের এ আসরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। আর এ আসরে টাইগার বাহিনীর অদৃশ্য লড়াই থাকবে আরো দুই জনের বিপক্ষে। তারা হলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও হিথ স্ট্রিক। এ দু’জনের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্ক অম্ল-মধুর। তারা ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানদের দীক্ষাগুরু।গতকাল তারা নতুন ভূমিকা নিয়ে ফের হাজির হয়েছেন ঢাকায়। তারা এখন নিজ নিজ দেশের প্রধান কোচ।
২০১৪ সালে হারের বৃত্তে বন্দি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দেয়ালে পিঠ ঠেকার অবস্থা। সেসময় বোলিং কোচ হয়ে এসেছিলেন জিম্বাবুয়ের হিথ স্ট্রিক। একই সময়ে প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেন শ্রীলঙ্কান হাথরুসিংহে। তাদের কোচিংয়েই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে ওয়ানডেতে ঘরের মাঠেই নয়, বিদেশেও টাইগারদের সাফল্য পায় অন্যমাত্রা। কিন্তু ২০১৬ চুক্তি শেষ হতেই মেয়াদ না বাড়িয়ে ভারতের একটি একাডেমির কোচ হতে চলে যান হিথ। সেখানেও স্থায়ী হননি বেশিদিন। একই বছর নিজ দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে হাথুরুসিংহের বিদায়ের ক্ষতটা একেবারেই টাটকা। আর টাইগারদের বিপক্ষেই তিনি শুরু করতে যাচ্ছেন নতুন মিশন। এ দুই কোচ বেশ ভালোভাবেই জানেন সাবেক শিষ্যদের শক্তি-দুর্বলতা। যে কারণে লড়াইয়ের আমেজ ছাড়িয়ে যাবে মাঠের বাইরেও।
গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে যখন হিথ স্ট্রিক পা রাখেন তখন চন্ডিকা তার দল নিয়ে হোটেলে বিশ্রামে। জিম্বাবুয়ে দল বাংলাদেশে এসেছে কয়েকটিভাবে ভাগ হয়ে। তাই এখনো দলের সবাইকে এক সঙ্গে পায়নি তারা। তবে অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন কোচ হিথ স্ট্রিক। কোচ হিসেবে হাথুরুসিংহের সঙ্গেই কেটেছে বাংলাদেশে তার সময়। তার মতোই হঠাৎ টাইগারদের ছেড়ে চলে যান চন্ডিকা।
দু’জন ভালই করছিলেন। কেন এভাবে চলে গেলেন! আর নিজের পর হাথুরুর চলে যাওয়াকে কিভাবে দেখছেন তিনি? হিথ বলেন, ‘এটা বলা কঠিন, ওই সময়টায় আমি ছিলাম না। দিনশেষে সে একজন শ্রীলঙ্কান। অবশ্যই নিজ দেশের হয়ে কাজ করা অনেক বড় ব্যাপার। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের কোচ হওয়া বা অন্য কোনো দেশের কোচ হওয়ার চেয়ে নিজ দেশে কোচিং করানোর সুযোগ এলে বেশিরভাগ মানুষ সেটাই করতে চাইবে। আমি মনে করি বাংলাদেশে সে খুব ভালো কাজ করেছে, তার অধীনে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য পেয়েছে। ৩ বছরের চুক্তি কঠিন। সে সময় তার স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় ছিল। নিজ দেশের হয়ে কাজ করা মর্যাদার। যে কোনো মানুষের জন্য।’
হাথুরুসিংহে দায়িত্ব ছেড়েছেন গেল মাসে। টানা তিন বছর বাংলাদেশই ছিল তার ঘরের মতো। অন্যদিকে এক বছরের বেশি সময় পর বাংলাদেশে আসলেন হিথ স্ট্রিক। তারপরও বাংলাদেশকে তিনি এখনো নিজের ঘরের মতোই মনে করেন। যে কারণে বাংলাদেশে এসে বলতে দ্বিধা করেননি এ যেন তার ঘরের বাইরে আরেক ঘর। তিনি বলেন, ‘এটা অনেকটা বাড়ির বাইরে নিজের আরেক বাড়িতে আসার মতই। খুবই ভালো লাগছে। খুব বেশিদিন হয়নি আমি এখানে দুই বছর কাটিয়ে গেছি। যা হোক ভালো একটি ত্রিদেশীয় সিরিজের আশা করছি। হাথুরুসিংহে ও বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুজনের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমার মনে হয় পুরো সিরিজ জুড়েই আমাদের চ্যালেঞ্জ থাকবে।’ বাংলাদেশের কোচ থাকার পুরো সুবিধাটাই যে সাবেক এ দুই কোচ নিবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হিথের হাতেই এ দেশের পেস বিভাগের আমুল পরিবর্তন এসেছে। অধিনায়াক মাশরাফি, রুবেল হোসেন থেকে মোস্তাফিজুর রহমান সবার সামর্থ্য ও দুর্বলতা তিনি জানেন। আর প্রধান কোচ থাকায় হাথুরুতো জানেন আগাগোড়া সবই। তাই হিথের কণ্ঠে ঝরলো আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য। তিনি ছাড়াও হাথুরুও যে এ সুবিধা নিবে। হিথ বলেন, ‘আমরা যেমন এখানকার প্লেয়ারদের ও কন্ডিশন সম্পর্কে জানি। তেমনি হাথুরুও জানে। তাছাড়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন প্লেয়ার এখানে বিপিএল খেলেছে। এতে করে টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ ও মাঠের পরিকল্পনা ভালোভাবে করার একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।’ কোচের মতেই সায় দিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারও। সদ্য বিপিএলে খেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এ সিরিজে কাজে লাগাবেন বলেই জানান তিনি।

 

2018-01-14T10:00:57+00:00January 14th, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger