জাত চ্যাম্পিয়নরা কখনও ফুরায় না গত মৌসুমেই তা প্রমাণ করে দেন রজার ফেদেরার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর উইম্বলডনেও চ্যাম্পিয়ন। টেনিস দুনিয়া দেখল ফেড এক্সপ্রেসের পুনর্জন্ম। এবার সেই পারফর্মেন্সেরই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন শুধু। রবিবার দুর্দান্ত খেলেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ষষ্ঠ শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০তম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ে ফেদেরার ছাড়িয়ে গেলেন শুধুই নিজেকে। তবে মারিন চিলিচকে হারিয়ে অশ্রু জড়ালেন ফেদেরার। এই কান্না কী অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত? তা নিয়েও টেনিসবোদ্ধাদের মনের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়। তবে ফেদেরার সুস্পষ্ট করে কিছুই বলেননি। ইতিহাস তার র‌্যাকেটে ধরা দিয়েছে অনেক আগে। রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ান মারিন চিলিচকে হারিয়ে পৌঁছে গেলেন আরেক ধাপে। এই গ্রহের প্রথম এবং একমাত্র পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ২০টি মেজর টুর্নামেন্ট জেতার নজির গড়লেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সী ফেদেরার এদিন কঠিন লড়াইয়ের পর ৬-২, ৬-৭ (৫-৭), ৬-৩, ৩-৬ এবং ৬-১ গেমে পরাজিত করেন মারিন চিলিচকে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লড়াই করার পর শিরোপার স্বাদ পেলেন রজার ফেদেরার। আটবার উইম্বলডন জেতার পাশাপাশি এ নিয়ে ছয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হলেন ফেদেরার। এর আগে এই টুর্নমেন্টে ছয়টি শিরোপা জয়ের নজির আছে কেবল দুজনের। নোভাক জোকোভিচ এবং রয় এমারসন ছয়বার করে মৌসুমের প্রথম এই গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্বাদ পান। মোট গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের তালিকায় ফেদেরারের পর আছেন তারই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদাল। স্প্যানিশ এই টেনিস তারকার গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের সংখ্যা ১৬টি। ১৪টি স্যামপারসের। নোভাক জোকাভিচ এবং এমারসনের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের সংখ্যাটা ১২টি করে। ফেদেরার এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠেন বিস্ময় হিউন চুংকে হারিয়ে। হিউন অবাছাই হয়েও সেমিফাইনাল পর্যন্ত চলে আসেন। সেখান থেকে খেলার লড়াইয়ে নয় চোটের কাছে হেরেই বিদায় নিতে হয় দক্ষিণ কোরিয়ার এই টেনিস খেলোয়াড়কে। নতুন মৌসুমের শুরুতেই ক্যারিয়ারের বিশতম গ্র্যান্ডস্লাম জয়। অনুভূতিটা কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে রোমাঞ্চিত ফেদেরার বলেন, ‘অবিশ্বাস্য। আমি সত্যিই খুব খুশি। আরও একটি স্বপ্ন এসে ধরা দিল হাতের মুঠোয়। আমার রূপকথার গল্প যেন চলছেই।’ দীর্ঘদিন ফর্মহীনতায় ভোগার পর গত মৌসুমেই স্বরূপে ফেরেন সুইস কিংবদন্তি। এটাও স্বীকার করেছেন ফেড এক্সপ্রেস। এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছরটা কি দারুণভাবেই কেটেছিল আমার। এবার শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলাম। সত্যিই অবিশ্বাস্য ব্যাপার।’ গত বছরটা ফেদেরারের মতো দুর্দান্ত কেটেছিল নাদালেরও। সুইস তারকার মতো তিনিও সমান দুটি করে গ্র্যান্ডস্লাম জিতে স্বরূপে ফেরেন টেনিস কোর্টে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। চোট সমস্যার কারণে এবারের আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেন এই স্প্যানিয়ার্ড। যে কারণেই ফেদেরারের পথটা সহজ হয়ে যায় অনেকটা। শুধু তাই নয়, এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তো অংশগ্রহণই করতে পারেননি সময়ের আরেক ফেবারিট গ্রেট ব্রিটেনের এ্যান্ডি মারে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নোভাক জোকোভিচও ছিলেন নিষ্প্রভ। বিশেষ করে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই যেন হারিয়ে যেতে শুরু করেন সার্বিয়ান তারকা জোকোভিচ। মারে-জোকোভিচ কিংবা নাদালের বাজে সময়ে দারুণভাবেই মেলে ধরেন ফেদেরার। তবে ফাইনালে লড়াই করেছেন চিলিচ। দীর্ঘ তিনঘণ্টা তিন মিনিট কঠিন লড়াইয়ের পরই ফেদেরারের কাছে হার মানেন ক্রোয়েশিয়ান তারকা। তবে ফেড এক্সপ্রেসের কাছে হারলেও ফাইনালে উঠেই সন্তুষ্ট চিলিচ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে ফাইনালের টিকেট কাটাটাই ছিল আমার জন্য বিস্ময়কর এক জার্নি। আমার জীবনেরই সবচেয়ে সেরা দুটি সপ্তাহ হতে পারে এবারের মেলবোর্নে। তবে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, ফেদেরার পঞ্চম সেটে অবিশ্বাস্য খেলেছেন।’ চিলিচ এ সময় তার দলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। অবিশ্বাস্যভাবেই সহায়তা করেছে তারা। এ বছর আমরা সকলেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। যে কারণে ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে না পারাটা সত্যিই হতাশার। তবে আশা করি ভবিষ্যতে তা অবশ্যই সম্ভব হবে।’ এদিকে মহিলা এককে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। শনিবার ফাইনালে সিমোনা হ্যালেপকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের স্বাদ পান তিনি।