গোলপোস্ট আটকে দিল সাইফকে

কোথায় বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকবে মঙ্গলবারে। অথচ মঙ্গলবারে হলো কি না শনির দশা। এতো চরম কুফা। নইলে পুরো ম্যাচে সত্তর শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণ করেও, বেশিরভাগ সময় আক্রমণ করেও, চার-চারবার বিপক্ষ দলের পোস্টে বল লাগিয়েও কেন হারতে হবে? এএফসি কাপের প্লে-অফ বাছাইয়ে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জমজমাট-শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের সাইফ স্পের্টিং ক্লাব লিমিটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় সফরকারী মালদ্বীপের ট্রাস্ট এ্যান্ড কেয়ার (টিসি স্পোর্টস) ফুটবল ক্লাব। আগামী ৩০ জানুয়ারি মালেতে গিয়ে এ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে সাইফ। সে ম্যাচে তারা যদি কমপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে জেতে তাহলে বাছাইপর্বে খেলার ছাড়পত্র মিলবে। প্রি-প্লেঅফ বাধা টপকালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু এএফসি ও ভুটানের ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডের মধ্যকার বিজয়ী দলের বিপক্ষে প্লেঅফ খেলবে সাইফ। ওই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ও ২০ ফেব্রুয়ারি। মঙ্গলবারের ম্যাচে জেতার জন্য কি না করেছে সাইফ। চট্টগ্রাম আবাহনীর সাত এবং মোহামেডানের এক ফুটবলারকে ধার করেছে। খেলিয়েছে চার বিদেশী ফুটবলারকে, যারা চারটি ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের (উইলিয়াম শেরিংহ্যাম : ইউরোপ-ইংল্যান্ড; এ্যাখরর উমজনভোব : এশিয়া, উজবেকিস্তান; আন্দ্রেস এসকারপেতা : দক্ষিণ আমেরিকা, কলম্বিয়া এবং কিংসেলে চিগোজি : আফ্রিকা, নাইজেরিয়া)। কিন্তু ভিন্ন ক্লাব থেকে এতগুলো খেলোয়াড় খেলিয়েও দুর্ভাগ্যের হার দেখে এক দর্শক ক্ষিপ্ত হয়ে মন্তব্য করেন, ‘এমন জগাখিচুড়ি দল নামালে কি জেতা সম্ভব?’ এএফসি কাপ ২০১৮-এর প্লেঅফ বাছাইয়ে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ পেশাদার লীগের নবাগত ক্লাব সাইফ স্পোর্টিং। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটাই তাদের প্রথম ম্যাচ। স্বভাবতই এই ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চ-উত্তেজনা ছিল তাদের মধ্যে যথেষ্ট। স্বপ্ন দেখেছিল আবির্ভাবেই চমক দিতে। কিন্তু তাদের সেই সুনীল স্বপ্নের ঘটেছে সলিল সমাধি। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক পুড়েছে আশাভঙ্গের সুতীব্র বেদনায়। টিসি স্পোর্টস প্রমাণ করলো বাংলাদেশের মাটি তাদের সত্যিই পয়মন্ত। কেননা এর আগে ২০১৭ সালের মার্চে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবলে’র দ্বিতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-২ (২-২) গোলে দক্ষিণ কোরিয়ার পোচেয়ন সিটিজেন ফুটবল ক্লাবকে হারিয়ে এ গৌরব অর্জন করেছিল তারা। সেটাই ছিল মালদ্বীপের ক্লাবটির প্রথম কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি। তারপরও সাইফের আত্মবিশ্বাসের কোন কমতি ছিল না। কিন্তু ভাগ্যদেবী সহায় হননি তাদের প্রতি। ১৫ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় সাইফ। জাহিদের শট বক্সে হেড নেন তপু বর্মণ। তবে বল জড়ায়নি জালে। উল্টো হেড নিতে গিয়ে মাথার পেছনে আঘাত পান সদ্য ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তপু। ২৩ মিনিটে ডিফেন্ডারদের ভুলে পিছিয়ে যায় সাইফ। ইশান ইব্রাহিমের পাস বক্সে পেয়ে সাইফের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান টিসি স্পোর্টসের কিরগিজ ফরোয়ার্ড ভøাসিচেভ আনাতলি (১-০)। ৩৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে বল পেয়ে শট নেন সাইফের কিংসলে। তার থেকে বল পেয়ে প্রায় ফাঁকা পোস্ট পেয়ে বাঁ পায়ে বাঁকানো শট নেন ফরোয়ার্ড মাসুক মিয়া জনি। কিন্তু বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন। ৪১ মিনিটে গোলরক্ষক বল দীর্ঘসময় বল হাতে ধরে রাখায় টিসি স্পোর্টসের বক্সে ইনডিরেক্ট ফ্রি কিক পায় সাইফ। চার্লি শেরিংহ্যারের শট রক্ষণ দেয়ালে লেগে প্রতিহত হয়। ৪৫ মিনিটে জাহিদের কর্নার বক্সে পেয়ে হেড নেন শেরিংহ্যাম। কিন্তু বল চলে যায় মাঠের বাইরে। ৪৯ মিনিটে বক্সে বল পেয়ে ফাঁকা পোস্টে ডান পায়ের তীব্র শট নেন ডেইনার। অল্পের জন্য বল জড়ায়নি জালে। ৫৭ মিনিটে জামাল ভুঁইয়ার শট ছিল নিশ্চিত গোল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হাত বাড়িয়ে বল সরিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। এর পরের কয়েক মিনিটে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায় টিসি স্পোর্টসের ওপর দিয়ে। বক্সে বল পেয়ে কিংসলে শট নিলে বল ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি বলে আবারও শট নেন কিংসলে। এবারও বল জড়ায়নি জালে। ৬০ মিনিটে কিংসলের শট বারে লেগে ফেরত আসে। ৬২ মিনিটে আখররের শট ফিস্ট করেন গোলরক্ষক। ৮২ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন কিংসলে। গোলরক্ষক এগিয়ে আসায় পোস্ট ছিল অরক্ষিত। কিন্তু কিংসলের শট বারে লেগে চলে যায় বাইরে। শেষ পর্যন্ত রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজালে আক্ষেপের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় নর্থমোরের শিষ্যদের। এখন দেখার বিষয়, এ্যাওয়ে ম্যাচে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে কেমন ফল করে তারা।

 

2018-01-24T07:15:04+00:00January 24th, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger