অনেকটা হারিয়েই গেছেন কার্লোস তেভেজ। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও ইতালিয়ান পরাশক্তি জুভেন্টাস ছাড়ার পর আড়ালে চলে যান এক সময়ের তুখোড় এই ফরোয়ার্ড। যে কারণে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকেও হয়ে যান ব্রাত্য। তবে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে দেখা যেতে পারে তেভেজকে। এমন আলামতই দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ জর্জ সাম্পাওলি। এইতো কিছুদিন আগে পুরনো ক্লাব বোকা জুনিয়ার্সে তৃতীয়বারের মতো ফিরে এসেছেন তেভেজ। সর্বশেষ দিন কয়েক আগে আর্জেন্টিনা সুপার লীগের ম্যাচে জয় পায় তার দল। কোলোনের বিপক্ষের ওই ম্যাচে ২-০ গোলের জয়ে নিজে কোন গোল না করলেও অসাধারণ পারফর্ম করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। দীর্ঘদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও জুভেন্টাসের মতো বাঘা বাঘা দলগুলোর হয়ে খেলেছেন। সাপ্তাহিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরোতে গত বছর জানুয়ারিতে তেভেজ শেনহুয়াতে যোগ দিয়েছিলেন। এই চুক্তি তাকে বিশ্বের অন্যতম দামী খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল। ২০১৫ সালে জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়ার পর আর সুযোগ হয়নি। ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে বিশ্বকাপ দলে যোগ দেবার হাতছানি। ম্যাচটি শেষ হবার পর ফের জানালেন বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সাক্ষাতকারে তেভেজ বলেন, বিশ্বকাপের জন্য আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। দল গঠন করার জন্য কোচ সাম্পাওলির কাজকে আমি সহজ করে দেব না। অবশ্যই আমাকে নিয়ে ভাবার এবং চিন্তা করতে হবে তাকে। যদি সাম্পাওলি দল গঠন নিয়ে দ্বিধায় থাকেন তাহলে আগামী তিন-চার মাসে আমার নিজের জায়গাটা করে নেয়ার দারুণ একটি সুযোগ পাব। জুনে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২১তম আসর। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শুরু হওয়ার আগে তারকামুখর আর্জেন্টাইন শিবিরে যোগ দিতে পারবেন কিনা তা এখনও অস্পষ্ট। তবে তেভেজকে নিয়ে আশাবাদী খোদ বর্তমান জাতীয় দলের কোচ সাম্পাওলি। তিনি বলেন, কারও পক্ষেই তেভেজের গুণ কেড়ে নেবার সামর্থ্য নেই। তার ভাগ্যও কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। যখন আমি সেভিয়ার (স্প্যানিশ লা লিগার দল) কোচ ছিলাম, তখনও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের জন্য তাকে দলে নিতে চেয়েছিলাম। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে সাম্পাওলি বলেন, যে কোন ফুটবলারই আমরা খুব কাছ থেকে দেখব, বিচার-বিশ্লেষণ করব। কাউকেই ভালভাবে দেখা ছাড়া বাদ দেয়া হবে না। একসময় কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করা তেভেজ বিশ্বকাপ খেলতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।