Home2018-11-19T15:09:49+00:00
এইমাত্র পাওয়া
পশু খামারিদের পাশে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিকরোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে “ইমিউনিটি পিঠা” তৈরি করছেন সমাজকল্যাণ সংস্থা আইডিয়াকুষ্টিয়ায় যুব প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে বাস্তবায়িত হচ্ছে এফরআই প্রকল্পদেশসেরা শিল্প গ্রুপ ‘বিআরবি’ নিয়ে একটি মহলের মিথ্যাচারঅগ্রযাত্রায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন“বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা” প্লাজমা বিজ্ঞানী ড.এ এ মামুনদৌলতপুরে নির্বাচনী জনসভায় মাহবুব উল আলম হানিফ “উন্নয়নের ধারা অক্ষুন্ন রাখতে রাখতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে”ইবির সিন্ডিকেটে নতুন ৪ সদস্য, স্থান পেয়েছেন সদ্য বিদায়ী সফল প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানইবির সিন্ডিকেটে নতুন ৪ সদস্য, স্থান পেয়েছেন সদ্য বিদায়ী সফল প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানদিঘলকান্দিতে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের নৌকার প্রার্থী সরওয়ার জাহান বাদশার স্ত্রী মাহমুদা খানমদেড় শতাধিক দরিদ্র শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্য’৩ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে দৌলতপুরের রিফাইতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইছাহক আলীর আওয়ামীলীগে যোগদানইবি ক্যাম্পাসে টুরিজম বিভাগের সভাপতি ড. মাহবুবুল আরফিন চলছে সমালোচনার ঝড়, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য!রাতের বুকজ্বলা সমস্যার ঘরোয়া সমাধান৩৬০ ডিগ্রি ফটো ও ভিডিও দেখতে ফেসবুকের নতুন অ্যাপএকাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিতে জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর অংশগ্রহণবঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর শাখার নতুন কমিটিনিউজ ফিডে পরিবর্তন আনল ফেসবুকযে অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা উচিতযে গ্রামে শিশুকে ধূমপানে উৎসাহিত করা হয়..

অন্যান্য

রাজনীতি

ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বিশেষ প্রতিবেদন

কৃষি সমাচার

খেলাধুলা

পশু খামারিদের পাশে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি

করোনা সংকটের কারনে পশু খামারিরা তাদের পালিত কোরবানির পশু বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। পশু খামারিদের এই দুশ্চিন্তা ও দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে, পশু খামারিদের কল্যানে খামারিদের পাশে দাঁড়াতে কোরবানির পশু ফ্রি(কোন প্রকার চার্জ ছাড়া) বিক্রি করার সুযোগ করে দিতে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন কোরবানির হাটের প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এই প্লাটফর্মটির পরিচালনার জন্য সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি-এসইউ এর শিক্ষার্থীরা প্লাটফর্ম ফিচার ডেভলাপমেন্ট ও পশু খামারিদের জন্য ভলেন্টিয়ারি দ্বায়িত্ব পালন করবে ।

যাচাই.কম লিমিটেড এর পরিচালিত জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট http://jachai.com/ এ কোরবানির হাট হোস্ট করে যৌথভাবে অনলাইন কোরবানির হাট পরিচালনা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত অনলাইন কোরবানির হাট উভয় পক্ষ যৌথভাবে পরিচালনা করবে। এই প্লাটফর্মটির মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতারদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি কোরবানির পশু কেনা বেচা করার সুযোগ থাকবে।

প্লাটফর্মটি ব্যবহার করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। বিক্রেতা তার কোরবানির পশুর ছবি সহ বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে, প্রোফাইল অফলাইন ও অনলাইনে আপডেট করতে পারবে এবং ক্রেতা তার পছন্দের পশুর ধরন, পশুর রং, পশুর বয়স, বাজেট অনুযায়ী পছন্দের পশু উক্ত (http://jachai.com/ ) প্লাটফর্ম থেকে লোকেশন অনুযায়ী অনায়াসেই কিনতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, এই প্লাটফর্ম টি সকল ধরনের কোরবানির পশু সম্পূর্ণ ফ্রি কেনা বেচা করার প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এখানে কোন প্রকার ফি বা চার্জ ছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাগন কেনা বেচা করতে পারবেন। একই সাথে বেকার হয়ে যাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে http://jachai.com/ প্লাটফর্ম কাজ করবে।

কেউ এক লোকেশন থেকে অন্য কোন লোকেশনে কোন কাজে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে, পরিকল্পনাকারী ই-কমার্স সাইট http://jachai.com/ এ লোকেশন অনুযায়ী পন্য ডেলিভারি করার অনুরোধ পাঠাতে পারবে এবং ব্যক্তিগত কাজের আসা যাওয়ার পথে পন্য ডেলিভারি সেবা প্রদান করার মাধ্যমে সেবা গ্রহিতার নিকট থেকে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবে। এ ছাড়াও http://jachai.com/ এ পূর্নকালিন পণ্য ডেলিভারি করার কাজের জন্য অথবা কোরবানির মাংস কাটার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন যে কেউ যাচাই ডট কম অনলাইনে সম্পূর্ন ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে, সেবা গ্রহীতা প্রার্থীকে সেবা প্রদান করে, সেবা গ্রহিতার নিকট থেকে বাড়তি আয় করার সুযোগ পাবে।

গতকাল ১০ জুলাই শুক্রবার এক ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল বাশার উক্ত যাচাই ডট কম (jhttp://jachai.com/) ই-কমার্স প্লাটফর্মে অনলাইন কোরবানির পশুর হাটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধন এর সময় সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির মানননীয় উপাচার্য বলেন করোনা মহামারীর এই সময়ে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন করোনার সময় হাটে গিয়ে পশু কিনতে গেলে করোনা ভাইরাসের মহামারী আরোও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সকলকে অনলাইনে http://jachai.com/ থেকে অংসখ্য কোরবানির পশু থেকে যাচাই বাছাই করে যাচাই ডট কম থেকে কোরবানির পশু কিনে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার পরামর্শ দেন।

অনলাইন কোরবানির পশুর হাট সম্পর্কে Jachai.com Ltd. এর ব্যবস্হাপনা পরিচালক মোঃ আব্দুল আলিম, তিনি বলেন, অসহায় পশু খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর যে মহান উদ্দ্যোগ সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি-এসইউ গ্রহন করেছে, এই মহৎ উদ্দ্যোগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং ক্রেতা ও খামারিদের অনলাইনে কেনা বেচার পদ্ধতি ইউজার ফ্রেন্ডলি বা সহজ করার জন্য http://jachai.com/ এ অনলাইন কোরবানির হাট চলাকালীন সময়ে কোরবানির পশু ছাড়া আমাদের http://jachai.com/ ইকমার্সের সকল ক্যাটাগড়ির অন্যান্য সকল ধরনের পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সাময়িক অসুবিধার কারনে http://jachai.com/ ই কমার্সের সকল নিয়মিত সেবা গ্রহণকারীদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করছি।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, ডীন, বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এবং যাচাই ডট কম লি. এর চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তৈরি করা উক্ত কোরবানির অনলাইন গরুর হাট প্লাটফর্মটি পশু খামারিদের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাবে । উভয় পক্ষের এই সমঝোতা চুক্তির আলোকে ঈদের দিন পর্যন্ত সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি এর সাথে jachai.com ltd. যৌথভাবে পশু খামারিদের এই সেবা প্রদান করে যাবে। তিনি আরো জানান যে, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের লেনদেনের সুরক্ষার জন্য উক্ত http://jachai.com/ প্লাটফর্মে ক্রেতা ও বিক্রেতার মোবাইল নম্বরে OTP ব্যবহার করে ক্রয় বিক্রয়ের জন্য রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার ব্যাবস্থা থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতাকে ট্রেস করার সুযোগ থাকছে। ক্রেতা অনলাইনে বাসায় বসে http://jachai.com/ থেকে কোরবানির পশু ক্রয়ের পাশাপাশি হোম ডেলিভারি সহ বুকিং দিতে পারবে এবং কোরবানির মাংশ বিতরনের জন্য ভলেন্টিয়ার ও মাংশ কাটার জন্য কসাই সার্ভিসসহ বুকিং করতে পারবে। বিক্রেতা http://jachai.com/ একাউন্টে লগইন করে তার ব্যাংক একাউন্ট নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট নম্বর (বিকাশ, নগদ, রকেট ) ইত্যাদি দিতে পারবে। ক্রেতা বিক্রেতার একাউন্টে সরাসরি টাকা প্রদানের সুযোগ পাবে অথবা ক্রেতা ও বিক্রেতার উভয়ের লেনদেন সুরক্ষিত করার জন্য http://jachai.com/ এর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে ক্রেতা http://jachai.com/ কে টাকা প্রদান করবে এবং যাচাই ডট কম বিক্রেতাকে টাকা প্রদান করে গরু সংগ্রহ করে ক্রেতাকে পৌঁছে দিবে।

করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে “ইমিউনিটি পিঠা” তৈরি করছেন সমাজকল্যাণ সংস্থা আইডিয়া

যশোরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইডিয়া’র কর্মীরা করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তৈরি করেছেন ‘ইমিউনিটি পিঠা’। পুষ্টিবিদদের পরামর্শে আইডিয়ার কর্মীরা পরিশ্রম আর গবেষণার মাধ্যমে এই পিঠা’র রেসিপি তৈরি করেছেন। যাতে ডুমুর, কালোজিরা, আদা, অলিভ অয়েল, চিকেন মিটসহ ১২টি ঔষধি মশলার সমন্বয় রয়েছে। পুষ্টিবিদরাও এটিকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা যশোর সরকারি এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন জানান, সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী রূপ নিয়েছে। বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, এর কোনো ওষুধ বা ভ্যাক্সিন নেই। কাজেই ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এ কারণেই আইডিয়ার কর্মীরা পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এই পিঠা তৈরি করেছে। ইমিউনিটি পিঠার উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে-ডুমুর, কালোজিরা, আদা, রসুন, এলাচ, মেথি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, দারুচিনি, আমলকি, তুলসি পাতা, সজিনার পাতা ও এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। যার সবগুলোই আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বহুবিধ উপকার সাধন করে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক শুভাশীষ দাস শুভ বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই প্রমাণিত নিয়মিত শরীরচর্চা ও সাধারণ সুষম খাবারের পাশাপাশি কিছু মশলা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে শুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন কালোজিরা, আদা, রসুন, হলুদ, লবঙ্গ, গোলমরিচ। এছাড়াও ডুমুর, আমলকি, তুলসি পাতা ও সজিনার পাতা এই ব্যাপারে শুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইডিয়া পিঠা পার্ক উদ্ভাবিত ইমিউনিটি পিঠা এই জায়গাতেই কাজ করেছে।

যশোর ল্যাব এইড’র নিউট্রিশন ও ডায়েট কনসালটেন্ট পুষ্টিবিদ মোঃ শাহারিয়া করিম জসি বলেন, কোভিড-১৯ এ সবচেয়ে বেশি সমস্যা শ্বাসকষ্টে। কালোজিরা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা কমায়। ক্ষতিকর জীবাণু নিধন থেকে শুরু করে শরীরের কোষ ও কলার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৈনিক ৫ গ্রাম মেথি, ১-১.৫ গ্রাম দারুচিনি, ২-৫ গ্রাম কাচা রসুন, ২-৩ গ্রাম আদা খাওয়া উচিত। এ সকল মশলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রকার antioxidants যেমন; কালোজিরায় আছে Phenolic amides, Flavonoids, আদায় আছে Gingerol, লবঙ্গে রয়েছে Eugenol যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এই সকল উপাদান সামগ্রিকভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ তথা Lifestyle Disease নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আইডিয়া পিঠা পার্ক কর্তৃক উদ্ভাবিত, আয়ুর্বেদিক উপাদান ও বিভিন্ন মশলার সমন্বয়ে সাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরী এই পিঠা সাধারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন প্রকার রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে সহায়ক হবে।
এ ব্যাপারে আইডিয়া পিঠা পার্কের সমন্বয়ক সোমা খান বলেন, পিঠা পার্ক উদ্ভাবিত ইমিউনিটি পিঠা’য় ব্যবহৃত উপাদানসমূহ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যে বিস্ময়কর ভূমিকা রাখে তা অতীতেও বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি আইডিয়া ইমিউনিটি পিঠা খাদ্য হিসেবে গ্রহণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক বৃদ্ধি পাবে যা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সহায়ক হবে। আইডিয়া পিঠা পার্কের পেজে (https://www.facebook.com/ideapithapark/) এ সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন।
সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন আরও জানান, আমাদের পূর্বপুরুষদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেমন ছিলো, সে তুলনায় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। কারণ তারা ছিলেন পরিশ্রমী এবং প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত ছিলেন। ইমিউনিটি পিঠার সকল উপাদানই প্রাকৃতিক। সকল ধর্ম গ্রন্থেই এই পিঠায় ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া আছে। বাস্তবিক এই প্রেক্ষাপটেই ইমিউনিটি পিঠার চিন্তা মাথায় আসে।
তিনি উল্লেখ করেন, শুধু পিঠাই নয়; আইডিয়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মতৎপরতা নিয়ে মানুষের পাশে রয়েছে। করোনার শুরুতে মাসজুড়ে অসহায় মানুষের সহযোগিতা করেছে। এছাড়া প্রতিবছর ঈদে শিশুদের বস্ত্র প্রদান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের শীতবস্ত্র প্রদান, গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ, বাড়িতে বাড়িতে গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করে থাকে।

কুষ্টিয়ায় যুব প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে বাস্তবায়িত হচ্ছে এফরআই প্রকল্প

তৃণমূল পর্যায়ে যুব প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে তরুণদের জ্ঞান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দৃষ্টিভঙ্গীর ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাঠামোতে যুবদের অন্তর্ভূক্ত করাসহ যুব সমাজের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে একশন ফর ইম্প্যাক্ট প্রকল্প। দেশের ৬ টি জেলার মধ্যে কুষ্টিয়ায় আলো স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের অন্যান্য জেলাগুলো হলো নীলফামারী, সাতক্ষিরা, বাগেরহাট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম। প্রকল্পটিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে অত্র প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ১০টি যুব সংগঠন গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি যুব সংগঠনে ৩০ জন করে তরুণ কাজ করছে। সেই হিসেবে মোট ৩০০ জন তরুণ বর্তমানে অত্র প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কার্যক্রমে নিজেদের অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় তরুণদের নেতৃত্ব উন্নয়ন, সংগঠন উন্নয়ন, এডভোকেসি লবিং ও ক্যাম্পেইন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোতে যুব প্রতিনিধিত্ব, মানবাধিকার ভিত্তিক প্রয়াস, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতি, পরিকল্পনা-পর্যবেক্ষণ-মূল্যায়ন ও শিখন, ফ্যাসিলিটেশন ও কার্যকর যোগাযোগ, ট্রেনিং অব ট্রেনার, ফেমিনিজম ও সামাজিক জবাবদিহিতা, সামাজিক কর্মকান্ড ও স্বেচ্ছাসেবা, কোভিড-১৯ কালীন মানবিক সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রশিক্ষণগুলো সাধারণত সপ্তাহব্যাপী হয়ে থাকে এবং আবাসিক প্রশিক্ষণের সকল খরচ প্রকল্প থেকে বহন করা হয়। এ পর্যন্ত অত্র প্রকল্পের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলার ২৮৭ জন তরুণ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে, ৭৯ জন বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, ২৫ জন বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়েছে।

প্রকল্পটি শুরুর পর থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এবং চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে, ছাতিয়ান ইউনিয়নের দূর্গাপুর, ধলসা, নফরকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিটিসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাব ও বাজার কমিটির সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামোতে যুবদের অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে বর্তমান কাঠামোর সাথে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা এডভোকেসি শুরু করে। যার প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১৩ টি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে মোট ২৬ জন তরুণ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামোতে ২৪ জন তরুণ অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে নবগঠিত যুব সংগঠন ইউনিক ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের আয়োজনে কামিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের উপস্থিতিতে ছায়া ইউনিয়ন পরিষদ অধিবেশন আয়োজন করা হয় । এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামোতে যুবসমাজের প্রতিনিধিত্ব এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে ভূমিকা রাখার সুযোগ বৃদ্ধি করা। ইউনিয়ন পরিষদের সেবাসমূহ প্রাপ্তি/গ্রহণের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া, ইউনিয়ন পরিষদ কিভাবে পরিচালিত হয় এবং কোন কোন সেবাসমূহ প্রদান করা হয় তা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে চিন্তার পরিসর বাড়াতে মিরপুর উপজেলার ২৩ টি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং আলো স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকগণের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতার আয়েজন করা হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সেরা রচনা লেখকসহ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদেরকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক জ্ঞান চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিরপুর উপজেলায় স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বিষয়ক ইস্যুতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, যেখানে মিরপুর উপজেলার ৪ টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যুবদের ভূমিকা শক্তিশালী করা যাতে ওইসব কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুব জনগোষ্ঠীর মতামতের প্রতিফলন ঘটে এবং জবাবদিহিতার উন্নতি ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ টি যুব সংগঠনের তরুণ সদস্যদের নেতৃত্বে ইউএনও অফিসের সাথে যৌথভাবে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সংলাপ আয়োজন করা হয়, যেখানে যুব সদস্যরা তাদের নিজেদের ভাবনাগুলো উপস্থাপন করে।
স্থানীয় গণতন্ত্রের উন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকাকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তরুণদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পত্রিকার সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষক, বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদকর্মীদের সাথে স্থানীয় গণতন্ত্র মূল্যায়ন বিষয়ক জরিপের তথ্য উপস্থাপন এবং সংলাপ পরিচালনা করা হয়।
সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ও বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মধ্যে বোঝাপড়ার সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমাজের সবার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে ঐকমত্য সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আলো স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে সংগঠিত ১০ টি যুব সংগঠন ও কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় ০৩ টি যুব সংগঠন যৌথভাবে কুষ্টিয়ায় তরুণদের একটি প্ল্যাটফর্ম “কুষ্টিয়া যুব নেটওয়ার্ক” তৈরী করে। কুষ্টিয়া ইয়ুথ নেটওয়ার্কের তরুণদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উদযাপন করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে “শান্তির জন্য জলবায়ূ উদ্যোগ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জলবায়ূর পরিবর্তন কীভাবে বিশ^শান্তি ও স্থিতিশীলতার সাথে সম্পর্কিত এবং যুব জনগোষ্ঠী কীভাবে জলবায়ূর ক্ষতিকর পরিবর্তন পরিবর্তন রোধে সচেতনতা সৃষ্টি, জলবায়ূবান্ধব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে, সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এক্টিভিস্তা কুষ্টিয়ার সদস্যদের নেতৃত্বে, একশন এইড এর সহযোগিতায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, ভেড়ামারা উপজেলা ও মিরপুর উপজেলার মোট ৯৩ টি অসহায় পরিবারের মাঝে খাবার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তরুণদের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবার পরিসর বাড়ানোর জন্য তারুণ্যের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবা ভিত্তিক অনলাইন প্লাটফরম “মানবতার সৈনিক” এবং “মানবিক সহায়তা তহবিল” গঠন এবং কুষ্টিয়া ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ও এক্টিভিস্তা কুষ্টিয়ার সদস্যদের উদ্যোগে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় ফান্ড সংগ্রহ এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ও ঈদ উপলক্ষ্যে ৪০ টি দুঃস্থ পরিবারের মাঝে পোলাও চাল ও মাংসসহ ঈদ বাজার বিতরণ করা হয়।
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সর্বস্তরের মানুুষের জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ টি যুব সংগঠনের তরুণ এক্টিভিস্তা সদস্যরা কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা পৌরসভা এবং মিরপুর উপজেলার মিরপুর পৌরসভা, চিথলিয়া, ছাতিয়ান, ধুবইল এবং ফুলবাড়িয়া ইউপি’র বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে জীবানুনাশক স্প্রে, ওয়াশিং পয়েন্ট ও সচেতনতা বার্তাসহ ফেস্টুন স্থাপন, স্থানীয় বাজারগুলোতে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে গোল বৃত্ত অংকনসহ নানামূখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
তরুণদের নেতৃত্বে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক অনলাইন ভিত্তিক প্রচারাভিযান পরিচালনা চলমান রাখার জন্য অনলাইন ক্যাম্পেইন ডিজাইন বিষয়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে “অনলাইন ক্যাম্পেইন বিষয়ক কর্মশালা” আয়োজন করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতে বর্তমান স্থানীয় চিত্র অনুসন্ধানে কুষ্টিয়া জেলার ৬ টি উপজেলার মানুষের মাঝে অনলাইন জরিপ পরিচালনা করা হয় এবং উক্ত জরিপের খসড়া তথ্য ও সুপারিশসমূহ নিয়ে উপজেলা প্রসাশন ও ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সাংবাদিক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ৮ টি যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে “কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং আমাদের করণীয় শীর্ষক ২ টি আলোচনা সভা করা হয়। এতে উপজেলা প্রসাশন ও ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তরুণদের উদ্যোগকে সাদুবাদ জানান এবং কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বাত্নক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন জোরদার করার ব্যাপারে তরুণদের নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।
অত্র প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তারুণ্যের নেতৃত্বে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন অব্যহত থাকবে।

দেশসেরা শিল্প গ্রুপ ‘বিআরবি’ নিয়ে একটি মহলের মিথ্যাচার

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের সেরা ও বিশ্বের অন্যতম বৈদ্যুতিক তার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে স্যোসাল মিডিয়ায় অপ্রচার চালাচ্ছে একটি স্বার্থনেসী মহল। অভিযোগ উঠেছে সুবিধা না পেয়ে সস্পূর্ন কাল্পানিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে মহলটি। বিআরবিকে নিয়ে মিথ্যাচারের আগে তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে হবে আগে।
আগে জেনে নেওয়া যাক বিআরবি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত।
কুষ্টিয়ার বিসিকি শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠিত স্বনামধণ্য এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি গুনগত আর মানসম্মত পণ্য তৈরী ও বাজারজাতকরনের মাধ্যমে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
গুনগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিআরবি কোম্পানী দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করেছে। এই কোম্পানীর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি., এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লি. ও বিআরবি পলিমার লি. এর মত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাইরে সিকিউরিটিজ, এয়ারসার্ভিস, স্বাস্থ্যসেবা, কিয়াম ছিরাতুন নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, শিক্ষা ও মানবসেবাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিআরবি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। আর এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান দেশ বরেণ্য শিল্পপতি বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ মজিবর রহমান। রপ্তানীখাতে বিশেষ অবদান রাখায় তিনি বেশ কয়েকবার সিআইপি নির্বাচিত হন। শিল্পপদক ও জাতীয় রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কয়েকবার জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করেন। সব মিলিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের গৌরব বয়ে আনার অন্যতম দাবিদার বিআরবি গ্রুপের স্বপ্নদ্রষ্টা মো. মজিবর রহমান নিজকে উৎসর্গ করেছেন কাজের পেছনে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা রয়েছে তার। কঠিন অধ্যাবসায় ও সততার সাথে কোন চেষ্টা করলে তার ফলাফল অবশ্যই ভাল হয়, এর বাস্তব প্রমান তিনি।
১৯৭৮ সালের ২৩ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমানের হাত ধরে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্টিজ লিমিটেড প্রতিষ্টা লাভ করে। প্রতিষ্ঠা থেকে পণ্যের গুনগত মান বজায় রাখার কারণে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ^জুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশ্বের আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও পণ্যের গুনগত মান নিয়ন্ত্রণের ফলে বিআরবি কেবলস্ ইন্ডাস্ট্রিজের বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারেও রফতানি হচ্ছে।
এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কুষ্টিয়াতে বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যানের সহধর্মিনীর নামে ১৬তলা ভবনবিশিষ্ট সেলিমা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখানে দরিদ্র থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির রোগিদের স্বাস্থ্যসেবা থাকবে। দেশের অত্যাধুনিক ও সর্বশ্রেষ্ঠ হাসপাতাল হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ঢাকায় বিআরবি হসপিটালস লি. নামে বিআরবি’র আরেকটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল চালু হয়েছে। বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বিআরবি’র ব্যবস্থাপন্ াপরিচালক মো. পারভেজ রহমান, কনিষ্ঠপুত্র এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুর রহমান ও একমাত্র জামাতা কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজবার রহমান তার সাথে হাতে হাত ধরে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
পণ্য উৎপাদন ও গুনগত মান রক্ষার জন্য আইএসও সনদ লাভসহ বিশ্বের প্রায় ২শ’টি দেশের তিন হাজার কেবলস্ কোম্পানীর মধ্যে নির্বাচিত ৫০টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানী মধ্য থেকে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং-এ কুষ্টিয়ার বিআরবি কেবলস্ ইন্ডাস্ট্রিজ ৩৩তম স্থান ও দেশের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জলসহ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ বিআরবি কেবলস্ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারনে কুষ্টিয়ার মানুষ গর্বিত।
বিআরবি গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্ণধার দেশবরেন্য শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমান যখন এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিক সেই সময় একটি স্বার্থনেসী মহল স্যোসাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্বনামধন্য এই শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে ব্যর্থ হয়ে জৈনক ব্যক্তি সর্বপ্রথম ফেসবুকে ২ লাইনের একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর নাম সর্বস্ব কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় ভূয়া মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, একটি সংবাদ প্রকাশের যে সকল শর্ত থাকে তা প্রকাশিত ওই সংবাদে নেই। ভুক্তভোগী কারা তারা কি অভিযোগ করছে তা সুনির্দিষ্ট নয়।
মজার বিষয় হলো জৈনক ব্যক্তি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর পূনরায় আরেকটি স্ট্যাটাস দেন এবং সেখানে বলেন তিনি বিআরবি ইট ভাটা নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে এই স্ট্যাটাস প্রদান করেন। আদৌ কুষ্টিয়া জেলায় বিআরবি ইটভাটা নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই বলে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সচেতন মহল মনে করে, সুবিধা না পেয়ে, হুজুকে পড়ে বা ঈর্ষানি¦ত হয়ে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার করছে একটি পক্ষ। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় উক্ত খবরটি ব্যক্তি স¦ার্থ চরিতার্থে সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসুত। যে খবরে দেশের প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আজ মহামারীতে লকডাউন এবং অচলাবস্থার কারণে বহুমাত্রিক সংকটে বাংলাদেশের শিল্প-বানিজ্য ও অর্থনীতি। বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্প কলকারখানা আজ ধ্বংসের মুখে। লকডাউনের কারনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ তাই কারখানায় উৎপাদন নেই। বৈশ্বিক বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে অচলাবস্থা চলছে। অতীব সত্য, বিগত চার দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিবাচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ধ্বংসের ধাক্কা লেগেছে করোনা মহামারীর কারনে।

আর এসব টানা-পোড়েনের মধ্যেও অনন্য নজীর স্থাপন করেছে কুষ্টিয়ার বিআরবি গ্রুপ। জানা গেছে, বি আর বি গ্রুপ তাদের অঙ্গ সহযোগী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি প্রদান করেছে। তাদের কর্মকান্ড বন্ধ রেখেও সকল পর্যায়ের শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শতভাগ বেতন পরিশোধ করেছে। লকডাউন বা সাধারণ ছুটির মধ্যেও প্রায় তিন মাসে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তাছাড়াও পরিশোধ করেছে শতভাগ ঈদ বোনাসও। শুধু তাই নয়- সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে নিরাপত্তার স¦ার্থে কিছু নিরাপত্তা কর্মী, জরুরী দাপ্তরিক কাজে কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কিছু শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ডিউটি করেন। পরিবর্তে নিয়মিত বেতন ভাতাদি পরিশোধ ছাড়াও অতিরিক্ত কাজের জন্য তাদেরকে মাসিক বেতনের সমপরিমান হারে অতিরিক্ত কাজের মজুরী পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি ।
এতে করে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট বেতন-ভাতাদি বাবদ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা এবং ঈদ বোনাস পরিশোধের পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত প্রায় কোটি টাকা প্রদান করেছে অতিরিক্ত কাজের মজুরী হিসাবে। প্রণোদনার বিষয়ে বলতে হয়, যদি প্রতিষ্ঠানটি সরকার কর্তৃক প্রণোদনা পেত তাহলে অবশ্যই তা প্রদান করতো। উল্লেখ্য, এই করোনার কারণে দুঃখী ও আর্তমানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠানটি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ তহবিলেও সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।
বলাবাহুল্য, বিআরবি গ্রুপ সরকার ঘোষিত যে সাধারণ ছুটি (উক্ত সাধারণ ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসবছুটি সহ বিভিন্ন ছুটি পড়েছে) তাদের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাকে প্রদান করেছেন তা কিন্তু কোন দায়বদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা থেকে নয় – কেননা শিল্প কারখানার জন্য এ ছুটি প্রযোজ্য ছিল না। কেননা কারখানা আইন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই লোকাল প্রশাসন থেকেও বি আর বি কর্তৃপক্ষকে কারখানা খোলার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু বি আর বি কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি স¦ীকার করেও মানবতার দায়বদ্ধতা থেকে উক্ত সাধারণ ছুটি প্রদান করেছেন।
একটা উদাহরণ আছে যে, চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী, তাই এত কিছুর পরও কিছু মানুষ বুঝে-শুনে ও অন্যের প্ররোচনায় পড়ে কুৎসা রটনা করছেন যে, ‘করোনা’র কারণে বিআরবি’র চারশত জনের চাকুরী যাচ্ছে’। আমরা কুষ্টিয়াবাসী সকলেই জানি বা খুব কাছ থেকে দেখছি – বিআরবি গ্র“প একটি বৃহৎ শিল্প সাম্রাজ্য। আজ বিসিক শিল্প নগরী সর্বদা মানুষের কোলাহলে মুখরিত তা শুধু বি আর বি গ্র“পের শিল্প প্রতিষ্ঠান সমুহের কারণেই। এখানে হাজার হাজার মানুষ চাকুরী করে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাহিরের জেলা থেকে কেহ কুষ্টিয়ায় এসে যদি বি আর বি না দেখে যায় তার যেন কুষ্টিয়া ভ্রমনই ব্যর্থ। তাই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষা সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসাবে বিআরবি কে বেছে নেয়। এটা কুষ্টিয়াবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
একটি শিল্প সাম্রাজ্য চালাতে গেলে যেমন থাকবে শিল্পের উন্নয়নে শ্রমিকদের প্রতি ভালবাসার ছোঁয়া, তেমনি প্রশাসনিক ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে থাকবে আইনের শাসন। তবেই না কোন প্রতিষ্ঠান উঠতে পারে উন্নতির চরম শিখরে। তাই কেউ অনিয়ম, চুরি, অসদাচরণ করলে প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে এটাই স্বাভাবিক।
বিআরবি গ্রুপ মনে করে সম্পূর্ন শক্রতামূলক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ জাতীয় মিথ্যা তথ্য ú্রচার করায় বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন সহ সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিক মহলে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যা কোম্পানীর ব্যবসায়িক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের সামিল। তথ্য প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সম্মানিত পাঠককুল এবারে নিশ্চয় স্পষ্ট হয়েছে যে, বি আর বি তে করোনার প্রভাবে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই হয়েছে এমন বক্তব্য নিছক মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, ২৮ জন শ্রমিককে তাদের কর্তব্যে অবহেলা, গাফিলতি, ইচ্ছেমাফিক চলা, অননুমোদিত ভাবে অনুপস্থিত থাকা ইত্যাদি কারণে চাকুরী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে -তা করোনা প্রাদুর্ভারে অনেক আগে। আর এর পিছনে অবশ্যই যৌক্তিক কারণে রয়েছে। একটি উৎপাদনমুখি শিল্প প্রতিষ্ঠানে যদি শ্রমিকদের কো¤পানীর কাজের প্রতি দরদ না থাকে, মনোযোগী না হয়, ইচ্ছেকৃতভাবে উৎপাদন ব্যাহত করে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নসাধন করা খুবই কষ্টকর। আর এ সমস্ত শ্রমিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং অন্যদেরকে প্রভাবিত করে। শোনা যায় উক্ত কর্মীগনকে ওভার টাইম করার জন্য কো¤পানী বলে। হ্যাঁ এরকম হয়েই থাকে – আর বি আর বি কর্তৃপক্ষ সঠিক নিয়মেই ওভার টাইমের পয়সাও পরিশোধ করে থাকে। এরপরও যদি কেহ অসদাচরণ করে, কাজে গাফিলতি করে তাহলে তো প্রতিষ্ঠানের স¦ার্থে অনেক সময় কিছু সিদ্ধান্ত নিতেই হয় – যা অপ্রিয় সত্য। জানা গেছে, তারপরও তাদেরকে পুনরায় নিয়োগ দেয়া যায় কি না সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা প্রতিষ্ঠানের ছিল এবং তাদের সাথে কথা বলাও হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিষয়টি পিছিয়ে যায়। ইত্যবসরে উক্ত শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিকই তাদের পুনঃনিয়োগের বিষয়টি ভুলে গিয়ে কিছু অসাধু চক্রের মাধ্যমে কো¤পানী স¤পর্কে নানা কুৎসা রটনা করে কো¤পানীর ভাব-মুর্তি ক্ষুন্ন করেছে।
আর চারশত জনের চাকুরী যাচ্ছে বা যাবে, তারা বেতন পায় নাই এরকম কথা সত্যিই হাস্যকর। গ্র“পের প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা বেতন পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাদের লোকজন রয়েছে, কেউ যদি না পেয়ে থাকে, কোন ভুল হয়ে থাকে তাই সেটি এত ফলাও করে তুলে ধরার কিছু নেই। বি আর বি কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটির নোটিশ সমুহে এই মর্মে ঘোষনা দেয় যে, শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাগণ যেন ছুটিকালীন সময়ে ঘরেই থাকেন, এই সময়ে বাইরের কাউকে যেন নিজ বাড়ীতে প্রবেশের অনুমতি না দেন, সরকারি স¦াস্থ্য বিধি মেনে চলেন ইত্যাদি – আর এটা দোষনীয় কিছু নয় বরং সচেতনতা। আর সরকারও এরকমই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অথচ তারপরও কিছু কর্মচারী কর্মকর্তা নিয়ম না মেনে স্থান ত্যাগ করেছেন সেকারণে তাদের হয়তো ঐ সময়ের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। আর এটা প্রশাসনিক ভীত ঠিক রাখতেই করতে হয়েছে। কিন্তু এটিকেই অনেকে সমালোচনায় নিয়েছেন যা অনভিপ্রেত।
যখন করোনা আর লকডাউনে বহুমাত্রিক সংকটে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য, যখন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীখাতে, বিদেশের মাটিতে একের পর এক ছাঁটাই হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিক, সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তা তখন দেশের খ্যাতনামা একটি প্রতিষ্ঠান বি আর বি গ্র“প যারা কিনা দেশের সংকটপূর্ণ মুহুর্তেও শতভাগ বেতন-বোনাস পরিশোধ করে চলেছেন, অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে সকল শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়ে নতুন উদ্যোমে কাজে মনোনিবেশ করেছেন, তখন এরকম একটি মুখরোচক গুজব রটনা কতটুকু যৌক্তিক তা পাঠক মহলের আর হয়তো বুঝতে বাকী থাকে না।
তবে সচেতন কুষ্টিয়াবাসী মনে করে এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। কারন একটি প্রতিষ্ঠানকে তিলে তিলে যিনি গড়ে তুলেন তিনিই জানেন কি পরিমান ত্যাগ স্বীকার করলে একটি প্রতিষ্ঠানকে দাড় করানো সম্ভব হয়। যে প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের জেলার মানুষের কাছে আর্শিবাদ হয়েছে সেখানে গুটিকয়েক ধান্দাবাজ সুবিধা না পেয়ে যা ইচ্ছ তাই প্রচার করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই অপপ্রচার যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ ভবিষতে যাতে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড না করার সাহস সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

অগ্রযাত্রায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন

অগ্রযাত্রায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া এর উপদেষ্টা কমিটি ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে রয়েছেন, দৌলতপুরের কৃত্বি সন্তান, বি আর পাওয়ার জেনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক, বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রকৌশলী মোঃ রোকনুজ্জামান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক বুলবুল আহমেদ বকুল, ডঃ ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, দৌলতপুরের কৃত্বি সন্তান ও সমাজসেবক মোঃ এনামুল হক ( ইতালি প্রবাসী)।

এছাড়াও ১ জন আহবায়ক, ২ জন যুগ্ম আহবায়ক এবং ৩৩ জন্য সদস্য নিয়ে ফাউন্ডেশনটির কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে আছেন দৌলতপুরের কৃত্বি সন্তান বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক, ডেসকোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাকীল খান।

যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে আছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও সমাজকর্মী রেজভী হাসান মাহমুদ হিরন, দৌলতপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক তানজিন হাসান শাহিন।

কার্যনিবাহী সদস্য হিসেবে আছেন পি.এম ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক পলাশ মাহমুদ , বাগোয়ান গালর্স কলেজের প্রভাষক রাকিবুল করিম রিংকু, কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের প্রভাষক মোঃ স্বপন আলী, যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মাহাতাব উদ্দিন লালন,ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী মোঃ রোকনুজ্জামান স্বপন, জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ শাহিনুর রহমান, কৃষি ব্যাংকের অফিসার মোঃ নাজমুল আহসান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী শাহজাহান আলী খোকন, ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী মোঃ সাবিবুর রহমান সান্টু, সমাজকর্মী মাসুদ পারভেজ,বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিঃ মোঃ আব্দুর রহমান রানা, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের এনভায়রনমেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান,ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী শাহরিয়ার আহমেদ পাপ্পু, মানবিক ঢাকা সোসাইটি দৌলতপুর এর ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোঃ হেলাল উদ্দিন, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী মোঃ হেলাল উদ্দিন (হোগলবাড়িয়া), দ্যা বিডি রিপোর্ট ২৪.কম এর সম্পাদক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মোঃ এনামুল হক রাসেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী আদনান জুয়েল, সমাজকর্মী ছাবিকুন নাহার শাম্মি, ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী মোঃ কামাল হোসেন, প্রাগপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকর্মী মোঃ হিমেল মন্ডল, ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী জ্যোতি ইসলাম,পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজকর্মী মোঃ বিল্লাল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মুন্না,
সমাজকর্মী মোঃ জাকির হোসেন রাজু, এস এফ এ এর ফাউন্ডার ও ডাইরেক্টর আকাশ বিশ্বাস, সমাজকর্মী মোঃ ফিরোজ খান, সমাজকর্মী নাহারুল ইসলাম, সমাজকর্মী তৌফিক আলী,
সমাজকর্মী কে.এম.ময়নুল ইসলাম, সমাজকর্মী এস.এইচ.রিপন, সমাজকর্মী মোঃ আবির আহমেদ
,সমাজকর্মী গোলাম মওলা রনি
, বিডি ক্লিনের সদস্য ও সমাজকর্মী মোঃ মাহাবুল আলম তামিম,সমাজকর্মী মোঃ হামিম রেজা।

বর্তমানে অগ্রযাত্রায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু করেছে। প্রকল্পের আওতায় দৌলতপুর ইউনিয়নে ৯০ বছরের বৃদ্ধা সহায় সম্বলহীন আতরজানের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে একটি সেমিপাকা বাড়ী নির্মানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগকালীন ইমাম মুয়াজ্জিন সহায়তা কমিটির ব্যানারে ঈদের আগে ২৫০ জন অস্বচ্ছল ইমাম মুয়াজ্জিন এর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌছে দিয়েছে। অগ্রযাত্রায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক সংগঠন। দৌলতপুর অবহেলিত অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে এমন কিছু বিষয় সামনে এনে কাজ করবে যেমন বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা ভাতা কার্ড, ক্যারিয়ার ক্লাব,বেকারত্ব দূরীকরন, মাদক বিরোধী গণসচেতনতা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ভাতাসহ সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করবে সংগঠনটি।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা” প্লাজমা বিজ্ঞানী ড.এ এ মামুন

১.সমুদ্রের তীরে বসে দীর্ঘ সময় রাতের খোলা নীল আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে ঘাড় ব্যথা করে ফেলেছি, কিন্তু কোন রমণীর সুন্দর মুখ তো অনেক দূরের কথা, কোন রমণীর কায়াটুকুও খুঁজে পাইনি, একই ভাবে বৃক্ষরাজির পাশে বসে বহুবার রাতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি, কোনো এলোকেশী নারীর এলোকেশ তো অনেক দূরের কথা, উড়ে আসা ধান গাছের কোনো শুকনো খড়ও দেখতে পাইনি, কারণ প্রাকৃতিক অপার সুন্দর্য্যের উপর গবেষণা করার আগ্রহ বা দক্ষতা কোনোটাই আমার মধ্যে জন্মাতে পারিনি। তাই আমি চাঁদকে চাঁদই দেখি, আর গাছকে গাছই দেখি। আমার এ ব্যর্থতার উপমা দেয়ার একটিই কারণ, সেটি হলো প্রকৃতি ও প্রকৃতির কথা, জীবন ও জীবনের কথা, মানুষ ও মানুষের কথা, সমাজ ও সমাজের কথা, ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ের উপর যিনিই গবেষণা করুন না কেন, তিনিই গবেষক, তিনিই সত্য ও সুন্দরের সাধক। বিজ্ঞান ভিত্তিকই হোক বা শিল্পকলা ভিত্তিকই হোক, আজ যে গবেষণালব্ধ তথ্য সঠিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে, কালকে যে সেটি ভূল বলে প্রমাণিত হবে না, সেটা কেউই বলতে পারে না। গবেষণার ফল যাই হোক না কেন, সত্যিকারের গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে এবং সেই সঙ্গে সময় উপযোগী জ্ঞান দান করে। এই শানিত মস্তিস্ক আর সময় উপযোগী জ্ঞান দ্বারা যিনি শিক্ষার্থীকে পাঠ দান করেন তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে। এ জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণা মূলক প্রবন্ধদের সংখ্যা শর্ত হিসেবে বিবেচণা করা হয়, কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতিতে তা করা হয় না, এটাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা অন্যতম পার্থক্য। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বা গবেষণার কোনো পরিবেশ নেই, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কিনা – এ প্রশ্ন আমার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষতেও থাকবে যে পর্যন্ত না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন। বিজ্ঞান ভিত্তিকই হোক বা শিল্পকলা ভিত্তিকই হোক, আজ যে গবেষণালব্ধ তথ্য সঠিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে, কালকে যে সেটি ভূল বলে প্রমাণিত হবে না, সেটা কেউই বলতে পারে না। গবেষণার ফল যাই হোক না কেন, সত্যিকারের গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে এবং সেই সঙ্গে সময় উপযোগী জ্ঞান দান করে। এই শানিত মস্তিস্ক আর সময় উপযোগী জ্ঞান দ্বারা যিনি শিক্ষার্থীকে পাঠ দান করেন তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে। এ জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণা মূলক প্রবন্ধদের সংখ্যা শর্ত হিসেবে বিবেচণা করা হয়, কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতিতে তা করা হয় না, এটাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা অন্যতম পার্থক্য। তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বা গবেষণার কোনো পরিবেশ নেই, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কিনা – এ প্রশ্ন আমার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষতেও থাকবে যে পর্যন্ত না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন। ২. অনেক বিশ্লেষক (যদিও আমার মতে শিক্ষকদের শিক্ষা দানের মানদন্ড নির্ণয়ে শিক্ষার্থীরাই বড় বিশ্লেষক) গবেষণা ও পাঠ দানের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চার ভাগে ভাগ করে থাকেন: ক) ভালো গবেষক এবং ভাল শিক্ষক; খ) ভালো গবেষক, কিন্তু ভাল শিক্ষক নন; গ) ভালো গবেষক নন, কিন্তু ভাল শিক্ষক; ঘ) ভাল গবেষকও নন, আবার ভাল শিক্ষকও নন। প্রথম ক্যাটেগরির শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটেগরির শিক্ষকদের নিয়ে আমার কিছুটা হলেও ভিন্ন মত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে চাই: ব্যাক্তি বিশেষে উপস্থাপনা ভিন্নতর হলেও, সত্যিকারের একজন ভাল গবেষক চাইলে ভাল শিক্ষক না হয়ে থাকতে পারে না, কারণ তাঁর রয়েছে শানিত মস্তিস্ক ও সময় উপযোগী জ্ঞান। ভাল শিক্ষক ও ভাল গবেষক, একে অপরের পরিপূরক। তাই, ভাল শিক্ষক অবশ্যই একজন ভাল গবেষক যদি না তিনি সময় উপযোগী জ্ঞান অর্জনে ক্লান্ত না হয়ে পরেন। চতুর্থ ক্যাটেগরির একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধুই একটা Burden। কীভাবে এবং কেন এই Burden কম-বেশি আমাদের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েই চলছে তার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই শুধু নয়, সকল সচেতন নাগরিকই অনুধাবন করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস। কর্মচারী/কর্মকর্তা নিয়োগে আমার মত অনেক শিক্ষকেরই তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে যখন মেধা ও গবেষণার (শানিত মস্তিষ্কের) তেমন কোনো স্থান দেয়া হয় না, তখন অধিকাংশ শিক্ষকই দারুণ ভাবে মর্মাহত হন, সেই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। কারণ এ ধরনের শিক্ষক নিয়োগে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানই কমায় না, সেই সঙ্গে আমাদের প্রিয় সন্তান তুল্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিযোগিতায় নামতে দারুন ভাবে নিরুৎসাহিত করে। আমাদের একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না যে শিক্ষার্থীদের জন্যেই শিক্ষক, শিক্ষকদের জন্যে শিক্ষার্থী নয়। এ অনুধাবন থেকেই ২০১২ সনে আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সম্মানিত শিক্ষক ও সহকর্মীগন আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন এবং সেই সঙ্গে তৎকালীন শিক্ষক-নির্বাচিনী বোর্ডের সভাপতি অর্থাৎ তৎকালীন উপাচার্যকে (অত্যন্ত দূরদর্শী ও উচ্চশিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর সহযোগিতায়) পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। এ অপ্রাসঙ্গিক কথাটি বলার উদ্দেশ্যে হলো চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক যে কয়েকটি স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে, তার একটি (ব্যাক্তিগত স্বার্থ) পূরণ হলেও বাকি কোনোটাই পূরণ হয় না বলে অন্তত আমি মনে করি। জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষা/গবেষণার মান রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের কোনো বিকল্প নেই, আর তার জন্যে আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যামে

Advertisment ad adsense adlogger