‘বড় ইনিংস খেলা অভ্যাসের ব্যাপার’

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে গেছেন ইতোমধ্যেই। ১১ বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নিয়মিত খেলছেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। বাজে পারফর্মেন্সের জন্য বাদ পড়েননি একবারও। উল্টো সব ফরমেটের ক্রিকেটেই ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছেন তিনি। আক্রমণাত্মক মেজাজ তার ব্যাটিংয়ের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলেও এখন অনেকটাই থিতু ও পরিণত হয়েছেন তামিম। তবে ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই এসেছে অনেক উত্থান-পতন। দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন জাতীয় দলে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য বড় ইনিংস উপহার দিতে পারেননিÑ করেছেন ১৯ ও ৩৫ রান। তবে তামিমকে দেখে এখন অনেক কিছুই শিখছেন তিনি। বিজয় দাবি করেন বড় ইনিংস খেলা অভ্যাসের ব্যাপার। তামিমকে অনুসরণ করে সেটাই করে দেখানোর চেষ্টায় আছেন এ ডানহাতি ওপেনার। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ দল। ভাল নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতাও এসেছে। নতুন বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক মিশন- ত্রিদেশীয় সিরিজেও দারুণ খেলছে টাইগাররা। দলের ড্রেসিং রুমটা এখন অভিজ্ঞতায় ভারি। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা ওপেনার এনামুল হক বিজয় তাই দাবি করলেন বাংলাদেশ দল এখন অনেক বড়। দুয়েকজন পারফর্মারের ওপর নির্ভরশীল নয় এখন টাইগাররা। দলগত নৈপুণ্যেই আসছে ভাল ফলাফল। এ বিষয়ে বিজয় বলেন, ‘আমরা সবাই এখন দল হিসেবে খেলছি। সবাই চেষ্টা করছে বাংলাদেশকে বড় জায়গায় নিয়ে যেতে। ড্রেসিংরুমে থাকলে একটা ভাল লাগা কাজ করে; তামিম ভাইয়ের ১১ হাজার রান, সাকিব ভাইয়ের ১০ হাজার রান, মুশফিক ভাইয়ের ৩০০ ম্যাচ, মাশরাফি ভাইয়ের নেতৃত্ব, রিয়াদ ভাইয়ের মতো দারুণ লড়াকু। এ রকম যারা আছে, মুস্তাফিজের মতো এ রকম একজন খেলোয়াড় আছে। ড্রেসিং রুমটা এখন এমন যেখানে থাকলে মনে হয় আমাকেও আরও ভাল কিছু করতে হবে। ড্রেসিংরুমে থাকলে মনে হয়, বাংলাদেশ এখন অনেক বড়।’ বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুম এখন বেশ অভিজ্ঞতায় পুষ্ট। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন শনিবার বলেছেন, বাংলাদেশ দল এখন ৬০ বছরের অভিজ্ঞ। বিষয়টি বুঝতে পারছেন বিজয়ও। আর সবাই পারফর্মও করছে নিয়মিত। দলগতভাবেই সেজন্য আসছে একের পর এক সাফল্য। এ বিষয়ে বিজয় বলেন, ‘একটা ব্যাপার হলো আমাদের দলে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার আছে। যারা একা হাতে ম্যাচ জেতাতে পারেন, যে কোন জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন। এ ছাড়া সবাই স্বাধীনতা নিয়ে খেলছে, যা খুব দরকার ছিল।’ বিজয় ফেরার পর বেশ ভাল অবস্থায় দেখছেন দলকে। টানা দুটি জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এটা আরও নির্ভার করেছে তাকে। এ বিষয়ে বিজয় বলেন, ‘জেতার পর সবারই ভাল লাগার বিষয় থাকে। অবশ্যই সবাই ভাল খেলছে। আমরা দল হিসেবে ভাল খেলতে পারছি। অবশ্যই একটা ভাল লাগার বিষয় থাকে। আর ভাল লাগার বিষয় যেখানে থাকে সেখানে একটু নির্ভার তো থাকেই।’ দল থেকেও স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে বিজয়কে নিজের মতো করে খেলার। তবে সবসময়ই বড় ইনিংস খেলার দিকে মনোযোগ বিজয়ের। তিনি সে জন্য তামিমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকেই অনুসরণ করার কথা ব্যক্ত করেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় বড় ইনিংস খেলা একটা অভ্যাসের ব্যাপার। তামিম ভাইকে দেখলে বুঝতে পারি। তিনি ২০১৫ সাল থেকে যেভাবে বড় ইনিংস খেলে যাচ্ছেন আমার মনে হয় জুনিয়র ব্যাটসম্যান হিসেবে এটা আমার জন্য শিক্ষণীয় ব্যাপার। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় হিসেব কষে ঝুঁকি নেয়াটা জরুরী। তামিম ভাই মাঝ মাঝে ঝুঁকি নেয়। একজন বোলারকে সুবিধা মতো পেলে দুইটা বাউন্ডারি মেরে দিলে রানরেটটা কাছাকাছি চলে আসে। আমি একজন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ভাইকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।’ বিজয় প্রথম দুই ম্যাচে ভাল ব্যাটিংয়ের নমুনা দেখালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। কিন্তু ছোটখাটো ভুলগুলো শোধরাতে পারলে বড় ইনিংস খেলা সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি। বিজয় বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় বড় রান তাড়াতাড়িই আসবে। যদি ছোট ছোট বিষয় ঠিক করা যায়। তামিম ভাই সবসময় খুব সমর্থন করেন। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ভাইয়ের চেয়ে সহায়ক কেউ নেই। তামিম ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাটিং করা গর্বের ব্যাপার। বাংলাদেশে এতো বড় একজন ওপেনার জন্ম নিয়েছেন এটা বিরাট ব্যাপার। মাত্র তো দলে ফিরলাম, আশাকরি সামনে আরও বেশি কিছু শিখতে পারব এবং বড় কিছু করতে পারব।

2018-01-22T07:32:38+00:00January 22nd, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger