সুজনের লক্ষ্য শিরোপা

ত্রিদেশীয় সিরিজে আজই নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এবার কোন প্রধান কোচ ছাড়াই দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে মাঠের এ লড়াইয়ে নামতে হবে। যার হাত দিয়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য এসেছিল সেই চান্দিকা হাতুরাসিংহে এখন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। সফল সেই দলটি সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে চরম ভরাডুবির শিকার হয়েছে। এবার ঘরের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ বলেই আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। দলের সাফল্য ধরে রাখার জন্য এবার দলকে নিয়ে কাজ করেছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি দাবি করেছেন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ দল। ত্রিদেশীয় সিরিজে আজ উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে সুজন ঘোষণা দিলেন এই টুর্নামেন্টে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে কোন চাপ অনুভব করছেন না তিনি, বরং সবার সঙ্গে পরিচিতি ও সদ্ভাব থাকায় কাজটাকে সহজ মনে করছেন সুজন। গত বছর সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ দল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সেই তিন ম্যাচের সিরিজই ছিল সর্বশেষ ওয়ানডে খেলা। এছাড়া দেশের মাটিতে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া দলটি ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে আর কোন ওয়ানডে খেলেনি নিজেদের মাটিতে। নতুন বছরের শুরুতেই এখন নতুন চ্যালেঞ্জ টাইগারদের। এ বিষয়ে সুজন বলেন, ‘আমরা তো ভাল করার জন্যই কদিন অনুশীলন করলাম। আমরা মনে করি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত। এই টুর্নামেন্টে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ শেষ হওয়ার পর থেকে আর কোন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা খেলতে পারেননি। কয়েকজনের সুযোগ হয়েছিল জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) শেষ রাউন্ডে চারদিনের ম্যাচ খেলার। সেদিক থেকে দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলা ছাড়াই এবার নামতে হবে বাংলাদেশ দলকে। এ বিষয়ে সুজন বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট কিছু কাজের প্রতি নজর দিয়েছিলাম। আমরা বেশ ভালভাবেই প্রস্তুত। আমরা যা করতে চেয়েছি সেটা পেরেছি। পেস বোলার নিয়ে ওই সময় কাজ করেছি। যেটা আমাদের চিন্তায় ছিল নতুন বলের বোলিংটা। উইকেট নেয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে কোন ফরমেটে। বোলারদের সঙ্গে কাজ করে চেষ্টা করেছি যত টাইট আমরা রাখতে পারি লাইন ও লেন্থ।’

এবার সুজন কাজ করেছেন পেসারদের নিয়ে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে বোলিং লেন্থ, নতুন বলে সুইং ইত্যাদি নিয়ে পেসারদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে অভিজ্ঞদের চেয়ে তরুণদের নিয়েই এক্ষেত্রে বেশি মনোযোগী ছিলেন। তবে কি ঘরের মাটিতেও এবার পেসারদের নিয়ে কিছু করতে চান সুজন? তিনি বলেন, ‘স্পিন আমাদের শক্তির জায়গা। সেই সঙ্গে পেস বোলাররা আমাদের জন্য চালিকা শক্তি। আমরা পাঁচজন স্পিনার নিয়ে খেলতে পারব না নিশ্চয়ই। তো পেস বোলিংটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পেস বোলিংয়ে আমাদের বৈচিত্র্য আছে। অভিজ্ঞ মাশরাফি লিড দিবে। যারা আছে সবাই ভিন্ন রকমের বোলার। পেস বোলারদের থেকে আমাদের চাওয়ার আছে আসলে।’ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বরাবরই সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা তিন নম্বর পজিশনে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে সেখানে আবারও ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। এ বিষয়ে সুজন বলেন, ‘এটা আমাদের একটা চিন্তা ছিল। আমাদের একটা ফিট তিন নম্বর কেউ হচ্ছিল না, আমরা চাই যে ওখানে কেউ একজন নিয়মিত খেলুক। আমরা অনেক চিন্তা করে দেখেছি যে অভিজ্ঞ কাউকেই এখানে খেলা উচিত। আমরা সাকিবকে পছন্দ করেছি এখানে ব্যাট করার জন্য। আমি মনে করি সাকিব খুব আক্রমণাত্মক, সেই সঙ্গে এমন পজিশনে চাই যে যার কিনা কন্ডিশনে নিজেকে পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখে। আমরা ঠিক করেছি যে সাকিবকে পর্যাপ্ত সময় দিব তিন নম্বরে।’ দলে ফিরেছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও পেসার আবুল হাসান রাজু। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভাল করার পুরস্কার হিসেবে তারা জায়গা করে নিয়েছেন। সুজন আশা করছেন দু’জনই ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্যটাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের খুব ভালভাবে মেলে ধরতে পারবে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করলেও এখন মূলত কোচের দায়িত্বটাই পালন করছেন সুজন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চাপের কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয় একটা সুযোগ আমার জন্য। যাদের সঙ্গে আমি কাজ করছি এরা আমার চেনা। তারা সবাই খুবই সহায়ক। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও আমি সাড়ে তিন বছর কাটিয়েছি। খেলোয়াড়দের মধ্যে মাশরাফি তো বলতে গেলে আমার টিমমেটই। সুতরাং আমার জন্য এদের সঙ্গে কাজ করা সহজই। তরুণ যারা আছে, তারা যদি পারফর্ম করা শুরু করে আমি মনে করি আমাদের দলটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে

2018-01-15T10:48:41+00:00January 15th, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger