white-passport-300x169কনসার্টে গেছেন, কিন্তু ড্রামের বাড়িটা বুকে এসে বিঁধছে। অথবা আশপাশের হট্টগোলের জন্য প্রিয় গায়ক-গায়িকার গান শুনতে পাচ্ছেন না। বাসে ঘুমোতে ঘুমোতে যাবেন ঠিক করেছিলেন কিন্তু আচমকা কোনও শিশু চিৎকার করে উঠল। রেস্তোরাঁয় আশপাশের চেঁচামেচির কারণে প্রিয়জনের কথায় মন দিতে পারছেন না। পাশের ফ্ল্যাটের লোকটা যখন যাবতীয় ম্যানার ভুলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মোবাইলফোনে চেঁচিয়ে কথা বলতে থাকে, তখন নিশ্চয় অাপনার মনে হয়, ইশ! লোকটার মুখটা যদি মিউট করে দেওয়া যেত!

প্রযুক্তি এনে দিল এসবের সমাধান। এবার চারপাশের শব্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন আপনার মোবাইল ফোন দিয়েই! কার কথা কত জোরে শুনবেন, আশপাশের শব্দ আদৌও কানে ঢোকাবেন কি না, তা ঠিক করে দিতে পারবেন আপনি নিজেই। দরকার হবে শুধু একজোড়া ইয়ারপ্লাগের। যা তৈরি করেছে ডপলার ল্যাব।

এখনও বাজারে মিলবে না এ শব্দটি। তবে বানানোর পথে অনেকটা এগিয়েছে ডপলার ল্যাব। আপাতত চলছে কিস্টার্টার ক্যাম্পেইন। মানে যথাযথ সহায়তা পেলেই বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।

কীভাবে কাজ করবে? প্রথমত এতে আছে একজোড়া ব্লুটুথ ইয়ারফোন। কানের সঙ্গে আরামসে জুড়ে যাবে ওটা। ওই ইয়ারফোনের বাইরেই আছে সাউন্ড রিসিভার। আশপাশের শব্দ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করবে ওটা। এরপর সংকেত চলে যাবে স্মার্টফোনে। স্মার্টফোনে প্রসেস হওয়ার পর তা আবার আসবে ইয়ারফোনে। প্রক্রিয়াটা ঘটবে দ্রুত। সময় নেবে মাত্র ৩০ মাইক্রোসেকেন্ড। চোখের পলক ফেলার ১০ হাজার ভাগের এক ভাগ সময়। তাই ব্যবহারকারীর মনে হবে তিনি যা শুনছেন লাইভই শুনছেন। তবে সেটা নিজের মতো করে!

ইয়ারফোনটা কানে পরলে শুরুতে যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে, সমাধান মিলবে তার সবকটারই। সামনে কেউ উঁচু স্বরে কথা বলতে থাকলে, কানে ইয়ারফোন গুঁজে নিজের মোবাইলেই কমিয়ে দিতে পারবেন বক্তার কথার ভলিউম। আবার চাইলে কথাবার্তা বা শব্দের মধ্যে যোগ করতে পারবেন ইফেক্টও!

আপাতত যারা কিকস্টার্টার প্রজেক্টে ১৭৯ ডলার করে জমা দিচ্ছেন, তাদের ১০০০ জনই পাবেন পণ্যটির প্রথম শিপমেন্ট। আবার ১৯৯ ডলার করে দিলে সঙ্গে মিলবে একটা টি-শার্ট। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পণ্যটি বাজারে আসবে। দাম পড়বে প্রায় আড়াইশ ডলার।