অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আশা আরও দীর্ঘায়িত হল। রবিবার ঘরের মাঠে সিরিজ হাতছাড়া করল অজিবাহিনী। হোবার্টে শেষ ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিলে দক্ষিণ আফ্রিকা৷ এর ফলে ঘরের মাঠে ২ বছর ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি অস্ট্রেলিয়া৷

এদিন, ৩২০ রান তাড়া করে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮০ রানে থেমে যায় অজি ইনিংস৷ ব্যর্থ শন মার্শের লড়াই৷ সেঞ্চুরির (১০৬) পর মার্শ প্যাভিলিয়নে ফেরার পরই ম্যাচ ও সিরিজ জয়ে অজিদের আশা ক্ষীণ হতে থাকে৷ গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আউট হওয়ার পর প্রোটিয়াদের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়৷

শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে ৪০ রানে হারিয়ে ম্যাচ ও সিরিজ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা৷ প্রথম ম্যাচ হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া৷ কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে অজিবাহিনী সিরিজে প্রত্যাবর্তন করলেও সিরিজ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল৷

প্রোটিয়াদের লড়াইয়ের রাস্তা মসৃণ করেন ব্যাটসম্যানরা৷ ডেভিড মিলার ও ক্যাপ্টেন ফ্যাফ ডু’প্লেসির জোড়া শতরানে তিনশ রানের গণ্ডি টপকায় দক্ষিণ আফ্রিকা৷ ১০৮ বলে ১৩৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন মিলার৷ ৪টি ছয় ও ১৩টি বাউন্ডারি মারেন ‘কিলার’ মিলার৷

আর ডু’প্লেসি করেন ১২৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস৷ ১১৪ বলে ১৫টি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি মারন প্রোটিয়া ক্যাপ্টেন৷ তিন উইকেটে ৫৫ রান থেকে দলকে রানের পাহাড়ে পৌঁছে দেন মিলার-ডু’প্লেসি৷ জুটিতে ২৫২ রান যোগ করে রেকর্ড গড়েন তারা৷ ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এটাই সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ৷ শেষ ১৫ ওভারে দু’জনে ১৭৪ রান যোগ করেন৷ পাঁচ উইকেটে ৩২০ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা৷

ঘরের মাঠে দুই বছর আগে শেষবার ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া৷ তারপর থেকে এ নিয়ে টানা পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ হারল অজিবাহিনী৷ ১৯৮৪ সালের পর ঘরের মাঠে অজিদের এটাই সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স৷ ১৯৮২-৮৪ তে অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে টানা চারটি সিরিজ হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া৷ আগামী বছর জুনে বিশ্বকাপের আগে আর মাত্র ১৩টি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাবে অজিরা৷ এর মধ্যে ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি এবং বাকি ১০টি উপমহাদেশের মাটিতে৷