ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। পঞ্চম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন। তিনি জানালেন ক্যারিয়ারে অন্তত ২৫০/৩০০ উইকেট শিকার করাই লক্ষ্য তার। কিন্তু এক শ’ উইকেট ঝুলিতে পুরতেই ২৮ বছর বয়সী রুবেলের ঠিক ৯ বছর এবং ৮১ ম্যাচ খেলতে হয়েছে। যে লক্ষ্যের কথা বলেছেন সেটা ছোঁয়া কি সম্ভব হবে? রুবেল অবশ্য স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা এবং বেশি বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগের ওপর বিষয়টি নির্ভরশীল বলেই মনে করছেন। শুক্রবার কিছুটা কঠিন প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হতে হবে যে দলটির কোচ এখন বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়া চান্দ্রিকা হাতুরাসিংহে। কিন্তু বিষয়টিকে সেভাবে আমলে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। রুবেল দাবি করলেন জেতার জন্যই নামবেন তারা এবং অন্যকিছু মাথায় না নিয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা রাখতে চায় দল। বুধবার দলের অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। জিম্বাবুইয়েকে ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত করে দারুণভাবে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল নতুন বছর। তবে পরের ম্যাচে শক্ত প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশ সতর্কই থাকতে হবে দলকে। এ বিষয়ে রুবেল বলেন, ‘আমরা গত ম্যাচ দারুণ খেলেছি। এই ধারাবাহিতটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। হাতুরাসিংহে প্রতিপক্ষ দলের কোচ। আমরা এতকিছু নিয়ে ভাবতে চাই না। আমরা সামনের ম্যাচ জিততে চাই। আমরা পেস বোলাররা, স্পিনাররা, ব্যাটসম্যানরা ঐভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের হোম কন্ডিশনে খেলা। আমি জানি আমরা কতটা বেশি কার্যকরী। আমরা আগে কিভাবে সাফল হয়েছি। এই ব্যাপারটা সবাই জানে। অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার আছে তার জানে কি করতে হবে। তারা খুব সহায়ক। সবাইকে সাহায্য করতেছে।’ বাংলাদেশের এই দলটি সম্পর্কে লঙ্কান কোন হাতুরাসিংহে বেশ ভালভাবেই জানেন। আর সেটা এখন টাইগারদের জন্য হতে পারে বড় চিন্তার কারণ। কিন্তু রুবেল এ বিষয়টিকে মোটেও আমলে নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘হাতুরাসিংহে কিংবা শ্রীলঙ্কা কোন ফ্যাক্টর না। আমরা এসব মাথায় নিচ্ছি না। সম্প্রতি কোচ চলে গেছে ওখানে। এটা সবার মাথায় আছে। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগুনোর চেষ্টা করব।’ আগের ম্যাচে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেছেন পেসাররা। ১০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন রুবেল। তার লক্ষ্য অবশ্য ক্যারিয়ারে আরও বেশি উইকেট শিকারের। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের শততম ম্যাচে দর্শক হিসেবেই থাকতে হয়েছে স্বাগতিকদের। এ বিষয়ে রুবেল বলেন, ‘একশতম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলতে পারলে অবশ্যই ভাল লাগত। ওদের দলে ভাল পেস বোলার আছে। আমাদের দলেও ভাল পেস বোলার আছে। মাশরাফি ভাই খুব টাচে আছে। সে সবসময় ভাল বোলিং করে। মুস্তাফিজও ভাল জায়গায় আসছে। এটা খুব ভাল ব্যাপার। আমার কাছে মনে হয় আমরাই সেরা। এক শ’ উইকেট পেয়েছি ৮/৯ বছরে। এর মধ্যে এক বছর ইনজুরিতে ছিলাম। অনেক বছর লাগল। টার্গেটতো এখন তেমন নাই; তারপরও চাই ২৫০-৩০০ উইকেট পেতে। এটা অনেক কঠিন। তবে আশা করতে দোষ কী? স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে তো দোষ নাই।’ সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য নতুন বলে বোলিংয়ের সুযোগ তেমন পান না রুবেল। পুরনো বলে রিভার্স সুইং এবং ভাল ইয়র্কার করার সামর্থ্য আছে তার। সেজন্য বলটা একটু পুরনো হলেই তিনি আক্রমণে আসেন। এ বিষয়ে রুবেল বলেন, ‘নতুন বলে অবশ্যই বোলিং করতে ইচ্ছা করে। আমি নতুন বোলিং করার জন্য অনেক কাজ করছি। আমি প্রস্তুত সব সময়ের জন্য। অধিনায়কের যখন যেখানে দরকার মনে করবে আমি প্রস্তুত আছি বোলিং করার জন্য। সাধারাণত মাশরাফি ভাই নতুন বলে বোলিং করে। উইকেট বুঝে বল করে। আমি অবশ্যই চাই নতুন বলে বোলিং করতে। আমরা তো অনুশীলন করি নতুন বলেই। এইটাই আর কি। আক্ষেপ একটু আছেই।’ মিরপুরের বর্তমান উইকেট বেশ ভাল বলেই দাবি করলেন রুবেল। তিনি বলেন, ‘উইকেট খুব সুন্দর। ভাল ব্যাটিং করতে পারলে ভাল রান করা সম্ভব এখানে। স্পিনেও খুব সহয়তা আছে। মুস্তাফিজের খুব ভাল কাটার ধরছে। ব্যাটসম্যানরা যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারে, তবে এই উইকেটে ভাল রান তোলা সম্ভব। আমার অনেক দুর্বলতা আছে। এখনও অনেক বল শেষ দিকে ইয়র্কার ও রিভার্স সুইং করতে পারি না। যদিও ভাল হচ্ছে, তারপরও আমি চাই আরও ভাল হোক। বাটারফ্লাই নিয়ে এখনও কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ সময়মতো সুযোগ পেলে করতে পারব। আমার বলের গ্রিপ ও বল ভেজা থাকলে আমরা জন্য বল মারাটা অনেক কঠিন হয়। ডে ম্যাচগুলোতে কাজে লাগতে পারব।’