‘জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই’

পাঁচদিনে টানা তিনটি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ মঙ্গলবার ম্যাচটি খেলার পর আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এরপর শনিবার ফাইনালেও খেলবে মাশরাফিবাহিনী। বুধ থেকে শনি টানা পাঁচদিনে তিনটি ম্যাচ খেলবে। এমন অবস্থায় ম্যাচ অনুশীলন তো হচ্ছেই। ম্যাচ খেলার জন্য যেটি আদর্শ অনুশীলন। আর তাই বুধবার একদিনের বিরতি পেয়েছে ক্রিকেটাররা। এই বিরতিতে মাঠমুখী হননি কোন ক্রিকেটার। হোটেলেই থেকেছেন। হোটেলেই বাংলাদেশ দলের টিম ডিরেক্টর বলেও দিয়েছেন, ‘টুর্নামেন্টে কোন ম্যাচ হারতে চাই না।’ তবে সতর্ক দলের সবাই। কারণ এখনও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি। সুজনই যেমন বলেছেন, ‘এন্ড অব দ্য ডে’ আমরা চ্যাম্পিয়ন হয় নাই এখনও। টুর্নামেন্টে যেহেতু ফাইনাল খেলা আছে। ওটা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভার থাকার কোন সুযোগই নেই বলে আমি মনে করি। এরপর আমরা আর ব্রেক পাব না, কাল (মঙ্গলবার) খেললাম। আগামীকাল (আজ) খেলব। আবার ২৭ তারিখ (শনিবার) ফাইনাল। সুতরাং আজকে (বুধবার) একটা ব্রেক (বিরতি) দরকার ছিল টিমের। ক্রিকেটের বাইরে থাকার, কিন্তু রিল্যাক্স না আমি মনে করি।’ টানা তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে গেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়েকে ৮ উইকেটে হারানোর পর শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ রানে হারিয়ে ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে নিয়েছে। এরপর আবার জিম্বাবুইয়েকে ৯১ রানে হারিয়েছে। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলে চার ম্যাচের চারটিতেই জয় আসবে। এই ম্যাচটির আগে যেহেতু অনুশীলন নেই। বিরতি দেয়া হয়েছে। বিশ্রাম দেয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের। তাহলে কী আজকের ম্যাচটি ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল হয়ে গেল? সুজন জানালেন, ‘টুর্নামেন্টে কোন ম্যাচ হারতে চাই না, বড় কথা হলো এটাই। কালকের (আজকের) ম্যাচটা আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা একটা ওয়ানডে ম্যাচ। প্রত্যেকটা ম্যাচই আমাদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আর ফাইনাল তো অবশ্যই ফাইনাল।’ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচে ২১৬ রান করেও জিতে বাংলাদেশ। অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখা মিলেছে। সুজন মনে করছেন বিষয়টি দারুণ, ‘আমি মনে করি এটা দারুণ। কালকে (মঙ্গলবার) ২১৬ রান ডিফেন্ড করা, আগে কথা হলো বাংলাদেশ অল্প রান ডিফেন্ড করতে পারে না। কালকে (মঙ্গলবার) ২১৬ দারুণভাবে ডিফেন্ড করে আমরা জিতলাম। যখন দেখি ভাল লাগে। যেভাবে বোলাররা পারফর্ম করছে, যেভাবে বোলিং টাইড রাখি আমরা, অনেকদিন নতুন বলে উইকেট পাচ্ছিলাম না আমরা। নতুন বলে শুরুটা এই টুর্নামেন্টে খুব ভাল হচ্ছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘টিম যখন ভাল যায় সবকিছুই ভাললাগে। ফিল্ডিংয়ে তো আমরা সবসময়ই ভাল সাইড। তরুণ অনেক ভাল ফিল্ডার আছে। দল হিসেবে সবার ইনভলভমেন্ট অনেক বেশি। আপনি যদি দেখেন সাকিবের দুটি রানআউট, সবাই কিন্তু মাঠে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছে। একটা গ্রুপ বা ইউনিট হিসেবে আমরা মনে হয় এখন পর্যন্ত সেরাটাই করছি।’ বাংলাদেশ নিজ দেশে সাফল্য পাচ্ছে। দেশের বাইরে সেই সাফল্য মিলছে না। বাংলাদেশ বড় দলও হয়ে উঠতে পারছে না। সুজন তাই মনে করেন। জানিয়েছেন, ‘আমি এখনও সন্তুষ্ট না। বড় দল হতে গেলে আরও অনেক গুণাবলী লাগবে, সেটা আমরা নিজেরাও জানি। আমরা এটা নিয়ে আলোচনাও করি। সামনে যখন অনেক পথ খোলা আছে, সেখানে আমরা আরও টাইড হতে চাই, আরও ভাল করতে চাই। গতকাল (মঙ্গলবার) একটা সুযোগ ছিল মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের প্রমাণ করার। সেটা হয়নি। বড় দলগুলো সেটাই করে টপঅর্ডার ফেল করলে পরের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব থাকে। যাই হোক, আমি এখনও বিশ্বাস করি এই দলে যারাই আছে অনেক ভাল খেলোয়াড়। গতকাল (মঙ্গলবার) হয়নি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) হবে। বড় দল হতে গেলে এগুলো ঠিক করতে হবে। সব জায়গা থেকে যে কোন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে আমরা বড় দল হব।’

 

ত্রিদেশীয় সিরিজের পয়েন্ট তালিকা

 

দল ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট রানরেট

 

বাংলাদেশ ৩ ৩ ০ ১৫ ২.৪৮৯

 

শ্রীলঙ্কা ৩ ১ ২ ৪ -০.৯৮৯

 

জিম্বাবুইয়ে ৪ ১ ৩ ৪ -১.০৮৭

 

2018-01-25T07:42:46+00:00January 25th, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger