ত্রিদেশীয় সিরিজে আগেভাগেই চাপমুক্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টানা দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে নিশ্চিত হয়েছে ফাইনাল। এখন অপেক্ষা শিরোপা লড়াইয়ের প্রতিপক্ষের জন্য। ফাইনালে যে দলটিই উঠুক, এর আগে উভয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একটা রিহার্সেল সেরে ফেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচ। এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য নিজেদের পারফর্মেন্সের উন্নতি ঘটানো এবং পাশাপাশি ভুলগুলো শুধরে নেয়ার। এর সঙ্গে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্য একটি রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে। আজকের ম্যাচটি জিততে পারলেই তিনি বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বাধিক জয় পাইয়ে দেয়া অধিনায়কের রেকর্ড গড়বেন। এই মুহূর্তে হাবিবুল বাশার সুমন ও মাশরাফি একই অবস্থানে আছেন দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৯ ওয়ানডে জয় এনে দিয়ে। তবে জিম্বাবুইয়ের জন্য আরেকটি পরীক্ষা। আজ জিততে পারলে ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখবে তারা। তবে হারলেও ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকবে ফাইনালে যাওয়ার। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে শ্রীলঙ্কার হারের প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে জিম্বাবুইয়েকে। প্রায় ৫ বছর আগে বাংলাদেশকে সর্বশেষবার ওয়ানডেতে হারিয়েছিল জিম্বাবুইয়ে। ২০১৩ সালের ৮ মে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। তার আগে থেকেই খর্বশক্তির দলে পরিণত হয়েছে জিম্বাবুইয়ে। আর বাংলাদেশ দলের উত্থানের শুরুটা তখন থেকেই। ২০১৪ সালের শেষদিক থেকে মাশরাফির নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য দলেই পরিণত হতে শুরু করেছে টাইগাররা। ধারাবাহিক সাফল্য ধরা দিয়েছে গত তিন বছরে। আইসিসি র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নৈপুণ্যের বিবেচনায় অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। অথচ একটা সময় এই জিম্বাবুইয়েই ছিল বাংলাদেশের অন্যতম চরম প্রতিপক্ষ। কাগজে-কলমে এখন বিস্তর ফারাক দুইদলের। কারণ গত ৫ বছরে ৯ বার ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়ে একবারও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয় তুলে আনতে পারেনি জিম্বাবুইয়ে। বিশাল ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ টানা ৯ ম্যাচে। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিম্বাবুইয়েকে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশ। আজ আরেকটি জয় তুলে নিতে পারলে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টানা ১০ জয়ের একটি দারুণ অর্জন আসবে। ইতোমধ্যেই অবশ্য সেই রেকর্ডটা হয়ে গেছে। কারণ, আর কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই টানা এতগুলো জয় আসেনি। কেনিয়ার বিরুদ্ধে টানা ৭ ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড আছে। জিম্বাবুইয়ের সাম্প্রতিক যে পরিস্থিতি তাতে করে আজকেও জয় ছাড়া অন্যকিছু ভাবছে না বাংলাদেশ দল। আর ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকায় জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে আজ একটি ড্রেস রিহার্সেলও হবে টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুইয়ে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশের সামনে। খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ ১৬৩ রানের রেকর্ড ব্যবধানে পরাজিত করে তুলনামূলকভাবে বেশ শক্তিধর শ্রীলঙ্কাকে- নিশ্চিত করে ফাইনাল। তাই আজকের ম্যাচেও জিম্বাবুইয়ে কতখানি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে তা নিশ্চিত নয়। অবশ্য, হুট করে জ্বলে ওঠার মতো একটা বৈশিষ্ট্য যোগ হয়েছে জিম্বাবুইয়ে দলে। সেটার প্রমাণ তারা দেখিয়েছিল গত বছর জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডে সিরিজ জিতে। চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজেও তারা লঙ্কানদের পরাস্ত করে। অবশ্য, ফিরতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে গ্রায়েম ক্রেমারের দল। সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশাল জয়টি নিশ্চিতভাবেই ত্রিদেশীয় সিরিজে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টাইগারদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। ফেবারিট বাংলাদেশকে ওই ম্যাচে জয় এনে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুলের রেকর্ড স্পর্শ করেন অধিনায়ক মাশরাফি। হাবিবুল ৬৯ ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৯ জয়ের পাশাপাশি ৪০ পরাজয় দেখেছিলেন তিনি। তুলনামূলকভাবে অনেক আগেই তাই দেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক হয়ে গেছেন সমান ২৯ জয় এনে দেয়া মাশরাফি। কারণ, মাত্র ৫২ ম্যাচেই তিনি দলকে এই পরিমাণ সাফল্য এনে দিয়েছেন।
তার সাফল্যের হার ৬৮ ভাগ। হাবিবুলের ৪২.০২। এখন জয়ের পরিমাণের দিক থেকে হাবিবুলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ মাশরাফির সামনে। তাহলেই বাংলাদেশকে সর্বাধিক ৩০ জয় পাইয়ে দেয়ার অনন্য রেকর্ড গড়বেন মাশরাফি। অবশ্য আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য নিজেদের নৈপুণ্যের উন্নতি ঘটানো। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ওপেনার তামিম ইকবালও তেমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব ভুলভ্রান্তি আছে সেসব শোধরাতে চাই। নিজেদের পারফর্মেন্সের উন্নতি ঘটানোই মূল লক্ষ্য থাকবে আমাদের। আর সাইড বেঞ্চে যারা বসে আছে তারাও দলের হয়ে একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখে। টিম ম্যানেজমেন্ট বলতে পারবে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে কিনা!’