হাতুরার কারণে মর্যাদার ম্যাচ ভাবছে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে গেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে জয় পেয়ে শুভ সূচনা করেছে। নতুন বছরে প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে। এবার বাংলাদেশের সামনে ‘কঠিন’ পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আজ শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর ১২টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াই করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ‘মর্যাদা’র ম্যাচ হয়েও ধরা দিচ্ছে।
দেশের মাটিতে খেলা। বাংলাদেশ যে এখানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী তা লঙ্কানদের হারিয়ে বোঝাতে হবে। শ্রীলঙ্কা দলের কোচ এখন চন্দিকা হাতুরাসিংহে। বাংলাদেশের সাবেক কোচ তিনি। এ সিরিজের আগেই প্রধান কোচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। পদত্যাগ করে শ্রীলঙ্কার কোচ হয়েছেন। তিনি থাকার সময় বাংলাদেশ দল অনেক সাফল্য পেয়েছে। সেই সাফল্যগুলো যে তার একক কৃতিত্বে নয়, ক্রিকেটারদের ভাল খেলার জন্যই হয়েছে সেটি বুঝিয়ে দিতে হবে। এ জন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প পথ খোলা নেই। হাতুরাসিংহে না থাকলেও যে বাংলাদেশ দল একই গতিতে চলার ক্ষমতা রাখে সেটিও তো বুঝিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি যে দলটির জন্য বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন হাতুরাসিংহে সেই দলটিকে হারাতে পারলে তো তাকেও জবাব দেয়া হবে। যদিও বাংলাদেশ দল, দলের ক্রিকেটাররা এসব নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না। তাদের ভাবনাজুড়ে আছে কিভাবে সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়। যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথে প্রথম জয় মিলেও গেছে। যদি শ্রীলঙ্কাকেও শুক্রবার হারানো যায় তাহলে ফাইনালে খেলার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা অবশ্য এ বিষয়টা ব্যাখ্যা করতেও চেয়েছেন। সিরিজ শুরুর আগেই বলেছিলেন, ‘দেখেন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে যারা খেলোয়াড় আছে তারা অনেক বড় মানসিকতা নিয়ে ঘোরে। অন বিহ্যাফ অফ দ্য প্লেয়ার আমি হাতুরাসিংহেকে স্যালুট জানাই। অবশ্যই তার আন্ডারে খেলে আমরা ভাল ফল পেয়েছি। অবশ্যই ক্রেডিট তাকে দিতে আমাদের বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ নেই। আমরা এমন না যে তাকে ক্রেডিট দিতে চাই না।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আবার আমাদের বলতে হবে গত ২০ বছরে আমরা এক্সিকিউশন করেছি। আমাদের তামিমের রেকর্ড, মুশফিকের রেকর্ড শেষ বছরে যদি দেখেন। সাকিবের ম্যাক্সিমাম ক্যারিয়ার যদি দেখেন। মুস্তাফিজ আছে। এগুলো যদি আলাদা আলাদা করে দেখেন, গত বছরগুলোতে কোচ তাদের বিশেষ কিছু করে দেয়নি। তাদের নিজেদের এটা করে নিতে হয়েছে। আলটিমেট প্রেসারটা তাদের (ক্রিকেটারদের) নিতে হয়েছে। তারা করে নিয়েছে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যখন এক ’শ মারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তখন আমার কাছে মনে হয়নি কেউ ওখানে গিয়ে তাদের আলাদা করে ধরে খেলিয়ে দিয়ে আসছে। সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছে এবং পারফর্মেন্স করেছে। আমি যেটা মনে করি যেই কোচ থাকুক, তাকে শতভাগ আমরা ব্যাক করেছি, খেলোয়াড়রাও। আমাদের বলতে সেটা দ্বিধা নেই। আবার ক্রেডিট ছেলেদের দিতে হবে যেভাবে তারা খেলেছে, আমার বিশ্বাস এখন যারা কোচিং স্টাফ আছেন হ্যালসাল, সুজন চাচা আছেন, আমরা ওনাদেরও হানড্রেড পারসেন্ট ব্যাকআপ দেয়ার চেষ্টা করব এবং উনারাও আমাদের হানড্রেড পারসেন্ট ব্যাকআপ করছে। অবশ্যই পেশাদারিত্ব দেখিয়ে সবকিছু চলবে এবং চলছে। গুড লাক টু হাতু। আমরা আমাদেরটা নিয়ে বেশি চিন্তা করছি।’ আজ ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার মাশরাফি এও জানিয়ে দিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এসব ম্যাটার করে না। ব্যাক অব মাইন্ডে এটা তো থাকে ম্যাচটা খেলতে হবে, জিততে হবে। এর বাইরে কোন সুযোগই নাই চিন্তা করার। চিন্তা করলে হয়কি আল্টিমেটলি আরও বেশি চাপ আসে। আমার কাছে মনে হয় খেলার দিকেই সবার মনোযোগ থাকে। সেটাই আছে আমরা যেন আরও ভাল খেলি। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি সেভাবে খেলি। ওইদিকেই সবাই ভাবছে আর এটাই হয়।’ মাশরাফি বুঝিয়েই দিয়েছেন, সাফল্যগুলো শুধু কোচের কল্যাণেই নয়। ক্রিকেটাররা মাঠে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বলেই সম্ভব হয়েছে। মাঠে তো আর কোচ খেলে না। অবশ্য হাতুরাসিংহে যে দল সম্পর্কে ভালই জানেন, তাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফি, ‘আমাদের পুরো দল সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকতে পারে। হাতুরাসিংহে রিসেন্টলি গিয়েছে। তার এ্যানালাইসিস কিছুটা হলেও ক্লোজ হতে পারে। সে আমাদের শেষ সিরিজেও ছিল। ওদের চিন্তা-ভাবনা যে পরিকল্পনা করতে পারে সেটা আমাদেরও সবাই জানে। আমাদেরও ওভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের পরিকল্পনার মিনিমাম ৭০-৮০ ভাগ যদি মাঠে প্রয়োগ করতে পারি তাহলে আশাকরি সমস্যা হবে না। আমাদের নজর এখন সেখানেই।’ সেই নজর দিয়ে প্রথম ম্যাচ জেতাও গেছে। জিম্বাবুইয়ের বর্তমান প্রধান কোচ হিথ স্ট্রিকও তো বাংলাদেশের সাবেক বোলিং কোচ ছিলেন। তিনিও বাংলাদেশ দল সম্পর্কে ভালই জানেন। কিন্তু মাঠে তো খেলে ক্রিকেটাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকদের তাই প্রমাণ করতে হবে। হাতুরাসিংহে দলে থাকতে সব হয়েছে এমন নয়। ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যেই সব হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা না গেলে কথা উঠবে, হাতুরাসিংহে না থাকাতে দলের এমন হাল। আবার এটাও কথা উঠবে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে লঙ্কানদের বদলে ফেলছে হাতুরাসিংহে। হাতুরাসিংহের ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কাও। এই কথাগুলো থেকে মুক্ত থাকতেও বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেতে হবে। বাংলাদেশের সামনে তাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘মর্যাদা’র লড়াই অপেক্ষা করছে। তবে সাকিব এসব বিষয় নিয়ে একেবারেই ভাবতে নারাজ। তিনি বলেছেন, ‘নতুন বছরের শুরুটা ভাল হলো। সেদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু একটা তিন জাতির সিরিজ খেলছি, সেহেতু মোমেন্টামটাও গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দিবে। যেহেতু মনে করি যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। এটা তাই মানসিক দিক থেকে অনেক সাহায্য করবে।’ হাতুরাসিংহের জন্যই বাংলাদেশের আজকের ম্যাচটি ‘মর্যাদার’ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। সেই হাতুরাসিংহেকে নিয়ে কোন ভয় নেই। ভয় নেই শ্রীলঙ্কাকে নিয়েও। বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসাল যেমন বলে দিয়েছেন, ‘সে খুব ভাল একজন কোচ। কিন্তু প্রথম ম্যাচে আপনি দেখেছেন, তামিম ইকবাল রান করেছে, সাকিব আল হাসান উইকেট নিয়েছে। চন্দিকা (হাতুরাসিংহে) রান করতে পারবে না কিংবা উইকেটও নিতে পারবে না।’ বুঝিয়ে দিয়েছেন হাতুরাসিংহে কোন বিষয় নয়। পেসার রুবেল হোসেন তো হাতুরাসিংহে কিংবা শ্রীলঙ্কাকে পাত্তাই দিতে রাজি নন। রুবেলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সামনের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দুটো, এক, কোচ হাতুরাসিংহে, দুই, শ্রীলঙ্কা; এমনিতেই একটা চ্যালেঞ্জ চলে আসে কিনা? রুবেল বলেছেন, ‘আমরা গত ম্যাচ দারুণ খেলছি। এই ধারাবাহিতটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। হাতুরাসিংহে প্রতিপক্ষ দলের কোচ। আমরা এতো কিছু নিয়ে ভাবতে চাই না। আমরা সামনের ম্যাচ জিততে চাই। আমরা পেস বোলাররা, স্পিনাররা, ব্যাটসম্যানরা ওইভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। হাতুরাসিংহে কিংবা শ্রীলঙ্কা কোন ফ্যাক্টর না। আমরা এসব মাথায় নিচ্ছি না।’ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। তেমন খেলা গেলে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারবে বাংলাদেশও। দেখা যাক এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘মর্যাদা’র লড়াইয়ে কি করে মাশরাফিবাহিনী

2018-01-19T10:50:05+00:00January 19th, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger