সাফে সালাউদ্দিনের টানা তিন…

তিনি শুধু ফুটবলই খেলেননি। তিনবার পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্বও (১৯৮৫, ৮৮ ও ৯৩ সালে)। সময়ের পরিক্রমায় এখন তিনি তৃতীয় দফায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, কাজী মোঃ সালাউদ্দিনের কথাই বলছি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কুশলী ফুটবলার বলা হয় তাকে। বাফুফের পর সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনেও (সাফ) অন্যরকম হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা। কিংবদন্তি এ ফুটবলার আগামী মার্চে টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাফের সভাপতি। জানা গেছে, ৪ বা ৫ মার্চ ঢাকায় হবে সাফের সাধারণ সভা ও নির্বাচন। সেখানে কোন প্রার্থী না থাকায় আগেরবারের মতোই আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাফ-সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমি আবারও নির্বাচন করব।’ তবে নির্বাচন করলেও ভোটের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে না তাকে। কেননা এবারও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ নেই। সাফের সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশের আনোয়ারুল হক হেলালই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ‘সভাপতি পদে আর কেউ নির্বাচন করার আগ্রহ দেখাননি। কাজী সালাউদ্দিনই যে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হবেন, তা এক প্রকার নিশ্চিত।’ উল্লেখ্য, সালাউদ্দিন সাফের সভাপতির দায়িত্বে আছেন ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের প্রথম সভাপতি ছিলেন ভারতের পিপি লক্ষ্মণমানান (২০০১ পর্যন্ত)। এরপর নেপালের গণেশ থাপা ছিলেন ২০০৯ পর্যন্ত। সাফ গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এই ছয় দেশ নিয়ে। ২০০০ সালে সাফের সদস্য হয় ভুটান এবং ২০০৫ সালে অষ্টম দেশ হিসেবে যোগ হয়েছিল আফগানিস্তান। তবে ২০১৫ সালে তারা সাফ থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেয়। আশ্চর্য হলেও সত্যিÑ সাফের বয়স ২০ পেরিয়ে গেলেও এখনও সংগঠনটির কোন স্থায়ী সচিবালয় নেই। যখন যে দেশের সাধারণ সম্পাদক থাকেন, তখন সে দেশেই হয় অস্থায়ী সাফ সচিবালয়। সেই অনুযায়ী সাফের সচিবালয় এখন ঢাকায়। এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল হক হেলাল জানিয়েছেন তারা চেষ্টা করছেন স্থায়ী সাফ সচিবালয় করতে। এবার এজিএমেও তিনি বিষয়টি তুলবেন। গণেশ থাপার সময় সাফ বলতে গেলে একেবারেই জড় সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। সালাউদ্দিন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এটা গতিশীল হয়। ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে টুর্নামেন্টের সংখ্যা। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুই বিভাগের দুটি করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টও এখন হচ্ছে নিয়মিত। এ বছরই সাফের টুর্নামেন্ট আছে পাঁচটি। আগস্টে অ-১৫ কিশোরী চ্যাম্পিয়নশিপ, সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, অ-১৮ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, নবেম্বরে বালক অ-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ডিসেম্বরে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। এখন দেখার বিষয়, তৃতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিয়ে সাফকে আরও কতটা গতিশীল করতে পারেন সালাউদ্দিন।

 

 

 

2018-01-30T07:21:48+00:00January 30th, 2018|খেলাধুলা|
Advertisment ad adsense adlogger